রায়হান হত্যা মামলার চার্জশিট দ্রুততম সময়ে: হাইকোর্টকে রাষ্ট্রপক্ষ

0
175

টাইমস ডেস্ক:
সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশ হেফাজতে রায়হান আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার তদন্ত দুই সপ্তাহের মধ্যে শেষ হচ্ছে বলে হাইকোর্টকে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ রাসেল চৌধুরী। গতকাল সোমবার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা আমাকে জানিয়েছেন দুই সপ্তাহের মধ্যে চার্জশিট দেবেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তারা চার্জশিট দিয়ে দেবেন। এরপর হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ বিষয়ে করা রিট আবেদন ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন রিটকারী আইনজীবী সৈয়দ ফজলে এলাহী। এর আগে এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত এবং ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট করেন আইনজীবী সৈয়দ ফজলে এলাহী। এছাড়াও নিরপেক্ষ তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে আরেকটি রিট করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ। সেটি অন্য বেঞ্চে বিচারাধীন। ওই রিটে পক্ষভুক্ত হতে গত রোববার আবেদন করেছেন রায়হানের মা সালমা বেগম। সিলেট নগরীর আখালিয়ার নেহারিপাড়ার রফিকুল ইসলামের ছেলে রায়হান। তার তিন মাস বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। নগরীর রিকাবিবাজার স্টেডিয়াম মার্কেটে এক চিকিৎসকের চেম্বারে কাজ করতেন তিনি। গত ১১ অক্টোবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে গুরুতর আহত হন রায়হান। তাকে ওইদিন সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে গুরুতর আহত অবস্থায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন বন্দরবাজার ফাঁড়ির এএসআই আশেকে এলাহীসহ পুলিশ সদসরা। সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান রায়হান। ঘটনার পর পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, নগরের কাস্টঘরে গণপিটুনিতে রায়হান নিহত হন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে প্রাণ হারান রায়হান। এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে সিলেট মহানগর পুলিশের তদন্ত কমিটি ঘটনার সত্যতা পেয়ে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবরসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করেন। মামলাটি পুলিশ সদরদফতরের নির্দেশে পিবিআইয়ের তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পরে লাশ কবর থেকে তুলে পুনঃময়নাতদন্ত করা হয়। রায়হানের দেহে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন মেলে ফরেনসিক রিপোর্টে। এরইমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এসআই আকবর পলাতক থাকলেও পুলিশ হেফাজতে থাকা কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকে ২০ অক্টোবর ও হারুনুর রশিদকে ২৪ অক্টোবর এবং ২৮ অক্টোবর এএসআই আশেকে এলাহী গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেয়া হয়। এ ছাড়া ২২ অক্টোবর এসএমপি কমিশনার গোলাম কিবরিয়াকে বদলি করা।