রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের টানা আন্দোলনেও বিজেএমসি নিরব!

0
1271

নিজস্ব প্রতিবেদক: বকেয়া মজুরী, বেতন প্রদান, জাতীয় মজুরী কমিশন বাস্তবায়নের দাবিতে খুলনা ও যশোর অঞ্চলের ৯টি পাটকলে শ্রমিকদের টানা আন্দোলনের মধ্যেও বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশন (বিজেএমসি) এর ভূমিকা নিরব। এর ফলে ক্রমেই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন আন্দোলনরত শ্রমিকরা।
শ্রমিক সূত্র জানায়, গত ৫ মে বেলা ৩টা থেকে খুলনা ও যশোর অঞ্চলের ৯টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল- খালিশপুর শিল্পাঞ্চলে ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, খালিশপুর ও দৌলতপুর জুট মিল, দিঘলিয়া উপজেলায় স্টার জুট মিল, আটরা শিল্প এলাকার আলীম ও ইস্টার্ন এবং যশোরের নওয়াপাড়ায় অবস্থিত যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রি (জেজেআই) ও কার্পেটিং জুট মিলে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ৭ মে থেকে শ্রমিকরা ৩ ঘন্টা করে রাজপথ-রেলপথ অবরোধ ও সড়কের উপর ইফতারি এবং নামাজ আদায় করছেন। বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগের ব্যানারে দেশের ২৬টি জুট মিলের শ্রমিকরা ঢাকায় বিজেএমসির কার্যালয়ে বৈঠক করেছে, সেখানে রাষ্ট্রায়ত্ত সব মিলে ১৩ মে থেকে এক যোগে আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। শ্রমিকদের দূর্বার এ অন্দোলন থামানোর কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি বিজেএমসি’র কর্মকর্তারা। খুলনাসহ দেশের প্রায় প্রত্যেক মিলে শ্রমিকদের ১১ থেকে ১২ সপ্তাহ মজুরী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৪ মাসের বেতন বকেয়া আছে। বিজেএমসি’র প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২৫ এপ্রিল মজুরী ও বেতন পরিশোধ করার কথা ছিল। সে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে বিজেএমসিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে চলতি রমজান মাসের শুরুতে বিল, বেতন না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে শ্রমিক-কর্মচারীরা।
গতকাল শুক্রবার শ্রমিক-কর্মচারীরা অবরোধ কর্মসূচি পালন করেনি। শুক্রবার বলে হয়তো তারা অবরোধ কর্মসূচির একদিন ছাড় দিয়েছে। আজ শনিবার মিলের উৎপাদন বন্ধ রেখে অবরোধ কর্মসূচি পালন করবে বলে জানালেন শ্রমিক নেতারা। তবে বিজেএমসির নিরব ভূমিকায় শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
টানা আন্দোলনে বিজেএমসি’র ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগের আহবায়ক সরদার মোতাহার উদ্দিন বলেন, শ্রমিকরা মজুরী না পেয়ে মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। চলমান আন্দোলন সমাধানের জন্য বিজেএমসি থেকে তাদের ডাকা হয়নি। শ্রমিকরা বিজেএমসির চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ বিজেএমসি বিলুপ্ত করার দাবি জানাচ্ছে।
আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিকলীগের খুলনা-যশোর অঞ্চলের আহবায়ক মোঃ মুরাদ হোসেন জানান, টানা ৫ দিন আন্দোলন করছে শ্রমিকরা। আন্দোলনের কথা বিজেএমসি’র কর্মকর্তরা জানেন, কিন্তু তারা কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। শ্রমিকরা আজ বিজেএমসির উপর ক্ষিপ্ত। তাদের ৯ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখবে বলে তিনি জানান।