মুঠোফোনে প্রবাসীর সাথে প্রেম এবং বিয়ে, সাড়ে ৮ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

0
183

বাগেরহাট প্রতিনিধি:
বাগেরহাটে মুঠোফোনে প্রথমে প্রেম ও বিয়ে করে প্রবাসী লতিফ ফকিরের ৮ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নাজির মোল্লা ও তার মেয়ে সীমার বিরুদ্ধে। এদিকে টাকা হারিয়ে পাগল প্রায় প্রবাসী লতিফ ফকির ও তার বিধোবা মা হালিমা বেগম। হয়ত টাকা ফেরত নয়ত সীমাকে ছেলের বউ হিসেবে তার ঘরে আসার দাবি জানিয়েছেন লতিফের বৃদ্ধ মা হালিমা বেগম। প্রতারণার শিকার কাতার প্রবাসী লতিফ ফকির বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার মৃত মোঃ জামিরের ছেলে।
কাতার প্রবাসী লতিফ ফকির বলেন, ২০১৭ সালের শেষের দিকে আমার খালাতো ভাইয়ের স্ত্রী আসমা বেগমের মাধ্যমে গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দি ইউনিয়নের খাগড়াবাড়ি গ্রামের নাজির মোল্লার মেয়ে সীমার সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর থেকে আমি নিয়মিত সীমার সাথে মুঠোফোনে কথা বলি। এর মাঝে বিভিন্ন কারণ অকারণে সীমা ও তার পরিবারকে আমি কয়েক লক্ষ টাকা দেই। এক পর্যায়ে সীমার সাথে আমার বিয়ের কথা হয়। সেই অনুযায়ী সীমার বাড়িতে আমার মাসহ স্থানীয় কয়েকজন আত্মীয় ও মধ্যস্থতাকারী আসমা বেগমের উপস্থিতিতে মুঠোফোনে আমাদের বিয়ে হয়। ওই এলাকার কাজী হেদায়েত হোসেন আমাদের বিয়ে পড়ান। বিয়ের আগে ও বিয়ের পরে সব মিলিয়ে আমি আমার স্ত্রী ও শশুরকে আট লক্ষ ৪৩ হাজার টাকা দিয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে চার লক্ষ টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে আমার শশুর নাজির মোল্লার কাছে সাড়ে চার লক্ষ টাকা পাঠিয়েছি। বিকাশের মাধ্যমে দুই লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি। আমার স্ত্রীকে মুঠোফোন ও আংটি বানানোর জন্য এক লক্ষ ৪৩ হাজার টাকা দিয়েছি। কিন্তু মুঠোফোনে বিয়ে হওয়ার কয়েকদিন পরেই আমার স্ত্রী সীমা আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এখন সে আর আমার সাথে যোগাযোগ করে না। আমি ফোন দিলে আমাকে গালিগালাজ করে। প্রবাসে গায়ের রক্ত পানি করা টাকা আমার শশুর ও স্ত্রীকে দিয়েছি। এখন সে আমার সাথে প্রতারণা করছে। আমি টাকা ফেরত চাই, নয়ত সীমাকে চাই। লতিফ ফকিরের বৃদ্ধ মা হালিমা বেগম বলেন, আমরা ওই বাড়িতে গিয়ে সীমার সাথে আমার ছেলে কাতার প্রবাসী লতিফ ফকিরের বিয়ে দিয়েছি।সীমা ও সীমার বাবা নাজির মোল্লাকে আমার সন্তান প্রায় সাড়ে আট লক্ষ টাকা দিয়েছে।এখন তারা আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করছে। আমি আমার ছেলের টাকা ও ছেলের বউকে ফেরত চাই।
প্রতারণার বিষয়টি অস্বীকার করে সীমার বাবা নাজির মোল্লা বলেন, আমার মেয়ের সাথে লতিফ ফকিরের বিয়ের কথা চলছিল। এই কথা চলাচলির সময় লতিফ আমার মেয়ের জন্য প্রায় ৪ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার পাঠায়। পরবর্তীতে বিয়ে না হওয়ায় আমরা সেই স্বর্ণালঙ্কার ফেরত দিয়ে দিয়েছি। মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী গোলাম কবির বলেন, প্রবাসী লতিফ ফকিরের মা হালিমা বেগম একটি লিখিত অভিযোগ নিয়ে আসছিলেন। যেহেতু ঘটনাটি অন্য এলাকার, তারপরেও বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।