রামপালে বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশি

0
185

নিজস্ব প্রতিবেদক:
এক সময়ের অবহেলিত জনপদের নাম রামপাল। সময়ের পালাবদলের সাথে সাথে বদলে গেছে এখানকার দৃশ্যপট। ফল ফসলী কৃষি ও শিল্প বাণিজ্যের প্রসারে সমৃদ্ধ হয়েছে অত্র অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য। আমুল পরিবর্তনের ছোয়া লেগেছে সব ধরনের শ্রেণি পেশার মানুষের। আর এত কিছরু পেছনে যাদের অবদান অনস্বীকার্য তারা হলেন রামপাল-মোংলার বটবৃক্ষের মত অভিভাবক। সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক ও তার সহধর্মিনী বাংলাদেশ সরকারের বন জলবায়ু ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার এমপি।
আগামী ১১ এপ্রিল রামপাল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সারা দেশের মত রামপাল উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে শুরু হয়ে গেছে নির্বাচনী আমেজ। গ্রামের হাট বাজারে ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছেয়ে গেছে প্রার্থীদের প্যানা ফেষ্টুনে। প্রার্থীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন তাদের নির্বাচনী কাজে।
গৌরম্ভা ইউনিয়ন ঃ আলহাজ্ব মোঃ গিয়াস উদ্দিন গাজী তিনি বর্তমান গৌরম্ভা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। ছাত্রলীগ-যুবলীগ সহ আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে যুক্ত থেকে তার রাজনৈতিক অভিভাবক আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেকের নির্দেশে বিএনপি জামায়াত বিরোধী বহু আন্দোলনে সক্রীয় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৮৯ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি রাজনীতির পাশাপাশি শ্রীরম্ভা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার জন্য তিনি প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে পদত্যাগ করে নির্বাচনে অংশ নেন। নির্বাচনে জয়লাভ করে মাদক এবং সন্ত্রাসের স্বর্গরাজ্য জামায়াত বিএনপির ঘের জবর দখলের মত সব ধরনের অপকর্মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান এবং এলাকায় পুনরায় শান্তি স্থাপনে ভূমিকা রাখেন। সব ধরনের স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসায় দিয়েছেন অনুদান। সরকার প্রদত্ত বিভিন্ন ভাতা প্রদান করেছেন গরীব দুঃখী মানুষের মাঝে। ছোট বড় ১১৫টি সড়কের পাকাকরণসহ এলাকার ব্যাপক উন্নতি করেছেন বলে জানান। আগামীতে দলের মনোনয়ন পেয়ে বিজয়ী হতে পারলে তার কিছু বাকী কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি মডেল ইউনিয়ন গড়ার লক্ষ্যে এবং সংগঠনকে আরও বেগবান করতে সচেষ্ট থাকবেন বলেন জানান। জানা গেছে অত্র ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মরহুম শেখ সেলিম-এর জ্যেষ্ঠ পুত্র মোঃ রাজিব সরদার এবারের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হচ্ছেন।
উজলকুড় ইউনিয়ন ঃ উজলকুড় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান গাজী আখতারুজ্জামান। আসন্ন নির্বাচনে তিনি তার স্বীয় পদে প্রার্থী হচ্ছেন। তিনি দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী। যেহেতু দলের কঠিন সময়ে তিনি ছিলেন। সেহেতু দলের হাইকমান্ড তাকে মনোনয়ন দেবেন এমনটাই প্রত্যাশা করেন তিনি। ১৯৮৫ সালে রামপাল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালনসহ আওয়ামীলীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের দায়িত্ব সফলতার সাথে পালন করে আসছেন। তিনি নিজেকে দুঃসময়ের কান্ডারী দাবী করে বলেন, আওয়ামীলীগ সরকার বিরোধী দলে থাকার সময় তিনি ও তার নিবেদিত কর্মী বাহিনী বহু হয়রানীর স্বীকার হয়েছেন। তার অনেক কর্মী ছিলেন বছরের পর বছর বাড়ীছাড়া। সেই সময় বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও তার রাজনৈতিক অভিভাবক খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক ও তার সহধর্মীনী বেগম হাবিবুন নাহার এমপির নির্দেশে উজলকুড় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের হাল ধরেন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে তিনি আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন।
তিনি জানান, স্বাধীনতার পর থেকে উজলকুড় ইউনিয়ন জামায়াত বিএনপি ছাড়া আ’লীগের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়নি। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এলাকায় মাদক, সন্ত্রাস মুক্ত ইউনিয়ন গঠন করেন। তিনি মসজিদ, মাদ্রাসা ও মন্দিরসহ সবধনের প্রতিষ্ঠানে সরকারি অনুদান সুষ্ঠ ভাবে বন্টন করেন। এলজিএসপির অর্থায়নে ইউনিয়নের রাস্তা-ঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তিনি বলেন বয়স্কভাতা, বিধাব ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ গরীব-দুঃখী মানুষের সবধরনের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন। তিনি আবারও নির্বাচিত হলে তার অসমাপ্ত কাজগুলি সম্পন্ন করবেন বলে জানান।
হাওলাদার জুলফিকার আলী ভুট্টো ঃ একই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাওলাদার জুলফিকার আলী ভুট্টো দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। তিনি যদি নির্বাচিত হন তাহলে দলকে আরও সুসংগঠিত করার জন্য ইউনিয়নের সকল স্তরের নেতা-কর্মীদের সমন্বয়ে কাজ করবেন। তিনি আরও বলেন, যদি দলীয় মনোনয়ন না পান তাহলে তার রাজনৈতিক অভিভাবক খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক ও বন জলবায়ু ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার এমপি যে সিদ্ধান্ত নেবেন তা তিনি মেনে নেবেন।
কাজী আসাফুজ্জামান বাবুল ঃ উজলকুড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী কাজী আসাফুজ্জামান বাবুল । দল তাকে মনোনয়ন দেবেন এমনটাই প্রত্যাশা তার। তিনি জানান নির্বাচিত হতে পারলে মানুষের কাছে নাগরিক সেবা পৌছানোর জন্য ৯টি ওয়ার্ডে ৯জন প্রতিনিধি নিয়োগ করবেন। যাবতীয় নাগরিক সেবা শুধুমাত্র সরকারের নির্ধারিত ফিস ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ কাউকে আদায় করতে দিবেন না। ইউনিয়নের প্রতিটি কাজে স্বচ্ছতা আনতে বাৎসরিক আয়-ব্যয়ের হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে জনসম্মুখে প্রকাশ করবেন। সর্বপরি দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাবেন।
রাজনগর ইউনিয়ন ঃ রাজনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ইতিমধ্যে সরদার আব্দুল হান্নান ডাবলু পরপর দুই বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। এবারও তিনি তার স্বীয় পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী। নিজের স্বচ্ছ ব্যক্তিসম্পন্ন রাজনীতির কারণেই এখনও পর্যন্ত কোন প্রতিদ্ব›িদ্ধ তার বিরুদ্ধে মনোনয়নপত্র ক্রয় করেনি বলে জানাযায়। এলাকার ছোট বড় ১০ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণ, সোলার প্যানেল স্থাপন, বয়স্ক-বিধবা-প্রতিবন্ধী ভাতা সহ মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির স্কুল, কালভার্টের মত জনকল্যাণমূলক কাজে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার মধ্যে সম্পন্ন করেছেন। আগামীতে আরও ব্যাপক উন্নয়ন করবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন।
বাইনতলা ইউনিয়ন পরিষদ ঃ বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগর সভাপতি মোঃ আব্দুল্লাহ ফকির পুনরায় নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করার জন্য পূর্ণ আশাবাদী। তিনি জানান স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এলাকার শালিস বিচার মিমাংসা করার জন্য জেলার ৭৫টি ইউনিয়নের মধ্যে গ্রাম আদালতের হিসাবে তার ইউনিয়ন ২য় অবস্থানে আছে বলে দাবি করেন। ইউনিয়নের ১৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মরণে তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তৈরী করেছেন মুক্তিযোদ্ধা ফলক। ইউনিয়নের সবগুলো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনুদান প্রদান করেছেন। এলাকার যুব সমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষার করার জন্য খেলাধুলার পাশাপাশি গঠন করেছেন বঙ্গবন্ধু পাঠাগার। আগামীতে নির্বাচিত হতে পারলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে তালুকদার আব্দুল খালেকের পরামর্শ ও নির্দেশেনায় ইউনিয়নের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
পেড়ীখালী ইউনিয়ন ঃ মোঃ সিরাজুল আজম দারা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান রামপাল থানা আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক। আসন্ন ইউপি পেড়ীখালি ইউনিয়নের নির্বাচনে তিনিও একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে মাদক সন্ত্রাসমুক্ত ইউনিয়ন গঠন করবো। ইউনিয়নের নাগরিক সেবা জনগণ যাহাতে পেতে পারে বা কোন ভোগান্তি না হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখব এবং সকল সরকারি অনুদান গরীব, দুঃস্থ ও অসহায়দের মাঝে সমবন্টন করব। ইউনিয়নের স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ ও মন্দির উন্নয়নের জন্য কাজ করবেন এবং অসম্পূর্ণ রাস্তাঘাট উন্নয়নের জন্য যা কিছু করণীয় তা তিনি করবেন বলে জানান।