মেহেরপুরে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত

0
34

তথ্যবিবরণী
ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষ্যে প্রতিবারের মতো এবারও মেহেরপুরের মুজিবনগরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক, জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সিমিন হোসেন রিমি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দরা মুজিবনগরে স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে মুজিবনগরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
এরপর আম্রকাননে মুক্তিযোদ্ধা, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, বিএনসিসি, স্কাউট, গার্লস গাইডসহ স্কুলের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গার্ড অব অনার এবং বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। মুজিবনগরে গীতিনাট্য সোনালী স্বপ্নের দেশ প্রদর্শিত হয়।
পরে মুজিবনগরে স্থাপিত শেখ হাসিনা মঞ্চে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষ্যে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ ও আমাদের জাতীয় জীবেনে মুজিবনগর দিবসের গুরুত্ব অপরিসীম। বাঙ্গালির মুক্তির সংগ্রাম ও স্বপ্ন সাধনার সাথে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে মুজিবনগর দিবস। বঙ্গবন্ধু সবসময় রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি একটি সুখী— সমৃদ্ধ দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখতেন। তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নে সরকার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে অবস্থান নিয়েছে।
সম্মানিত অতিথির বক্তৃতায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক বলেন, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস বাঙ্গালি জাতির পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্তির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বদ্ধু হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেখানো পথ ধরে এগিয়ে যেতে হবে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত, উন্নত সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে। জাতির পিতার কারাবন্দি অবস্থায় তার দিক নির্দেশনা অনুযায়ী যে মহান নেতারা মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তাদের জাতি আজ কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, মুজিবনগর সরকার বাংলাদেশের বৈধ ও নিয়মতান্ত্রিক সরকার। স্বাধীনতা বিরোধীচক্র সর্বদা মুজিবনগর সরকার ও মহান মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালায়। ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপনের মাধ্যমে বর্তমান প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে এবং তারা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠনে আবদান রাখবে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সিমিন হোসেন রিমি, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. আফজাল হোসেন ও এসএম কামাল হোসেন, সংসদ সদস্য আবু সালেহ মোহাম্মদ নাজমুল হক, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মন্নুজান সুফিয়ান, আওয়ামী লীগের সদস্য গ্লোরিয়া সরকার ঝর্ণা ও নির্মল কুমার চ্যাটার্জি, মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম. এ খালেকসহ কেন্দ্রীয়, স্থানীয় ও বিভিন্ন জেলার আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ বক্তৃতা করেন।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক।
দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে ও বাংলাদেশ বেতার বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করে। মুজিবনগরে দিবস উপলক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও ভবনে আলোকসজ্জা এবং সড়কদ্বীপ জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করা হয়।