‘…যেদিন আমরা ভালো খেলব’

0
370

খেলা ডেস্ক, খুলনা টাইমস:

রুমেশ রতনায়েকেকে একটা ধন্যবাদ দিতে পারে বাংলাদেশ। টানা হারের মধ্যে আটকে থাকা বাংলাদেশ দল যেটি ভুলে যেতে বসেছে, শ্রীলঙ্কার পেস বোলিং কোচ আজ দুপুরে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে সেটিই মনে করিয়ে দিলেন—বাংলাদেশ জিততে পারে, দলটা যথেষ্ট শক্তিশালী।
বাংলাদেশ দলের যে ত্রাহি মধুসূদন অবস্থা, তাতে মনে হতে পারে প্রতিপক্ষের বোলিং কোচ হয়তো ক্রিকেটীয় সৌজন্য মেনে বলার জন্যই বলেছেন। কিন্তু রতনায়েকের দেওয়া তথ্যগুলো তো আর ভুল নয়, ‘দেশের মাঠে তারা সব দলকেই হারিয়েছে। তারা আমাদের মাঠেই আমাদের হারিয়েছে। তারা অনেক শক্তিশালী দল। কিছু খেলোয়াড় আছে তাদের, যাদের দুর্দান্ত কিছু করার সামর্থ্য আছে।’
দলে প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে, প্রতিপক্ষকে হারানোর সামর্থ্য আছে। তবুও কেন পারছে না বাংলাদেশ? কাল রাতে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নটা শুনে মাহমুদউল্লাহ যে বিরক্ত হলেন, সেটি তাঁর মুখাবয়বই বলে দিচ্ছিল। উত্তরটাও দিয়েছিলেন একটু পেঁচিয়ে, ‘ভালো খেলব… যেদিন আমরা ভালো খেলব।’
ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ খেলেছে ছয় ব্যাটসম্যান আর পাঁচ বোলার নিয়ে। ভারতের বিপক্ষে পাঁচ বোলার নেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে যে প্রশ্ন ছিল, পরে মাহমুদউল্লাহর কথাতেও বোঝা গেল, ‘ছয়জন ব্যাটসম্যান, পাঁচজন বোলার নিয়ে নামলে একটু ঝুঁকি থাকে। এসব চিন্তা না করে আমাদের ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। ইতিবাচক মানসিকতায় এগোতে হবে। এ ছাড়া তো আর কোনো উপায় দেখছি না।’

মাহমুদউল্লাহ বলেছেন, প্রেমাদাসার উইকেট ভালো ছিল, ১৭০-১৮০ রানের উইকেট। ব্যাটসম্যানরাই উইকেটকে কাজে লাগাতে পারেননি, ১২০ বলের মধ্যে ৫৭টি ডট সেটা বলে দিচ্ছে। ‘সুযোগগুলো কাজে লাগানোর দরকার ছিল। ব্যাটসম্যানদের দায় দেব। এত ভালো উইকেটে ভালো স্কোর গড়েতে পারেনি। তবে বোলাররা খুব ভালো করেছে। এটা ইতিবাচক দিক। এখন বোলার-ব্যাটসম্যানদের একসঙ্গে জ্বলে উঠতে হবে।’
শ্রীলঙ্কায় ট্রাফিক সিগন্যাল সবাই অক্ষরে অক্ষরে মানেন। গভীর রাতে ফাঁকা রাস্তা পেয়েও কলম্বো শহরের কাউকে ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করতে দেখা যায় না (বাংলাদেশে যা বিরল দৃশ্য!)। বাংলাদেশ দলের অবস্থা এখন ট্রাফিক সিগন্যালের মতো, সব বাতি একসঙ্গে জ্বলে না! রাস্তায় ঠিক আছে, কিন্তু মাঠে ট্রাফিক বাতির মতো জ্বললে তো হবে না। সেখানে হতে হবে ফ্লাডলাইটের মতোই, জ্বলতে হবে একসঙ্গে। না হলে হতাশার আঁধারেই ডুবে থাকতে হবে!
প্রথম আলো।