রুপসায় রবী ঠাকুরের পত্রিক ভিটা সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনতে জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ

0
737

নিজস্ব প্রতিবদক, খুলনা টাইমস:
রুপসা উপজেলার পিঠাভোগে কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পত্রিক ভিটা সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনতে জমি অধিগ্রহনের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিয়েছে। জেলা প্রশাসন খুব শিগগিরি পিঠাভোগ মৌজায় জমি অধিগ্রহণের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করবে। এখানে স্থাপিত রবীন্দ্র সংগ্রহশালার জন্য সংশ্লিস্ট মন্ত্রণালয় ৩ দশমিক ১১ একর জমি অধিগ্রহণের অনুমোদন দিয়েছে। প্রতি বছর এখানে ২৫ বৈশাখ রবীন্দ্র জন্মাৎসবের আয়োজন করা হয়। পিঠাভোগ ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির ওপর জেলা ও উপজলা প্রশাসনের অর্থে গড়ে উঠেছে রবীন্ সংগ্রহশালা।
পিঠাভোগ গ্রামটি রুপসা উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়নে প্রাচীন ভৈরব নদের উত্তর পাড়ে বিশ্বকবির পূর্ব পুরুষের বসতভিটা কুশারীবাড়ির অবস্থান। ওই বাড়িতে রবীন্দ্রনাথের পূর্ব পুরুষরা বসবাস করতেন। ১৯৯৪ সালে পিঠাভোগের কুশারীবাড়ির পুরাতন ভবন বিক্রি করে দেয় দখলদাররা। এরপর খুলনার তৎকালীন জেলা প্রশাসক কাজী রিয়াজুল হকের প্রচেষ্টায় ১৯৯৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর বাড়িটি দখলমুক্ত হয়। ২০০৭ সালে একতলা ভবন ও উন্মুক্ত মঞ্চ তৈরি করে স্বল্প পরিসরে গড়ে তোলা হয় রবীন্দ্রস্মৃতি সংগ্রহশালা। কবিগুরুর আদি পুরুষের ভিটায় সেই সময়ের দ্বিতল ভবনের ভিত্তি আবির্ভাব করে তা খনন করে প্রত্মতত্ত অধিদপ্তর। ২০১৫ সালের মার্চে ঘোষণা করা হয় সংরক্ষিত প্রতিসম্পদ হিসেবে।
ভবনসহ এই জমির মালিকানা কুশরিদের উত্তরসূরীরা। তারাই প্রতি বছর খাজনা-ট্যাক্স পরিশোধ করছে। শুধুমাত্র সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একজন দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে দেখভাল করছেন। কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৈত্রিক ভিটা সংরক্ষণ ও দৃস্টি নন্দন করার জন্য সরকারি মালিকানায় আনতে প্রশাসন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আবেদন করে। মন্ত্রণালয় অক্টোবর মাসে তা অনুমোদন দিয়েছে।
প্রততত্ত¡ বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা এ প্রতিবেদককে জানান, জেলা প্রশাসন খুব শিগগির ৩ দশমিক ১১ একর জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেবেন। এখানে দৃস্টি নন্দন প্রকল্প গড়ে উঠলে রুপসায় কবি গুরুর আদি পুরুষের স্মৃতি সংরক্ষণ অনন্য প্রয়াস হয়ে থাকবে।
উপজলা পরিষদ চয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বাদশা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও অন্যান্যদের প্রচেষ্টায় কবি গুরুর নামানুসারে একটি মহিলা কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।