মেসি-নেইমারের গোলে মিলবে শিশুদের খাবার

0
315
লিওনেল মেসি, নেইমার, আর্জেন্টিনা ফুটবল, ব্রাজিল ফুটবল, রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবল, Lionel Messi, Naymer, Argentina Football, Brazil Football, Football, Russia World Cup Football, Rtvonline

স্পোর্টস ডেস্ক:
লিওনেল মেসি ও নেইমার। বর্তমান সময়ের সেরা দুই তারকা। একজন প্রতিনিধিত্ব করেন আর্জেন্টিনার হয়ে আরেকজন করেন ব্রাজিলের হয়ে। ফুটবল বিশ্বে এ দুজনের ভক্ত ও অনুসারীর সংখ্যাও কম নয়। ক্লাব ফুটবলে এ দুই তারকা ফুটবলার গোলের বন্যা বসিয়ে দেন। আর এতে করে সমর্থকরা পায় অনাবিল আনন্দ। এবারের রাশিয়া বিশ্বকাপেও সবার দৃষ্টি থাকবে এ তারকাদ্বয়কে ঘিরে।

সকলের প্রত্যাশা এরা নিজেরা নিজেদের তারকা খ্যাতি কাজে লাগিয়ে নিজ নিজ দেশকে শিরোপা জেতাতে সহায়তা করবেন। রাশিয়া বিশ্বকাপে এদের নিয়ে মজার একটি উদ্যোগ নিয়েছে মাস্টারকার্ড। বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে এদের দুজন যতগুলো গোল করবেন ঠিক ততটি গোলের প্রতিটির জন্য ১০’ হাজার শিশুর জন্য মাস্টারকার্ড খাদ্য পাঠাবে জাতিসংঘের বিশ্বখাদ্য প্রকল্পের কাছে।

গত বৃহস্পতিবার থেকে এমন একটি উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছে মাস্টারকার্ড। প্রতিষ্ঠানটি ঘোষণা দিয়েছে আসন্ন বিশ্বকাপসহ যে কোনো অফিসিয়াল টুর্নামেন্টে মেসি কিংবা নেইমারে প্রতিটি গোলের জন্য ল্যাটিন আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের স্কুলপড়ুয়া ১০ হাজার শিশু খাবার পাবে। আর সেটা তারা দেবে জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (ডিব্লউএফএ) মাধ্যমে।

স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাব বার্সেলোনার মহাতারকা মেসির গোল করায় জুড়ি নেই। চলতি মৌসুমে লা লিগা তো বটে, ইউরোপের লিগগুলোর মধ্যে শীর্ষ গোলদাতা ছিলেন এই আর্জেন্টাইন। ২০১৭/১৮ মৌসুমে বার্সা থেকে পিএসজিতে যোগ দিয়েছেন নেইমার। ইনজুরির কারণে শেষ তিন মাস না খেললেও দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। দুজনের সামনের বিশ্বকাপে গোল এই বিবেচনায় থাকবে।

এদিকে এ প্রকল্পের অংশ হতে পেরে ভীষণ গর্ববোধ করছেন আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। মেসি বলেন, এমন একটি ক্যাম্পেইনের অংশ হতে পেরে আমি ভীষণ গর্বিত। হাজার শিশুর জীবন পরিবর্তন করতে সাহায্য করবে এটা। আমি আশা করছি, এটা অনেকের মুখে হাসি ফোটাবে।

নেইমারও এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অনেক খুশি, পাশাপাশি নিজেকে সুখী মানুষদের একজন মনে করছেন। নেইমার বলেন, আমরা চাই এই এলাকার প্রতিটি লোকের হাতে এক থালা খাবার, আর বুকভর্তি আশা থাকুক। আমরা লাতিন আমেরিকানরা বড় কোনো বিষয়ে একত্র হতে জানি। আমরা একসঙ্গে ক্ষুধার বিপক্ষে লড়ব।

চলতি বছরের এপ্রিলে সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে ‘জানটোসসমোস১০’ বা ‘টুগেদার উই আর ১০’ নামে হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে উদ্যোগটির সূচনা করে মাস্টারকার্ড। আগ্রহী যে কেউ চাইলে এখানে দান করার সুযোগ পাবেন। সে জন্য টুইটার ও ইনস্টাগ্রামে #ঔঁহঃড়ংঝড়সড়ং১০ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে কিংবা মাস্টারকার্ডের ওয়েবসাইটে গিয়ে সরাসরি দান করতে পারবেন।

প্রতিবার এই হ্যাশট্যাগটি ব্যবহারের বিনিময়ে একজন স্কুলপড়ুয়া শিশুকে খাবার দেবে মাস্টারকার্ড। আর যদি সরাসরি মাস্টারকার্ডের মাধ্যমে এই দান করা হয়, তবে ১০ জনকে খাবার দেবে কোম্পানিটি। ইতোমধ্যেই তারা ৩ লাখ খাবার সরবরাহ করে ফেলেছে।

মাস্টারকার্ডের আঞ্চলিক মুখপাত্র অ্যানা ফেরেলের মতে, এই কাজটি এ অঞ্চলের মানুষের জন্য অনেক উপকারী হবে। প্রায় ৪ কোটির মতো মানুষ লাতিন আমেরিকা আর ক্যারিবিয়ান অঞ্চল মিলে ক্ষুধার জ্বালায় কষ্ট পাচ্ছে, যাদের বেশির ভাগই শিশু। দারিদ্র্য দূর করতে এটি একটি পদক্ষেপমাত্র। মাস্টারকার্ড জানিয়েছে, এর মাঝেই ৩ লাখ খাবার তারা দিয়েছে এ প্রকল্পে।