মেলা’ মানে আমাদের পেটে লাথি দেওয়া, দয়া করে বন্ধ করুন

0
672

সুমন আহমেদ:

“মাএ কয় দিন আগে শেষ হলো বানিজ্য মেলা, এখন আবার ঈদ আনন্দ মেলা হচ্ছে খুুলনা নগরীর শিববাড়ির পাবলিক (জিয়া) হলে। জনাব আপনারা যারা মেলা করেন আপনাদের স্বার্থে একবারও কি ভেবেছেন? আমাদের মত সাধারণ ব্যবসায়ীদের কথা। কি নিদারুন ভাবে আমাদের এক একটা দিন অতিবাহিত হচ্ছে, ব্যাংক লোন, শো-রুম ভাড়া, ট্যাক্স’র টাকা গুনতে গুনতে আমরা দেউলিয়ার পথে। দুইটা ঈদ নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন অাঁকা থাকে। কিন্তু ঈদের আগে এমন ‘মেলা’ মানে আমাদের পেটে লাথি দেওয়া। মনে রাখবেন আমরা লোকাল ব্যবসায়ীরা আপনাদের ই ভাই বন্ধু। তাই মানবতার দাবি নিয়ে আপনাদের অনুরোধ করছি দয়া করে এহেন মেলা বন্ধ করুন।”

উল্লেখিত কথাগুলো ফেসবুকে লিখেছেন খুচরা বিক্রেতা মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন। নগরীর মজিদ স্মরণী রোডে ওয়ান টু নাইন্টি নাইন এর স্বত্ত্বাধিকারী। ঈদের বেচাবিক্রি পড়ে যাওয়ায় লোকসানের কবলে পড়েছেন। বাড়ছে দায়-দেনাও।তাই নিজের ক্ষুব্ধতা, হতাশা, আর্তনাদ তুলে ধরেন সামাজিক মাধ্যমে। তার মতন এভাবেই ক্ষুব্দ খুলনার ব্যবসায়ী সমাজ নিজেদের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরছেন সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে। সেখানে তারা এই ধরণের মেলা আয়োজনকারীদের কাছে অনুরোধ করেন “মেলা” বন্ধ করুন। তবে তাতে কর্ণপাত করছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীদের ওই চক্রটি। বরং অব্যাহতভাবেই তারা সাপের ন্যয় খোলস পাল্টে নতুন নতুন নামে মেলা করেই চলেছে।

এদিকে খুলনা নগরীতে একের পর এক মেলা আয়োজনের কারণে ক্ষতির মুখে পড়ছেন স্থানীয় বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। বছরের অধিকাংশ সময়ে মেলার নামে অর্থ হাতিয়ে নেয় বিভিন্ন চক্র। আর আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হন সাধারণ ব্যবসায়ী সমাজ। এবার নগরীর জিয়া হল চত্বরে আয়োজন করা হয়েছে ঈদ আনন্দ মেলা। ঈদের আগে এমন মেলা আয়োজনে বড় ধরণের ক্ষতির আশংকা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। আর ব্যবসায়ীদের স্বার্থে এই মেলা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন খুলনা চেম্বার অব কমার্সের নেতৃবৃন্দ।

সূত্র জানায়, খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে দেড় মাস ধরে বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চলতি মাসের ১২ তারিখ বাণিজ্য মেলা শেষ হয়েছে। সেই রেস কাটতে না কাটতেই নগরীর প্রাণকেন্দ্র শিববাড়ি মোড়ের পাবলিক হল (জিয়া হল) প্রাঙ্গণটি মাসব্যাপী ঈদ মেলার নামে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পবিত্র রমজান ও ঈদ উপলক্ষ্যে যে মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে তা দীর্ঘদিন যাবৎ চলবে এবং বাণিজ্যিকরূপ ধারণ করছে। এই ঈদ আনন্দ মেলা চলার কারণে বিভিন্ন মার্কেট ও দোকোনে ক্রেতাদের আনাগোণা কমে যাচ্ছে ফলে খুলনার স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

মাসব্যাপী এই ঈদ আনন্দ মেলার বরাদ্দ বাতিল করার জন্য সিটি কর্পোরেশন এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতৃবৃন্দ। অন্যথায় ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে আন্দোলনের পথ বেছে নিতে বাধ্য হবেন, এমন হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেছেন তারা।

এক বিবৃতিতে চেম্বার নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘সরকারের প্রজ্ঞাপন আছে যে, স্থানীয় চেম্বারের অনুমতি ব্যতীত চেম্বারের আওতাধীন স্থানে কোন মেলা অনুষ্ঠান করা যাবে না। এখানে উল্লেখ্য যে, খুলনার স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট, ট্যাক্স ও হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদান করে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করে থাকে পক্ষান্তরে মেলার ব্যবসারীরা বাহির থেকে এসে ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট, ট্যাক্স ও হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদান না করে কতিয়পয় ব্যক্তিকে ম্যানেজ করে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করে থাকে এতে করে পণ্যের মূল্যে তারতম্য হয়ে থাকে। এভাবে উক্ত ঈদ আনন্দ মেলা চলতে থাকলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হতে পারে আশঙ্কা করে পাবলিক হলে চলমান ঈদ আনন্দ মেলা অনুষ্ঠান বন্ধ করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনসহ সর্বমহলের নিকট জোড়ালো আবেদন জানিয়েছেন তারা।’

বিবৃতিদাতারা হলেন খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি কাজি আমিনুল হক, উর্দ্ধতন সহ-সভাপতি শরীফ আতিয়ার রহমান, সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বিশ্বাস বুলু, সহ-সভাপতি মোঃ মোস্তফা জেসান ভুট্টো, পরিচালকবৃন্দ শেখ আসাদুর রহমান, গোপী কিষণ মুন্ধড়া, আলহাজ্ব মোঃ মফিদুল ইসলাম টুটুল, আলহাজ্ব মোঃ মোশাররফ হোসেন, এম এ মতিন পান্না, কাজী মাসুদুল ইসলাম, জেড এ মাহামুদ ডন, জোবায়ের আহমেদ খান (জবা), মোঃ আবুল হাসান, মোঃ বদরুল আলম মার্কিন, মোঃ মোস্তফা কামাল পাশা, ফকির মোঃ সাইফুল ইসলাম, মোঃ সিরাজুল হক, শেখ আল্লামা ইকবাল তুহিন, শেখ মোঃ গাউসুল আজম, মোঃ মনিরুল ইসলাম মাসুম, খান সাইফুল ইসলাম, শেখ মনিরুল ইসলাম, মোঃ মাহবুব আলম।