মোংলার মোহসিনিয়া মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

0
1005

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
মোংলার মোহসিনিয়া আলিম মাদ্রাসার সুপার/অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। মাদ্রাসার সুপার পদে বহাল থেকে তিনি বেতন-ভাতা নিলেও কাগজপত্রে অধ্যক্ষের স্বাক্ষর করছেন। এছাড়া স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে মাদ্রাসায় নিজ মেয়ে-জামাইসহ আত্মীয়দের চাকুরি দিয়ে আত্মীকরণ করেছেন। সুপার নিজেই মাদ্রাসার একটি কক্ষে দিন-রাত্রি অবস্থান নিয়ে সেখানে কোচিং বাণিজ্য অব্যাহত রেখেছেন।
এ সব অনিয়মের বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: আনোয়ারুল কুদ্দুস বলেন, কিছু অনিয়ম হয়েছে তিনি এখানে যোগদানের পূর্বে। এখন থেকে ভবিষ্যতে যাতে কোন ধরণের অনিয়ম করতে না পারে সে বিষয়ে খোজ খবর রাখা হচ্ছে এবং নতুন করে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যে সকল অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে তদন্ত সাপেক্ষে তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগে ও খোজ খবব নিয়ে জানা গেছে, মোংলার শেহলাবুনিয়ার মোহসিনিয়া মাদ্রাসা সম্প্রতি ফাজিল থেকে আলিম বিভাগে উন্নিত হয়েছে। ফাজিল বিভাগ চলাকালীন মাদ্রাসার সুপার হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন গোলাম মোস্তফা। তিনি বর্তমানেও মাদ্রাসার সুপার পদ হিসেবে বেতনÑভাতা উত্তোলন করছেন। কিন্তু তিনি কাগজপত্রে সুপার না লিখে স্বাক্ষর করছেন অধ্যক্ষ হিসেবে। বেতন পান সুপারের স্বাক্ষর করেন অধ্যক্ষ। এছাড়া মাদ্রাসার সুপারের দায়িত্বে থেকে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে তিনি তার নিজ মেয়ে নাজমা আক্তারকে জুনিয়র সহকারী শিক্ষক ও জামাই মিজানুর রহমানকে শরীর চর্চা শিক্ষক পদে চাকুরি দিয়েছেন। আত্মীয়র সুপারিশে আর্থিক সুবিধা নিয়ে সহকারী শিক্ষক পদে জয়নাল আবেদীন, কম্পিউটার শিক্ষক পদে লাকী খানম, নাইট গার্ড হাফিজুর রহমান ও হাফিজুর রহমানের মেয়ে নাজমা খানকে লাইব্রেয়িয়ান পদে চাকুরি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া মাদ্রাসার অফিস সহকারী জামাল হোসেন অফিস সহকারীর পদের বেতন-ভাতা নিলেও কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেন প্রভাষক হিসেবে। সহ-সুপার ইলিয়াছ হোসাইনও বেতন ভাতা সহ-সুপারের নিয়ে মাদ্রাসার কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেন প্রভাষকের। শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ বাবদ ১হাজার ৭শ টাকা নির্ধারণ থাকলেও সুপার গোলাম মোস্তফা ৩ হাজার টাকা করে আদায় করেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাদ্রাসা সুপার গোলাম মোস্তফা ও জামাই শরীর চর্চা শিক্ষক মিজানুর রহমানের একক দাপটেই চলছে মাদ্রাসাটি। এ মাদ্রাসাটি শ্বশুর-জামাই-মেয়ে-আত্মীয়দের একক দখলে রয়েছে। সুপার গোলাম মোস্তফা ও তার জামাই মিজানের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক অপকর্মের অভিযোগ। মাদ্রার সকল অনিয়মের মুল হোতা সুপার গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে একাধিক বলাৎকারের ঘটনায় শালিস মিমাংসাও হয়েছে ইতিপূর্বে। এছাড়া তার জামাই মিজানের নামেও জালিয়াতি মামলা, জমির দালালিসহ নানা প্রলোভনে সাধারণ লোকজনের টাকা আত্মসাৎতের ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। মাদ্রাসার শিক্ষকের সাইনবোর্ডে থেকে নানা অনিয়মের সাথে জড়িত রয়েছে মিজান। মাদ্রাসার সামান্য শরীর চর্চা শিক্ষক হয়ে তিনি অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাপক অনিয়মের মধ্যদিয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার গোলাম মোস্তফা সুপারের জায়গায় অধ্যক্ষের স্বাক্ষর ও সহ-সুপার ইলিয়াছ প্রভাষকের স্বাক্ষর করেন বলে স্বীকার করে বলেন, নিয়োগ প্রয়োজন হয় না সুপার থেকে অধ্যক্ষ, সহ-সুপার থেকে প্রভাষক হিসেবে স্বাক্ষর করা যায়। অফিস সহকারী জামাল হোসেনের প্রভাষকের স্বাক্ষরের বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান। এছাড়া মেয়ে-জামাই মাদ্রাসায় কর্মরত আছেন বলেও তিনি স্বীকার করেছেন। শ্রেণী কক্ষে কোচিংয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা অতিরিক্ত ক্লাস নেয়া হয় মাত্র। আর ফরম পূরণ বাবদও অতিরিক্ত টাকা নেয়া হয় না বলেও তিনি দাবী করেছেন।