যথাসময়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে না কেসিসি’র সড়কে সোলার বাতি স্থাপন প্রকল্প : আছে অনিয়মও

0
957

সুমন আহমেদ : ‘সোলার স্ট্রিট লাইটিং প্রোগাম ইন কেসিসি’ প্রকল্পের অধীনে খুলনা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনার অগ্রভাগে বসছে স্বয়ংক্রিয় বাতি। চলতি মাসে মেয়াদ শেষ হলেও প্রকল্প সময়সীমা তিন মাস বৃদ্ধি করা হয়েছে। যথাসময়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে না কেসিসি’র সড়কে সোলার বাতি স্থাপন প্রকল্প| সাশ্রয়ের সাথে সৌর বিদুৎ প্রতিষ্ঠিত করতেই এমন উদ্যোগ গ্রহণ। তবে নি¤œমানের যন্ত্রাংশের ব্যবহার, যত্রতত্র কংক্রিট ঢালাই, আলোর তীব্রতা না থাকা, রক্ষণাবেক্ষণে অসতর্কতাসহ প্রকল্পে নানা অনিয়মের চিত্র মিলেছে। অবশ্য, অনিয়ম মানতে নারাজ তদারকির দায়িতপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। প্রকল্প সম্পন্ন শেষে কাজের সঠিক মান বজায় থাকবে বলে খুলনাটাইমসকে নিশ্চিত করেন তারা।

জানা গেছে, ‘সোলার স্ট্রিট লাইটিং প্রোগাম ইন খুলনা সিটি কর্পোরেশন’ নামের প্রকল্পটি গ্রহণ করে বাংলাদেশ বিদুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। শহরের ৫৬ কিলোমিটার সড়কে মোট ২ হাজার ১শ’ একটি বিদুৎ পোল বসবে। মোট প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ২২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)’র অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ৫ বছরের চুক্তিতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগ পায় চায়না ও বাংলাদেশের যৌথ মালিকানার ‘জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানী গ্লোরিয়া-জেসিইজিসিএল কনসোর্টিয়াম’। এর আগে প্রকল্পের ই-জিপির মাধ্যমে দরপত্র প্রস্তাব, গ্রহণ ও যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়।

আরও জানা গেছে, চুক্তিমতে বাল্ব ও সরঞ্জামাদির ওয়ারেন্টি দু’বছর এবং বাকি তিন বছর সার্ভিস কন্ট্রাক্ট। তবে চায়না থেকে আসা বিদুৎ পোলগুলির মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বিদুৎ পোলে স্থাপিত ৪০ ওয়াট বিশিষ্ট এলইডি বাতির মান ও আলোর তীব্রতা নিয়েও প্রশ্ন ছুঁড়েছে। অবশ্য, এনিয়ে কোনরকম প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই বলে খুলনাটাইমসকে কেসিসি পক্ষ হতে সুষ্পষ্টভাবে জানানো হয়।

সূত্র জানায়, চুক্তিমতে বিদুৎ পোল বসানোর নির্ধারিত স্থানে কংক্রিট ঢালাই হবে ২৬’’*২৬’’*৪৬’’ আকারে। যদিও প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলছেন, ঢালাইকাজে সঠিকতা বজায় রাখা হয়নি। তড়িঘড়ি করে শেষ করা হচ্ছে। তাছাড়া রেডিমেট মেশিনে কংক্রিট ঢালাইয়ের মিশ্রণ হওয়ায় লে-আউট, ফাউন্ডেশন সঠিক হয়নি। আবার সাম্প্রতিক বর্ষণেই ঢালাই কাজের অনেক স্থান দেবে গেছে।ফলে আকারে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফলস্বরূপ বিদুৎ পোলগুলো সঠিক মানদন্ডে নেই, সারিবদ্ধ না থেকে আকাবাকা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এনিয়ে কেসিসি’র বিদুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদ হোসেন শেখ দাবি করেন, এখনও শতভাগ নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। তার আগে কংক্রিটের ঢালাইয়ের সেপ (আকার) পুনরায় ঠিক করা হবে। তিনি বলেন, শুধুমাত্র কংক্রিট ঢালাই কাজটি স্থানীয় ঠিকাদার ও বিশিষ্ট শিল্পপতি শেখ মজনু’র মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

সরেজিমনে দেখা গেছে, স্থাপন কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ ও স্টীল নি¤œমানের, মরচে পড়ে ক্ষয় ধরেছে সব নাট-বল্টু। যদিও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাদা রংয়ের প্রলেপ ব্যবহার করেছে, তবু বর্ষার পানিতে রং চলটে মরচে ক্ষয়ের চিত্র পুনরায় ফুটে উঠেছে। এনিয়ে জানতে চাইলে কেসিসি’র বিদুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, এখনও ফিনিশিং হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ইতোমধ্যে সমাধানের জন্য বলা হয়েছে। চুক্তিপত্রে বলা আছে এক্সসেলেন্ট স্টিল (এ৩)। যার মানে বোঝা দুস্কর। কারণ জিআই ও এমএস নামে আমরা দুই ধরণের স্টিল বুঝি। তিনি বলেন, প্রকল্প হস্তান্তরে পূর্বের মরচে ধরা নাট-বল্টু পরিস্কার করে রেড অক্সাইড দিয়ে স্থায়ীত্ব বাড়ানো হবে। চুক্তিপত্রে উল্লেখ, চারটি এম২০ বোল্ট, ৮০এমএম-এম২০ স্ক্রু দিয়ে পোলটি সংযুক্ত করা হবে।

সূত্রমতে, চলতি বছরের জুন মাসে সড়ক বাতি স্থাপন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ৩১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার সময়সীমা নির্ধারিত ছিল। যথাসময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষ না হওয়ায় ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৬০শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষামূলক বাতিও জ¦লছে। সূত্র বলছে, বর্ধিত সময়ে কাজ শেষ হতেই হবে। অণ্যথায় না হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল আটকে যাবে।
সূত্রমতে, স্টেকহোল্ডার (সুফলভোগী) হিসেবে স্থাপন কাজ তদারকি করছে কেসিসি। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় গড়া প্রকল্পটিতে আলোর তীব্রতা নিয়ন্ত্রণ মূলত ‘মোবাইল অ্যাপস’ নির্ভর। অর্থাৎ আইপি কন্ট্রোল দ্বারা অফিসে বসেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। স্থাপিত বিদুৎ পোলগুলোর মধ্যে একক বাতি থাকছে ১৩১৯টিতে, ডাবল বাতি ৭০৫টির এবং সোলার বাল্ব ৭৭টির। হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে, থানাগুলোর ভেতরে, রেলক্রসিংয়ের স্থানে, কুয়েট ও খুবিতে দুটি করে চারটি, নদী পারাপার ঘাট, পার্ক এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়েই বসেছে সোলার এলইডি বাল্ব।

প্রসঙ্গতঃ নগরীর রূপসা কাস্টমঘাট-বাদামতলা-গগণ বাবু রোড, রূপসা স্ট্রান্ড রোড একাংশ, খানাজাহান আলী রোডের রয়েল মোড় হতে রূপসা, কেডিএ এভিনিউ রোডের রয়েল মোড় হতে শিববাড়ি, শিববাড়ি হতে সোনাডাঙ্গা বাসষ্টান্ড, গল্লামারি হতে নতুন রাস্তা মোড়, খালিশপুরের বিআইডিসি রোড, ১৮নং, ১৬নং ও ১৩নং সড়ক, ঈদগাহ, চরের হাট প্রধান সড়ক, কেদারনাথ রোড, সাতক্ষীরা রোড, আঞ্জুমান রোড, সোনাডাঙ্গা আ/এ, ১ ও ২নং ফেস একাংশ, কেডিএ এ্যাপ্রোস রোড, মন্নুজান স্কুল সড়ক, পুরাতন যশোর রোড, জোড়াগেট-গোয়ালখালি, বয়রা মহিলা কলেজ হতে রায়েলমহল মসজিদ মোড় এলাকায় বসছে এলইডি সড়ক বাতির পোল।