রাশিয়া বিশ্বকাপে হট তারকা রোনালদো

0
857

স্পোর্টস ডেস্ক:

আসন্ন রাশিয়া বিশ্বকাপকে সামনে রেখে শীর্ষ ৫০ খেলোয়াড়ের একটি তালিকা প্রণয়ন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় পত্রিকা ইউএসএ টুডে। যে তালিকায় প্রথম স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগাল সুপার স্টার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তালিকাভুক্ত এসব খেলোয়াড় আসন্ন বিশ্বকাপে দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হবে বলেই মনে করে পত্রিকাটি।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, পর্তুগাল: পর্তুগালকে ইউরো ২০১৬ আসরের খেতাব এনে দেয়া এই ফুটবল তারকা আসন্ন রাশিয়া বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারেন। তার মধ্যে গোল করার যে আগ্রাসী প্রবণতা রয়েছে তাতে জ্বলে পুড়ে ছাই হতে পারে যে কোন প্রতিপক্ষ।

লিওনেল মেসি, আর্জেন্টিনা: যে কোন দলের রক্ষণ ভাগের জন্য ভয়ঙ্কর হুমকি হিসেবে আবির্ভুত হতে পারেন লিওনেল মেসি। তবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে এখনো বড় কোন শিরোপা অর্জন করতে পারেননি বার্সেলোনার এই ফুটবল তারকা।

মোহাম্মদ সালাহ, মিশর: মিশরীয় এই ফুটবল সেনসেশন ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ কাঁপাচ্ছেন লিভারপুলের হয়ে। জীবনী শক্তিতে ভরপুর এই ফুটবল তারকা এরই মধ্যে জিতে নিয়েছেন ইংলিশ ফুটবলের বেশ ক’টি ব্যক্তিগত পুরস্কার।

কেভিন ডি ব্রুইয়ান, বেলজিয়াম: একটি দলের জন্য তিনি হচ্ছেন সেরা সংগঠক ও সৃষ্টিশীল খেলোয়াড়। তার মত বিচক্ষণ খেলোয়াড় এই বিশ্বে বিরল।

নেইমার, ব্রাজিল: নেইমারকে নিয়ে মাতামাতির শেষ নেই বিশ্ব ফুটবল অঙ্গনে। বিশ্বের এই সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় ইনজুরিতে পড়েছেন গত ফেব্রুয়ারিতে। পায়ের গোঁড়ালিতে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপাচার শেষে তিনি এখন মাঠে ফের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

লুকা মড্রিচ, ক্রোয়েশিয়া: সম্প্রতি তিনি মেজর সকার লীগে (এমএলএস) যোগ দেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। আসন্ন বিশ্বকাপে আলো ছড়ানো খেলোয়াড়দের মধ্যে যে তিনি এগিয়ে থাকবেন সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।

টনি ক্রুস, জার্মানি: বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দলে তিনি হচ্ছেন হৃদস্পন্দন। ২৮ বছরে পার রাখলেও দিন দিন তিনি আরো ক্ষুরধার হচ্ছেন।

পাওলো দিবালা, আর্জেন্টিনা: দু’টি বড় মৌসুম শেষ করে আসা এই তারকাকে ঘিরেই আর্জেন্টিনার আগামী দিনের স্বপ্ন।

এনগলো কন্টে, ফ্রান্স: বর্তমানে তিনিই হচ্ছেন বিশ্বের সেরা রক্ষনাত্মক মিডফিল্ডার। ফ্রান্সের বিশ্বকাপ শিরোপা স্বপ্ন রচয়িতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম।

এ্যান্টনি গ্রিজম্যান, ফ্রান্স: খুবই ক্ষীপ্র এবং ভয়ঙ্কর ফিনিশার এই ফুটবল তারকা প্রতিটি মুহুর্তেই প্রমান করে চলেছেন নিজেকে। সর্বশেষ তার জোড়া গোলে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ লাভ করেছে ইউরোপা শিরোপা। ২০১৬ ইউরো আসরেও সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার লাভ করেছেন গ্রিজম্যান।

লুইস সুয়ারেজ, উরুগুয়ে: গত বিশ্বকাপে ইতালীয় এক খেলোয়াড়ের কানে কামড় দিয়ে আলোচিত হওয়া এই ফুটবল তারকা এখনো যে কোন দলের রক্ষণভাগের বিরুদ্ধে আতংক ছড়িয়ে যাচ্ছেন।

হ্যারি কেন, ইংল্যান্ড: টোটেনহ্যামের সঙ্গে অসাধারণ এক মৌসুম কাটানো এই ইংলিশ তারকা দারুন আত্মবিশ্বাসী ও দক্ষ এক গোলদাতা। তার কাঁধেই নির্ভর করেছে ইংল্যান্ডের আশা ভরসা।

কিলিয়ান এমবাপে, ফ্রান্স: বয়স এখনো ১৯, তারপরও ফুটবল ইতিহাসে দ্বিতীয় দামি খেলোয়াড়ের খাতায় নাম উঠেছে তার। ফ্রান্সের প্রত্যাশা আসন্ন বিশ্বকাপে অসাধারণ কিছু প্রদর্শন করতে সক্ষম হবেন এই টিন এইজ তারকা।

রবার্ট লিওয়ানদোস্কি, পোল্যান্ড: বুন্দেস লিগার এই সর্বোচ্চ গোলদাতা জাতীয় ফুটবল দলের হয়েও সাফল্য পেতে মুখিয়ে আছেন।
সার্জিও এগুয়েইরো, আর্জেন্টিনা: হাঁটুর ইনজুরির কারণে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই ফুটবলার মৌসুমের শেষভাগে বিশ্রামে চলে গিয়েছিলেন। তবে অতিরিক্ত বিশ্রাম আশীর্বাদ হয়েও আসতে পারে।

এডেন হ্যাজার্ড, বেলজিয়াম: আসন্ন গ্রীস্মকালীন দল বদলে হয়তো তিনি চেলসি ছাড়তে পারেন। তবে নিজের দক্ষতা দিয়ে হ্যাজার্ড বেলজিয়ামকে একটি ভাল অবস্থানে পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর।

আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, স্পেন: নিজের চমক লাগানো ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছেন এই স্প্যানিশ। সর্বশেষ ২০১০ সালে তার গোলেই বিশ্বকাপের শিরোপা জয় করেছির স্পেন।

মার্ক-আন্দ্রে টার স্টেগান, জার্মানি: ম্যানুয়েল নয়্যারের ইনজুরিতে বিকল্প হিসেবে জার্মান জাতীয় দলে স্থান পেলেও, যোগ্যতার দিক থেকে তিনি অনন্য।

সার্জিও রামোস, স্পেন: যে কোন ধরনের বিতর্কের উর্দ্ধে থেকে তিনি নিজেকে আপোসহীন করে রেখেছেন। আসন্ন বিশ্বকাপের পরেই অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন রামোস। তার অনুপস্থিতি দারুণভাবে অনুভব করবে স্পেন।

পল পগবা, ফ্রান্স: ২০১৪ বিশ্বকাপে সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়েছিলেন এই ফরাসি তারকা। এবারের আসরে বসের খেতাব পাওয়ার আকাংখা ব্যক্ত করেছেন পগবা।

ডেভিড ডি গিয়া, স্পেন: বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ গোলরক্ষকের একজন। ডিনি ২০১৪ সালে স্পেন দলের হয়ে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন।

মার্সেলো, ব্রাজিল: লেফট ব্যাকে খেলা এই তারকার মধ্যে রয়েছে অসাধারণ দক্ষতা। ব্রাজিলের দুধর্ষ আক্রমণভাগের পেছনে রক্ষণভাগের কর্তৃত্ব থাকবে তার উপর।

ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন, ডেনমার্ক: প্রতিভাধর ও নির্ভীক এই ফুটবলার ডেনমার্কের আশা ভরসার প্রতীক।

দ্রিস মার্টেনস, বেলজিয়াম: ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি দীর্ঘ ১৪০ পাউন্ড ওজনের জীবনী শক্তিতে ভরপুর এই ফুটবলার সুনিপুন পাসে খুবই দক্ষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

ফিলিপ কুটিনহো, ব্রাজিল: গত জানুয়ারিতে বার্সেলোনায় যোগ দেয়া এই তারকা হতাশ করেননি। বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে ব্রাজিলের হয়েও নিজের আভিজাত্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।

এডিনসন কাভানি, উরুগুয়ে: বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে দক্ষিণ আমেরিকান অঞ্চলে সর্বাধিক (১০) গোল করেছেন তিনি।

গ্যাব্রিয়ের জেসুস, ব্রাজিল: নেইমার ব্রাজিলের শ্রেষ্ঠ কেলোয়াড়ের আসনে বসলেও ওই জায়াগার জন্য অপেক্ষমান আছেন এই তারকা। যার অনুপস্থিতিতে পূর্ণতা পেত না বিশ্বকাপ ফুটবল।

ডেভিড সিলভা, স্পেন: নিজের ছেলে সন্তানের স্বাস্থ্যগত কারণে সমস্যার মধ্যে কাটানো সত্ত্বেও মাঠের লড়াইয়ে সব সময় সেরাটাই দিয়ে আসছেন তিনি।
টিমো ওয়ার্নার, জার্মানি: জার্মান রনাঙ্গনের কেতাদূরস্ত অগ্রনী সেনানী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন টিমো।

এমিল ফর্সবার্গ, সুইডেন: সম্প্রতি লিঙ্কের মাধ্যমে আর্সেনালে যোগ দেয়া ফর্সবার্গ ধারাবাহিকভাবে জার্মানিতে ভালো খেলে আসছেন।

ইসকো, স্পেন: রিয়াল মাদ্রিদ ও স্পেনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার।

ডেলে আলি, ইংল্যান্ড: এখনও উন্নতি করছেন এবং ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার হিসেবে গুরুদায়িত্ব বহন করছেন।

গঞ্জালো হিগুইন, আর্জেন্টিনা: গেল বিশ্বকাপের ফাইনালে হিগুইনের গোল বাতিল হবার পর জার্মানির কাছে শিরোপা হাতছাড়া করে আর্জেন্টিনা।

ইভান রাকিটিচ, ক্রোয়েশিয়া: বার্সেলোন ছাড়া রাকিটিচের ব্যাপারে অনেক বেশি উদ্বিগ্ন লিওনেল মেসি। ফলে তাকে না ছাড়ার ব্যাপারে ক্লাবের প্রধানকে অনুরোধও করেন মেসি। দলের সর্বোচ্চ প্রশংসায় ছিলেন তিনি।

থিবাত কর্টুইজ, বেলজিয়াম: সেরা মৌসুম ছিলো না তার। কিন্তু এখনও তরুন গোলরক্ষক হিসেবে অসাধারণ।

মেসুত ওজিল, জার্মানি: আর্সেনালের হয়ে ভালো মৌসুম কাটেনি, কিন্তু তারপরও জার্মানির গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় এবং খারাপ মৌসুমের পরও অনুপ্রাণিত।

জেরার্ড পিকে, স্পেন: প্রতিভাধর ও ডিফেন্সের তারকা খেলোয়াড় জেরার্ড পিকের এটিই চূড়ান্ত আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট হতে পারে।

সার্জিও বাসকুয়েটস, স্পেন: দলের সেরা খেলোয়াড়ই বলা হয় বাসকুয়েটসকে। সম্প্রতি অনেকগুলো ব্যক্তিগত অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ না করায় বিস্মিত হয়েছেন অনেকেই।

রাদামেল ফ্যালকাও, কলাম্বিয়া: কলাম্বিয়ার ফর্ম তার উপর নির্ভর করে থাকে। ইনজুরির কারণে ২০১৪ আসরে খেলতে পারেননি ফ্যালকাও।

হামেস রদ্রিগুয়েজ, কলাম্বিয়া: ক্লাব ও দেশের জন্য উথান-পতনের পরও এখনও সম্ভাব্য সেরা খেলোয়াড়।

কাইলর নাভাস, কোস্টারিকা : অন্তত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে স্মরন করিয়ে দিতে হবে না তার যোগ্যতার। এবারও কোস্টারিকা আপসেট ঘটালে আশ্চর্য হবার কিছু থাকবে না।

সাদিও মানে, সেনেগাল: মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে লিভারপুলের হয়ে চমৎকার খেলেছেন। তার অসাধারণ খেলা দর্শকদের যেমন বিনোদন দিয়েছে তেমনি সেনেগালকে করেছে সৃমদ্ধ।

রোমেলো লুকাকু, বেলজিয়াম: শক্তিশালী, তীব্র এবং টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আর্কষণীয় দলের সদস্য।
সন হিউং-মিন, দক্ষিণ কোরিয়া: এশিয়ার সেরা খেলোয়াড় এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সৃজনশীল শক্তি।
জোসুয়া কিমিচ, জার্মানি: জার্মানি ও বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে নিজে যেমন প্রতি বছর পরিপক্ক হয়েছেন তেমনি দলেরও প্রধান সদস্য হয়ে উঠেছেন।

বার্নাড সিলভা, পর্তুগাল: তার আসল কাজ দলের সেরা তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোকে গোলের সুযোগ তৈরি করে দেয়া। যা করাই তার কাছে সবচেয়ে ভালো লাগে।

মারিয়ো মানজুকিভিচ, ক্রোয়েশিয়া: জুভেন্টাসের হয়ে নিজের অবস্থান নিয়ে হতাশ থাকলেও, রাশিয়াতে অনেক বেশি মুক্ত থাকবেন।

ম্যাটস হুমেলস, জার্মানি: তাকে মোটাবুদ্ধির শক্তিশালী খেলোয়াড় মনে করলে ভুল হবে। তার মধ্যে যেমন সামর্থ্য রয়েছে তেমনি রয়েছে অসাধারণ দক্ষতা।

ইগর আকিনফিভ, রাশিয়া: যদি স্বাগতিকরা গভীরভাবে উন্নতি করতে চায় তাহলে তরুণ এই গোলরক্ষকের জন্য বড় টুর্নামেন্ট হতে হবে।
লেরয় সেন, জার্মানি: ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বল যোগান দেয়া খেলোয়াড় এবং একটি নতুন চেহারা। তবে হয়ে উঠতে পারেন জার্মান দলের বড় সম্পদে।