মাদকবিরোধী অভিযানে একমাসে সফল কেএমপি’র কমিশনার

0
647

নিজস্ব প্রতিবেদক : খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) এর ভারপ্রাপ্ত কমিশনার সরদার রকিবুল ইসলাম এর নির্দেশে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। নগরীতে মাদকের বিরুদ্ধে উদ্বুদ্ধকরণ সভা, অভিযানে সরাসরি নেতৃত্ব দিয়ে আলোচনায় এসেছেন তিনি। গত এক মাসে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ২৩৯ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার ও ব্যাপক মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। কেএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (আরসিডি) শেখ মনিরুজ্জামান মিঠু শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, কেএমপির পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) সরদার রকিবুল ইসলাম খুলনা মহানগরীতে মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় তাঁর নেতৃত্বে ও নিবিড় তত্ত্বাবধানে শুরু হয় মাদক বিরোধী অভিযান; যা বর্তমানে চলমান আছে। এসকল অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ইয়াবা ২৭১৮ পিস, গাঁজা ২০৯৫ গ্রাম, ফেন্সিডিল- ১২০ বোতল, চোলাই মদ- ২১৩.৫ লিটার, অ্যালকোহল- ২.৫ লিটার, বিদেশী মদ- ২ বোতল, বিয়ার- ২৪ ক্যান, কেরু- ৩ বোতল, হুইস্কি ৩ বোতল ও ডিনেচার্ড স্পিরিট ৫ লিটার।
সূত্র জানায়, মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের আলোর পথে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছেন পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) সরদার রকিবুল ইসলাম। একই সাথে অসাধু পুলিশ সদস্যদের প্রতিও কঠোর বার্তা দিয়েছেন।
নগরবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি জানিয়েছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। খুলনা সিটি মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক ও খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলও খুলনা নগরকে মাদকমুক্ত করার কথা জানিয়েছেন।
খুলনাকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের আর ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকের কারণে সমাজে আজ সর্বস্তরে অশান্তি, কলহ, দ্বন্দ্ব। সুতরাং মাদক ব্যবসা ও সেবন করা বন্ধ করতে হবে। খুলনা শহরে কোন মাদক ব্যবসায়ীর স্থান হবে না।
অসাধু পুলিশ সদস্যের উদ্দেশ্যেও সতর্কবার্তা দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার। তিনি জানান, সাধারণ লোকজন ধরে তাদের পকেটে মাদকদ্রব্য ঢুকিয়ে মাদক মামলায় চালান দেওয়া চলবে না। যদি কোন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ কিংবা ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করার প্রমাণ পাওয়া যায় তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি কোন পুলিশ সদস্য মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে যোগসাজশ করেন তাহলে কার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক ব্যবসায়ী যেই হোক না কেন, তাকে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।