মোড়েলগঞ্জে মুুক্তিযোদ্ধার কবরস্থানে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ

0
349

মোড়েলগঞ্জ প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের পঞ্চকরণ ইউনিয়নের পাঁচগাও বাজারে বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আহম্মদ আলী খানের কবরস্থানে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কেএম মহিউদ্দিন মিন্টু ও তার পরিবার। অভিযোগের প্রেক্ষিতে উর্দ্ধতন কর্মর্তাদের নির্দেশে সোমবার সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান।
প্রাপ্ত অভিযোগে জানাগেছে, উপজেলার পাঁচগাও গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আহম্মদ আলী খানের পৈত্তিক সম্পত্তি ৬শত জমি’র ওপর পারিবারিক কবরস্থান। সে কবরে দাফন করা হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধার পিতা আব্দুর গফুর খানকে, মাতা সুর্যবান ও আছিয়া বেগম, সম্প্রতি ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা খান নূরুল ইসলাম সহ পূর্ব পুরুষ ৩০/৩৫ জনের কবরস্থান। সেই জমির ওপর তারই আপন ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান খান তৈরি করেছে দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি পাকা ভবন(দোকান ঘর)। সেটি আবার অন্যত্র বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা আহম্মদ আলীর পুত্র কেএম মহিউদ্দিন মিন্টু বাদী হয়ে তার পিতা মুক্তিযোদ্ধার কবর অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ১৯ জুলাই একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
এদিকে বুধবার সরেজমিনে আহম্মদ আলী খানের পুত্র মহিউদ্দিন মিন্টু সংবাদ কর্মীদের সামনে বলেন, ১৯৭১ সালে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে দেশ মাতৃকার টানে সেদিন যুদ্ধে যাপিয়ে পড়েছিলেন এ বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আহম্মদ আলী খান। সেই গর্বিত পিতার সন্তান হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করি। দুঃখের বিষয় ইতোমধ্যে বিভিন্ন হয়রানিমূলক মামালায় শিকার হতে হয়েছে তার পরিবার ও আত্মীয় স্বজনকে। পারিবারিক কবরস্থানে চির নিদ্রায় শায়িত পিতা মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আহম্মদ আলী খানের কবরের জমিটুকুও রক্ষা করতে বিভিন্ন দপ্তরে দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়েছে ন্যায় বিচারের জন্য। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে মনে হয় ন্যায় বিচার পাবো। ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী (ভূমি) কর্মকর্তা সরেজমিনে এসে পরিদর্শন করেছেন।
পঞ্চকরন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক মজুমদার বলেন, পাঁচগাও বাজার সংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধার পারিবারিক কবরস্থানে পাকা ভবন দোকানঘর তৈরি করা হয়েছে। ঘটনাটি সঠিক। স্থানীয়ভাবে মির্মাসা করেও কোন সমাধান করা যায়নি। নিজেদের মধ্যে পারিবারিক দ্বন্দ রয়েছে।
উপজেলা নিবার্হী অফিসার মো. কামরুজ্জামান বলেন, উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরির্দশন করা হয়েছে। শ্রিঘ্রই বিষয়টি সর্ম্পকে প্রতিবেদক পাঠানো হবে।
মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান খান বলেন, পৈত্রিক জমিতে ইতোপূর্বে সেখানে কাঠের দোকান ঘর ছিলো সেটি ভেঙ্গে পাকা ভবন করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগটি সঠিক নয়।