রংপুরে হিন্দু বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সাতক্ষীরায় মানববন্ধন

0
390

সেলিম হায়দার, সাতক্ষীরা:
রংপুর সদর উপজেলার খলেয়া ইউনিয়নের গঙ্গাচরার ঠাকুরবাড়ি গ্রামের আটটি বাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট ও গানপাউডার ছড়িয়ে অগ্নিসংযোগ করার ঘটনায় দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টা সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে জেলা মন্দির সমিতি, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদের সাতক্ষীরা জেলা শাখা এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য গোষ্ট বিহারী মন্ডলের সভাপতিত্বে মানববন্ধন কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য দেন জেলা মন্দির সমিতির সাবেক সভাপতি মঙ্গল কুমার পাল, পুজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. অনিত মুখার্জী, স্বদেশ এর নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত, সাংবাদিক রঘুনাথ খাঁ, সাংবাদিক অসীম বরণ চক্রবর্তী, প্রাণনাথ দাস, শিবপদ গাইন, নিত্যানন্দ আমিন, মনোরঞ্জন সাহা, বাংলাদেশ দলিত পরিষদের সাতক্ষীরা শাখার সভাপতি গৌর চন্দ্র দাস, যুব কমিটির সভাপতি রণজিৎ সরকার, সাধারণ সম্পাদক সুমন অধিকারী, পুজা উদযাপন পরিষদের নেত্রী সুলেখা দাস প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, এমডি টিটু নামে প্রায় অশিক্ষিত টিটু রায়ের ছবি দিয়ে তার নামে ফেইসবুক আইডি খুলে ১৯ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত মহানবীকে কটুক্তি সংক্রান্ত পোষ্ট শেয়ার করার দায়ে গত শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত হানার অভিযোগে হাজারো তৌহিদ জনতার আটটি হিন্দু বাড়ি আক্রমণ, জ্বালাও, পোড়াও, লুট ও শ্লীলতাহানি ঘটিয়েছে। ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাতের কাল্পনিক অভিযোগে রামু, নাসিরনগর, সাঁথিয়া, সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের ফতেপুর-চাকদাহ, অভয়নগর ও ২০০১ সালের অক্টোরবর পরবর্তী চারদলীয় জোট ক্ষমতায় আসার পর দেশজুড়ে কয়েকটি নির্যাতন ও সহিংসতার কাল্পনিক ঘটনায় কোন বিচার হয়নি। বিগত কয়েক বছরে জেলায় মন্দির ও মুর্তি ভাঙচুরের ঘটনায় বিচার হয়নি। গত ১৩ অক্টোবর সদর উপজেলার চুপড়িয়ায় সংখ্যালঘু অঞ্জনা দাসের উপর বর্বোরচিত নির্যাতনের ঘটনায় স্থানীয়রা সকলে নির্যাতনকারীদের পক্ষ নেওয়ায় চারটি হিন্দু পরিবার দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেছিল। শ্যামনগরের ভুরুলিয়ায় বাবুরাম মন্ডলকে কথিত এরশাদ শিকদার বাধঘাটার রেজাউল ইসলাম ও পুলিশের যৌথ নির্যাতনের বিচার না হলেও তার বিরুদ্ধে দুটি পরিকল্পিত মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। এরপরও শুক্রবার রংপুরে আটটি হিন্দু বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ হলো। কয়েকদিন ধরে বিষয়টি আলোচিত হলেও পুলিশ সবকিছু জেনে বুঝে কারো নাম উল্লেখ না করে দু’ হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। এতে গ্রেফতারকৃত আসামীরা সহজেই জামিনে মুক্তি পাবে। এ ধরণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা বলেন, এ পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ছাড়া পথ নেই। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার শীল।