মোরেলগঞ্জে বেরীবাঁধের দাবিতে মানববন্ধন

0
386

মোরেলগঞ্জ প্রতিনিধিঃ বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পানগুছি নদীর অব্যাহত ভাঙ্গন রোধে টেকসই ভেরীবাঁধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসি। সোমবার বেলা ১১টায় ভাঙ্গনকবলিত এলাকা গাবতলা, কাঠালতলা ও খাউলিয়া গ্রামের দুই শতাধীক নারী পুরুষ পানগুছি তীরে এ মানববন্ধনে অংশ নেয়। মোরেলগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে এ কর্মসূচীতে চেয়ারম্যান মাহমুদ আলী হাওরাদারসহ পরিষদের অন্যান্য সদস্যগনও অংশ নেন। মানববন্ধনে অংশ নেয়া ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গাবতলা থেকে পশুরবুনিয়া অভিমুখে প্রায় ২.৫ কি.মি. এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ না থাকার কারণে প্রতিনিয়ত জোয়ারের পানি প্রবেশ করে এলাকা প্লাবিত হয়। গত কয়েক বছর ধরে পানগুছি নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে ইতোমধ্যেই ওই তিনটি গ্রামের ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ কমপক্ষে ৪শ’ পরিবার তাদের ভিটেমাটি হারিয়েছে।
তারা জানান, নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে গত রবিবার আকষ্মিকভাবে গাবতলা গ্রামের প্রায় ২৫একর জমি ধসে গেছে নদীতে। মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা আঞ্চলিক সংযোগ সড়কের এ অংশটুকু সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে নদীগর্ভে।
এছাড়াও এলাকার ২টি সাইক্লোন সেল্টার কাম প্রাথমিক বিদ্যালয়, কয়েকটি জামে মসজিদ, কমিউনিটি সেন্টার ও ইউনিয়নের বর্ডার ব্রীজটি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যে কোন সময় চলে যেতে পারে পানগুছি নদীর করাল গ্রাসে।
ক্ষতিগ্রস্থদের পক্ষে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাহমুদ আলী বলেন, কয়েক শ’ পরিবার তাদের মাথা গোজার ঠাই হারিয়ে ছিন্নমূলে পরিনত হয়েছে। এখন প্রয়োজন টেকসই ভেরীবাঁধের।
ক্ষতিগ্রস্থারা, প্রধানমন্ত্রী ও পানিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের প্রতি ভাঙ্গনকবলিত এলাকায় দ্রুত টেকসই ভেরীবাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের জুলাই মাসে স্থানীয় সংদস্য সদস্য ডা. মোজাম্মেল হোসেন এলাকা পরিদর্শন করেন। ওই সময় তিনি গাবতলা হতে পশুরবুনিয়া অভিমুখে আড়াই কিলোমিটার বেড়িবাঁধের জন্য পানিসম্পদ মন্ত্রীর নিকট ডিও লেটার দেন।
ডিও লেটারের ভিত্তিতে পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম গত বছরের ১২ জুলাই পাউবো মহাপরিচলকেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দিলেও ভাঙ্গনরোধে এখন পর্যন্ত কোন কার্যকর ব্যাবস্থা নেওয়া হয়নি।