রুপসা টিএসবি ইউপি নির্বাচনে কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি?

0
30

মফিজুল ইসলাম:
আগামী ১১ই নভেম্বর ২য় ধাপের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন গুলোতে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনের হাওয়া। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলে চলছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে বিশ্লেষণ। ইতোমধ্যেই অনেকেই প্রচার প্রচারনা শুরু করে দিয়েছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে কুশল বিনিময় করছেন অনেকেই। প্রচার প্রচারনায় পিছিয়ে নেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোও। দলীয় সমর্থন পেতে দলীয় মনোনয়ন পেতে প্রার্থীর পক্ষ থেকে চলছে নান রকম তদবির, রাজনৈতিক কার্যালয় গুলোও সরগরম হয়ে উঠেছে। এর ব্যত্যয় ঘটেনি খুলনা জেলার রুপসা উপজেলার ৪নং টিএসবি ইউনিয়নে।

নৌকার মনোনয়ন পাওয়ার জন্য ইতোমধ্যে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের কাছে দলীয় মনোনয়নের প্রত্যাশায় আটজন জীবন বৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন।

এরা হলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মো: জাহাঙ্গীর শেখ, রুপসা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক চঞ্চল মিত্র, রুপসা উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মোরশেদ আলম বাবু, সহ-সভাপতি শাহজাহান কবির প্যারিস, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মো: আলী জিন্নাহ, সদস্য জমির শেখ, সোহেল জুনায়েদ, বুদ্ধ দেব হালদার।

টিএসবি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক বিনয় কৃষœ হালদার জানান, মোট আট জনের আবেদন জমা পড়েছে। জমাকৃত আবেদন গুলো আমরা নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের কাছে পাঠাব।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন কর্মকান্ডের জন্য বিতর্কিত, এমন কি! পিস কমিটির সদস্যের সন্তানও আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশায় আবেদন জমা দিয়েছেন। আসন্ন নির্বাচকে সামনে রেখে আগে থেকেই অনেকে মাঠে ছিলেন। করোনাকালীন সময়ে ইউনিয়নবাসীকে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করেছেন। আবার কেউবা চুপিচুপি দলের হাইকমান্ডে যোগাযোগ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন।

দলীয় মনোয়নের বিষয়ে জানতে চাইলে বর্তমান চেয়ারম্যান ও টিএসবি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর শেখ বলেন, গতবার প্রধানমন্ত্রী আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন আমি জয়লাভ করেছি এবারও আশাকরি আমি মনোনয়ন পাব। বিতর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন নির্বাচন সামনে এজন্য আমি যেনো মনোনয়ন না পায় সেজন্য একদল আমার বিরুদ্ধে নানা রকমের কুৎসা রটনা করছে।

মনোয়নের বিষয়ে রুপসা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক চঞ্চল মিত্র বলেন, দলের দুর্দিনে আমি রাজপথে থেকে রাজনীতি করেছি। বিএনপি জামায়াতের আমলে ঘর ছাড়া ছিলাম বাড়িতে ঢুকতে পারতাম না। তবুও কখনো রাজপথ ছাড়িনি। এজন্য আমি চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে মনোয়নয় পাবো বলে আশাবাদী। তিনি আরও বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সোনার বাংলার যে সপ্ন ছিল। সেই সপ্ন বাস্তবায়নে মাননীয় প্রাধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি যে গ্রামকে শহর করার ঘোষনা দিয়েছেন সেই কাজকে টিএসবি ইউনিয়নে বাস্তবায়ন করতে চায়। এছাড়াও ইউনিয়ন বাসীর জন্য শিল্পনগরী গড়তে চান।

মনোয়নের বিষয়ে রুপসা উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য জমির শেখ বলেন, ১৯৮৯ সাল থেকে আমি ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসাবে এই দলে এসেছি। কখনো কোনো পদ নিয়ে আমার মাথা ব্যাথা ছিলনা আমি সব সময় কর্মী হিসাবে কাজ করেছি। বর্তমানে আমি উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য পদ পেয়েছি। আমি এই দলকে ভালবাসি আর তাই এই দল করি। মানুষের জন্য কিছু করতে চায় তাই দলীয় মনোনয়ন চেয়েছি আশাকরি দল আমাকে মনোনয়ন দিবে।

চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে আছেন রুপসা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক চঞ্চল মিত্র। এমটিই দাবি করছেন তার কর্মী ও সমর্থকেরা। ইউনিয়নের একাধিক ব্যাক্তি জানিয়েছেন, জনপ্রতিনিধি না হয়েও অতিতে যেকোনো সমস্যায় চঞ্চল মিত্র তাদের পাশে ছিলেন। তার কাছ থেকে কেউ খালি হাতে ফেরেনি। এমন লোক চেয়ারম্যান হলে আমারা সরকারের সব সুযোগ সুবিধা সঠিক ভাবে পাব। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চঞ্চল মিত্রকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান তারা।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here