যশোরে বন্দুকযুদ্ধে অজ্ঞাত যুবক নিহত : বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা

0
466

জেলা প্রতিনিধি, খুলনা টাইমস:

যশোর সদর উপজেলার রঘুরামপুর গ্রামে বন্দুকযুদ্ধে অজ্ঞাত এক যুবক নিহতের ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে হত্যা মামলা রুজু করেছে পুলিশ। তবে এজাহারে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। কোতয়ালী থানার এসআই নুর উন নবী বাদী হয়ে ২০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ৭-৮ জনকে আসামি করে মামলা রুজু করেন।

আসামিরা হলেন- মিশনপাড়ার ডিসি বাংলো এলাকার মৃত আফসার আহমেদ সিদ্দিকীর ছেলে মনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু (নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক), বারান্দী মোল্লাপাড়া আমতলা এলাকার গোলাম মোস্তফার ছেলে ফারুক হোসেন (নগর ছাত্রদল সভাপতি), চাঁচড়া মধ্যপাড়ার করিম মিয়ার ছেলে বিল্লাল হোসেন ওরফে বিল্লাল মেম্বার, চাঁচড়া রায়পাড়া এলাকার ইকু চৌধুরীর দুই ছেলে সোহেল চৌধুরী ও সুমন চৌধুরী, চাঁচড়া ডালমিল এলাকার মৃত আইনুল হকের ছেলে আনসারুল হক রানা (যুবদল নেতা), শংকরপুর চোপদারপাড়ার মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে বদিউজ্জামান ধনি (যুবদল নেতা), শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ এলাকার মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে জাকির হোসেন, উপশহর বি ব্লক এলাকার শান্তি জোয়ার্দারের ছেলে সুমন ওরফে প্রেসিডেন্ট সুমন (জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি), ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের তোতন মিয়ার ছেলে মিল্টন, নওয়াব আলীর ছেলে সোহাগ, আব্দুল জব্বারের ছেলে মুন্না, উপশহর এস ব্লকের আবু তালেবের ছেলে কবির হোসেন, শহরতলীর ঝুমঝুমপুর এলাকার মৃত ইমান আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন, সিদ্দিক আহমেদের ছেলে গোলাম রসুল, বারান্দীপাড়া কবরস্থান এলাকার মশিয়ার রহমানের ছেলে মোস্তফা আমির ফয়সাল (ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক), বকচর এলাকার মৃত কাদের আলীর ছেলে নুরুন্নবী, বারান্দী মোল্লাপাড়ার আব্দুস সামাদ খানের ছেলে বিল্লাল হোসাইন, সদর উপজেলার হামিদপুর গ্রামের মৃত বারিক মোল্লার ছেলে কুদ্দুস এবং ভাতুড়িয়া দক্ষিণপাড়ার মৃত আহমদ আলীর ছেলে হায়দার আলী।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, পুলিশ শনিবার দিনগত রাত তিনটার দিকে সংবাদ পায় যে, যশোর-ছুটিপুর রোডে রঘুরামপুর গ্রামে দুইদল সন্ত্রাসীর মধ্যে গোলাগুলি হচ্ছে। সংবাদ পেয়ে রাত ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে পুলিশ ওই গ্রামে যায়। পুলিশ দেখে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে গ্রামের ইমানত মোল্লার বাড়ির প্রাচীরের পাশে এক ব্যক্তির (৩৫) লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার কপালের বাম পাশে এবং মাথার ডানপাশে ক্ষত ছিল। ধারণা করা হয়, গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে। আশপাশে ছড়ানো-ছেটানো অবস্থায় একটি ওয়ান শুটারগান, এক রাউন্ড গুলি, পাঁচটি গুলির খোসা, পাঁচটি হাসুয়া এবং সাতটি বিভিন্ন সাইজের স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়। আসামিরা বিভিন্ন গ্রুপের সদস্য। তারা সেখানে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একে অপরকে আক্রমণ করে এবং গোলাগুলি করে।

‘প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুলিশ জানতে পারে, পলাতক সন্ত্রাসী ফারুক হোসেন এবং সুমন ওরফে প্রেসিডেন্ট সুমন নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ওই দুই গ্রুপের বাকি সদস্যের নাম-পরিচয় পরে পুলিশ জানতে পারে।’

উল্লেখ্য, শনিবার ও রোববার দু’দিনে যশোরে ছয়জনের লাশ উদ্ধার হল। যাদের প্রত্যেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের কারো নামপরিচয় জানা যায়নি। এছাড়া রোববার ভোরে যশোর-সংলগ্ন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ এবং সাতক্ষীরার কলারোয়া থেকে আরো দুটি অজ্ঞাত গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার হয়েছে।