মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা ছদ্মবেশে মাদক বিক্রিতে সক্রিয় : ইজিবাইক চালকরা ইয়াবার ডিলার

0
438

কামরুল হোসেন মনি:
দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান থাকায় ইয়াবা ব্যবসায়ীরা ছদ্মবেশে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। কেউ ইজিবাইক চালিয়ে কেউ বা চপের দোকানের আড়ালে এ ব্যবসা পরিচালনা করছেন। জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ৭ হাজার ৬১০ পিস ইয়াবা এক ইজিবাইক চালকের বাসা থেকে উদ্ধারের পর বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এর আগে নগরীতে র‌্যাবের অভিযানে চপের দোকানীকে ইয়াবাসহ আটক করেন।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ রাশেদুজ্জামান বলেন, দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযানে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন কাজের আড়ালে ছদ্মবেশে এই মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে এই মাদক ব্যবসায় নারীদের সম্পৃক্ততা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। রোববার প্রথমে ১১০ পিস ইয়াবাসহ মোঃ মিলন মল্লিককে আটক করা হলে তার স্বীকারোক্তিতে অপর ইজিবাইক চালক সেলিম গাজীর বাসা থেকে ওই দিন রাতে সাড়ে ৭ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। অভিযান টের পেয়ে সেলিম গাজী পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী সুরমাকে আটক করি। তিনি বলেন, এ থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বিভিন্ন কাজের ছদ্মবেশে ইয়াবা পাইকারি ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছেন। এ মামলায় তদন্তের জন্য ‘খ’ সার্কেলের পরিদর্শক সাইফুর রহমার রানাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সংস্থার ‘খ’ সার্কেলের পরিদর্শক মোঃ সাইফুর রহমান রানা বলেন, ইজিবাইক চালকরা এখন ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত। ইয়াবা বিক্রেতা মিলন ইজিবাইক চালক। তিনি আর এক ইজিবাইক চালক সেলিম গাজীর কাছ থেকে ইয়াবা এনে বিভিন্ন জায়গায় সাপ্লাই দিতেন। ধারণা করা হচ্ছে এর সাথে শহরের অনেক ইজিবাইক চালক এ পেশার আড়ালে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করছেন। আটককৃত মিলনকে আদালতে রিমান্ড চাওয়া হবে।
জানা গেছে, দেশব্যাপী মাদকবিরোধী র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের কারণে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রেতারা বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়ে এর আড়ালে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন। গত ২৯ জুন রাতে নগরীর রূপসা মাছ বাজার সংলগ্ন শ্মশানঘাট এলাকায় র‌্যাব-৬ এর একটি টিম অভিযান চালান। ওইখানে মিটু ভাইয়ের খাসির চপ নামক দোকানে অভিযানে ইয়াবাসহ রিপন ও নয়ন নামে দুই ইয়াবা বিক্রেতাকে আটক করেন। তারা খাসির চপ, ফুচকা, চটপটি বিক্রির আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে এই ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করতেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৭৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। অভিযানে নেতৃত্বে দেন র‌্যাব-৬ এর স্পেশাল কোম্পানি কমান্ডার এনায়েত হোসেন মান্নান।
সূত্র মতে, গত ১ জুলাই রাতে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে নগরীর লবণচরা থানাধীন দারোগা লীজ নামক রায়পাড়া রোডস্থ মিন্না’র বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া ইজিবাইক চালক সেলিম গাজীর ঘর তল্লাশি চালিয়ে ৭ হাজার ৫শ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। এর সময় সেলিম গাজীর স্ত্রী সুরমাকে আটক করেন। ওই এলাকার বাসিন্দারা জানান, মিন্না’র বাড়িতে ইজিবাইকের গ্যারেজ রয়েছে। সেখানে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বহিরাগত লোকের আনাগোনা চলে। সেখানে বসে এই ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করা হয়। গত ২-৩ মাস ধরে ওই গ্যারেজে বহিরাগতদের আনাগোনা বৃদ্ধি পেতে থাকে। পলাতক ইয়াবা ডিলার সেলিম গাজী মাসখানেক আগে মিন্না’র বাড়িতে ভাড়া নেন। এর আগে সেলিম গাজী নতুন বাজার বাঁশপট্টি এলাকায় বসাবস করতেন। অভিযানে জব্দকৃত তার ন্যাশনাল আইডি কার্ডে রূপসা উপজেলার রহিমনগর এলাকার বাসিন্দা মৃত মান্নান গাজীর পুত্র উল্লেখ রয়েছে। ওই এলাকার বাসিন্দারা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, এই ইজিবাইক গ্যারেজের আড়ালে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করে আসলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেতো না। অভিযানে পর এর সত্যতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ১৫-২০টি ইজিবাইক রাতে এখানে থাকে।