মোংলা-ঘষিয়াখালী নৌ-চ্যানেলে ফের দেখা দিতে পারে নাব্যতা সংকট

0
568

বাগেরহাট প্রতিনিধি:
মোংলা-ঘষিয়াখালী নৌ-প্রটোকল চ্যানেলটি এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত। আবারও দেখা দিতে পারে নাব্যতা সংকট, বিআইডবিøউটিএ এর সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নজরদারী ও ব্যবস্থাপনার অভাবে নানা মুখি সংকটে পড়তে পারে ওই নৌ-চ্যানেলটি। এমনটি দাবি করেছেন বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা দ্রæত নিরসন করা না গেলে হুমকির মুখে পড়বে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌ-রুটটি। এতে সুন্দরবন, মোংলা বন্দর, নদী-খালের পানি প্রবাহ ব্যাহত ও পরিবেশ-প্রতিবেশের উপর মারাত্মক বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
চ্যানেলটি খনন সংশ্লিষ্ট বিআইডবিøউটিএ ও স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত ০৯ জানুয়ারী ২০১৪ সুন্দরবনের শেলা নদীতে ফার্নেস অয়েলবাহী ট্যাংকার ডুবির পর তেল ছড়িয়ে পড়ে সুন্দরবনে। এরপর দেশী বিদেশী পরিবেশবাদীরা ওই নৌপথ বন্ধের জন্য আন্দোলন শুরু করেন। সরকার সুন্দরবন, মোংলা বন্দর ও এ এলাকার পরিবেশ-প্রতিবেশের গুরুত্ব বিবেচনা করে মোংলা-ঘষিয়ালী নৌপথটি দ্রæত খনন শুরু করে। গত ১জুলাই ২০১৪ থেকে কাজটি বাস্তবায়ন শুরু করে বিআইডবিøউটিএ। এ পর্যন্ত ঐ সংস্থা নদী ড্রেজিং করে প্রায় ৩ কোটি ঘন মিটার ( ২ কোটি স৮১ লক্ষ ) মাটি খননকরে উত্তোলন করে। নাব্যতা সংকট রোধে বিআইডবিøউটিএ ও বাংলাদেশ নেভীর মোট ৫টি ড্রেজার সার্বক্ষনিক মাটি খনন কাজে নিয়োজিত রয়েছে। গত ৬ মে ২০১৫ থেকে চ্যানেলটিতে নৌ-যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। পূর্ণ জোয়ারের সুবিধা নিয়ে ৮ ফুট থেকে ১২ ফুট ড্রাফটের কার্গো ও ভেসেল চলাচল করে। বিআইডবিøউটিএ এর কর্মকর্তারা জানান, চ্যানেলটি খুলে দেওয়ার পর এ পর্যন্ত ছোট বড় প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার নৌ-যান চলাচল করেছে। বর্তমানে ভাটার সময় ১২ থেকে ১৪ ফুট ও জোয়ারের সময় ২০ থেকে ২৪ ফুট গভীরতায় পানি থাকে। চ্যানেলের দুই পাড়ে বারবার মাটি প্রতিস্থাপনের ফলে বেশ কয়েকটি স্থানে টিলার মত উচু হয়ে গেছে। এতে ড্রেজিংকৃত মাটি প্রতিস্থাপন প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে পশুর নদীর মুখ হতে জয়খা পয়েণ্ট পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এলাকায় দুই পাড়ে মাটি ফেলার জায়গার অভাব চরম আকারে ধারণ করেছে। ওই স্থানের নদীর তলদেশে পলি পড়ে দ্রæত ভরাট হচ্ছে। যে কারনে অবিরাম ড্রেজিং করে নাব্যতা রক্ষা করা হচ্ছে। অপর দিকে চ্যানেলের অন্য পাশে ঘষিয়াখালী পয়েন্টে সাড়ে ৩ কিলোমিটার নদীর দুই পাড়ে বিআইডবিøউটিএ এর বা সরকারি জায়গা না থাকায় মাটি ফেলা সম্ভব হচ্ছে না। এতে খনন কাজ মারাত্মক ব্যহত হচ্ছে। ভরাটকৃত ডাইকের মাটি দ্রæত সরিয়ে ফেলতে না পারলে ড্রেজিং কার্যক্রম যে কোন সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড টাইডাল বেসিন নির্মান, চ্যানেল সংলগ্ন শাখা নদী ও শাখা খাল দ্রæত খনন করে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি করতে না পারলে আবারও পলি পড়ার হার বেড়ে যেতে পারে। পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, মাটি ফেলার জায়গা তৈরী, টাইডাল বেসিন নির্মান, শাখা নদী ও শাখা খাল দ্রæত খনন, চ্যানেল পাড়ের স্তুপকৃত মাটি দ্রæত সরিয়ে নেওয়া, বিশেষ করে মোংলা বন্দর এর পশুর নদীর থেকে জয়খা পর্যন্ত স্তুুপকৃত মাটি সরিয়ে ফেলা খুবই জরুরী। এটা না করা হলে ড্রেজিং কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়তে পারে। এক তথ্যে দেখা গেছে প্রতি বছর সংরক্ষন ড্রেজিং ও প্রশস্তকরণের জন্য যে ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয়েছে তা ব্যপক কাটছাট করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এমন অগ্রাধীকার প্রকল্পে ব্যয় কাটছাট করা হলেও গত প্রায় ৫ বছর ধরে দ্বিমুখি নৌ-যান চলাচলের জন্য চ্যানেল প্রশস্ত করনের কার্যক্রম একটুও এগোয়নি। এটি বিআইডবিøউটিএ এর ব্যর্থতা কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার বলে মত দিয়েছেন অনেকে। এ ব্যাপারে পরিবেশ সুরক্ষায় উপক‚লীয় জোটের আহবায়ক এ্যাডভোকেট শাহনেওয়াজ বাবুল জানান, সুন্দরবন সুরক্ষা, মোংলা বন্দর, জীব বৈচিত্র্যও এ এলাকার পরিবেশ-প্রতিবেশ সুরক্ষা এবং মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষার্থে চ্যানেলটির নাব্যতা বৃদ্ধি করতে হবে। এ জন্য টাইডাল বেসিন ও নেবিগেশন লকসহ যা যা করনীয় সেটি করতে হবে। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর জোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। নদী গবেষণাকারী প্রতিষ্টান সিইজিআইএস এর সিনিয়র স্পেশালিষ্ট কামাল উদ্দিন বলেন, বর্তমান অবস্থায় চ্যানেলটির নাব্যতা ধরে রাখতে হলে চ্যানেল পাড়ের স্তুপকৃত মাটি দ্রæত সরিয়ে ফেলতে হবে। তিনি আরও জানান, চ্যানেল সংলগ্ন নদী-খাল দ্রæত খনন সম্পন্ন, একাধীক টাইডাল বেসিন নির্মান, মোংলা থেকে জয়খা এলাকার বড় বড় খালে নির্মিত ¯øুইসগেট অপসারণ করতে হবে। জলাভ‚মিগুলো উন্মুক্ত করতে হবে। বিআইডবিøউটিএ এর উপ-প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) মোঃ সাইদুর রহমান বলেন, মুঠোফোনে কথা হলে তিনি সমস্যা সমাধানের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে দ্রæত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।