মাদক বিক্রেতাদের ধরতে পৃষ্ঠপোষকের লিফলেট ও পুরস্কার ঘোষণা ! জেলায় বিক্রেতা ১১৮ : পৃষ্ঠপোষক ১২ : সহায়তায় ১২ পুলিশ

0
591

কামরুল হোসেন মনি:
রূপসা উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়নে মাদক বিক্রেতাদের ধরতে লিফলেট বিতরণ ও পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। মাদক চোরাকারবারীর পৃষ্ঠপোষক হিসেবে তালিকায় থাকায় ব্যক্তির এ ঘোষণা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টিতে এলাকাবাসীর মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে। খুলনার উপজেলাগুলোতে মাদক চোরাকারবারীর পৃষ্ঠপোষক তালিকার ১২ জনের মধ্যে ওই ব্যক্তির নাম রয়েছে। এছাড়া মাদকের সহায়তাকারী হিসেবে জেলার কয়েকটি থানার ওসিসহ ১২ পুলিশ সদস্যের নাম রয়েছে। মাদক বিক্রেতা রয়েছে ১১৮ জন।
রূপসা উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আরিফুজ্জামান লিটন বলেন, এলাকায় মাদক বিক্রেতা মাদক স¤্রাট মুশা ও হ্যাপিকে ধরতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। গত ২ জুন মাদক বিক্রেতাদের ধরতে পুরস্কার ঘোষণা করে লিফলেট বিতরণ করা হয়। লিফলেটে উল্লেখ করা হয় মাদক বিক্রেতা মুশা ও হ্যাপীকে ধরিয়ে দিতে পারলেই ২০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। তিনি বলেন, একটি মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে নেমেছে। তারই অংশ হিসেবে মাদকের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে তালিকায় তার নামটি উল্লেখ করা হয়েছে।
রূƒপসা উপজেলা আইচগাতী ইউনিয়নবাসী জানান, গত ২ জুন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মনিরুজ্জামান মনি ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ আরিফুজ্জামান লিটন লিফলেটে নাম উল্লেখ করে মাদক বিক্রেতা মুশা ও হ্যাপিকে ধরিয়ে দিতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন। পাশাপাশি মাদকবিরোধী সমাবেশ করেন। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা কৃষক লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আশরাফুজ্জামান বাবুল। তিনি আইচগাতী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লিটনের বড় ভাই।
সূত্র মতে, গোয়েন্দা তালিকা অনুযায়ী খুলনার ৯ উপজেলায় মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারকারী হিসেবে রয়েছে ১১৮ জনের নাম। এর মধ্যে রূপসায় ২২ জন, তেরখাদায় ২২ জন, দাকোপে ১৮ জন, পাইকগাছায় ৭ জন, কয়রায় ১৪ জন, ডুমুরিয়ায় ৯ জন, বটিয়াঘাটায় ৬ জন, দিঘলিয়ায় ৭ জন ও ফুলতলায় ১২ জনের নাম আছে। এই তালিকার বাইরে পৃষ্ঠপোষক হিসেবে জনপ্রতিনিধিসহ ১২ জনের নাম রয়েছে। তালিকায় বিভিন্ন উপজেলায় ইউপি চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ নেতার নামও উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া মাদক চোরাকারবারী ও সরবরাহ কাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তাকারী হিসেবে ১২ পুলিশ সদস্যের নাম রয়েছে।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় এর উপ-পরিচালক মোঃ রাশেদুজ্জামান বলেন, রূপসা আইচগাতীতে মাদক বিক্রেতা মুছা ও তার স্ত্রী হ্যাপি চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। আমরা বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করছি। এখন তারা গা ঢাকা দিয়ে আছে।