যৌন হয়রানির অভিযোগে আদালতে মামলা আসামীরা প্রভাবশালী হওয়ায় মামলা করে বিপাকে মাত্তমডাঙ্গার সাথি বেগম

0
59

ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি:
নগরীর খানজাহান আলী থানাধীন মাত্তমডাঙ্গায় কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় যৌন হয়রানির অভিযোগে আদালতে মামলা করায় বিপদে পড়েছে গৃহবধু এক সন্তানের জননী সাথি বেগম। অভিযুক্ত উত্তম দাসের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তে ঘটনায় জখমের সত্যতা পেয়েছে পুলিশ। অভিযুক্ত আসামীরা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় থাকায় বাদীকে মামলা তুলে নিতে এবং স্বাক্ষিদের স্বাক্ষ প্রদান থেকে বিরত থাকতে প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে। মামলার অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে, নিউ মাত্তমডাঙ্গার আলামিনের স্ত্রী সাথি বেগম তিন বছর পূর্বে মনিরা বেগমের কাছ থেকে জমি ক্রয় করে বসবাস শুরু করে। স্বামী আলামিন চাকুরীর সুবাদে ঢাকায় অবস্থান করায় শিশু পুত্র সন্তানকে নিয়ে তিনি মাত্তমডাঙ্গায় থাকেন। স্বামীর অনুপস্থিতে বাড়ীর পার্শবর্তী দুলাল দাসের পুত্র উত্তম দাস দীর্ঘদিন যাবত প্রতিনিয়ত সাথিকে কু-প্রস্তাব এবং বিভিন্ন অশ্লিল অঙ্গভঙ্গিতে নোংরা কথাবার্তা বলে উত্তক্ত করে যৌন হয়রানি করে আসছিল। গত ১০ এপ্রিল সাথি বেগমকে ঘরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় উত্তম দাস ইটের ফাকা দিয়ে চুল টেনে ছিড়ে ফেলে এবং একটি মোবাইল সেট নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সাথি বেগমের কাপড়-চোপড়ে নোংরা জিনিস লাগিয়ে দেয়। বিষয়টি উত্তমের পরিবারকে জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে উত্তম দাস উঠানের উপর কোদালের আচাড়ী দিয়ে সাথির শরিরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে জখম করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। স্থানীয় পর্যায়ে আপোষ মিমাংশার কথা বলে কাল ক্ষেপন করে সমাধান না করায় এবং সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা না হওয়ায়। গত ২ সেপ্টেম্বর সাথি বেগম উত্তম দাস(৩০), তারা রানি দাস(৪৫), সুপ্তম দাস(২৭), সু-উজ্জল দাস(২৩) কে আসামী করে খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতে একটি মামলা করেন (মামলা নং ৩৫/২০২০, তাং ২/৯/২০)। আদালত মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দিলে খানজাহান আলী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কবির হোসেন তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্তে সাথি বেগমকে কোদালের আচাড়ি দিয়ে আঘাত করে জখমের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সাথি বেগম বলেন, জমি ক্রয়ের পর জানতে পারি জমির পূর্বের মালিক মনিরা বেগম তাদের নির্যাতন সইতে না পেরে জমিটি বিক্রয় করে দেয়। অভিযুক্ত আসামীরা প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থাকায় তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করে কোন কাজ হয়নি। আদালতে মামলা করার পর আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং আমাকে এবং যারা মামলার স্বাক্ষী তাদেরকে প্রকাশ্যে বিভিন্ন ভাবে হুমকি-ধামকি এমনকি চাকুরীচ্যুৎ করার হুমকি প্রদান করছে। স্বাক্ষীদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রকৃত সত্য ঘটনাকে আড়াল করা হয়েছে। এই অবস্থায় মামলা করে আমি পরিবার নিয়ে বিপদের মধ্যে আছি। তিনি উত্তম দাসের হাত থেকে রক্ষা পেতে ঊর্ধতন প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।