মাত্র এক ধাপের অগ্রগতিও কৃতিত্বপূর্ণ

0
442

ক্রীড়া প্রতিবেদক :
টেস্ট র‍্যাংকিংয়ে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের ৯ থেকে আটে উঠে আসার ব্যাপারটিকে এমন উল্লেখযোগ্য কিছু বলে মনে নাও হতে পারে অনেকের। কিন্তু তথ্য-উপাত্ত এবং পরিসংখ্যান কিন্তু এটিকে ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ে উত্তরণের চেয়েও বড় অর্জন হিসেবে উপস্থাপন করার পক্ষে যথেষ্ট। সীমিত ওভারের ক্রিকেট সাফল্যে মজে থাকা বাংলাদেশকে টেস্টে মাত্র এক ধাপ ওপরে উঠতেই যে পাড়ি দিতে হয়েছে কত চড়াই-উতরাই! এবার আইসিসির টেস্ট র‍্যাংকিংয়ের বার্ষিক হালনাগাদে ৪ রেটিং পয়েন্ট যোগ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পেছনে ফেলে এখন ৭৫ তাদের। অথচ এই জায়গাটায় পৌঁছতে তাদের শুরু করতে হয়েছিল একেবারে শূন্য থেকেই।

আক্ষরিক অর্থেই তাই। ২০১২-র জানুয়ারি থেকে ২০১৩-র ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে মাত্র দুটি টেস্ট ম্যাচই খেলার সুযোগ হয়েছিল বাংলাদেশের। দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে সেই দুই টেস্টেই হারায় গুরুতর প্রভাব পড়েছিল ২০১৩-র বার্ষিক হালনাগাদেও। ওই সময় বাংলাদেশের কোনো রেটিং পয়েন্টই ছিল না। এর আগে বছর দুয়েক ধরে টেস্ট ক্রিকেটে ভীষণ দুর্বিষহ সময়ও পার করে আসছিল বাংলাদেশ। ২০১১ সালে জিম্বাবুয়ের টেস্ট প্রত্যাবর্তনে মুখোমুখি বাংলাদেশ হারের দগদগে ক্ষত নিয়ে নেমে গিয়েছিল টেস্ট র‍্যাংকিংয়ের ১০ নম্বরেও। এরই ধারাবাহিকতায় নড়বড়ে বাংলাদেশ ২০১৩-র হালনাগাদে শূন্য থেকে শুরু করে। সেখান থেকে গত পাঁচ বছরে উত্তরণের খাড়া অনেক সিঁড়িই ডিঙিয়ে জমা করেছে ৭৫ রেটিং পয়েন্ট।

তাও আবার কোন বাংলাদেশ? যেখানে আলো ঝলমলে বিপিএল টি-টোয়েন্টির বিপরীতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট অবকাঠামো মজবুত নয় বলে নিত্য হাহাকার চলত। যেখানে ওয়ানডে সাফল্যের জোয়ারে ভেসে যেতে থাকা দেশে টেস্টে ২০ উইকেট নেওয়ার মতো বোলার তেমন না থাকার বেদনা দীর্ঘশ্বাস বাড়িয়ে চলে। তাই এবার আইসিসির ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ের বার্ষিক হালনাগাদে আগের সাত নম্বর অবস্থানেই থাকা বাংলাদেশের ৩ রেটিং পয়েন্ট বাড়ার চেয়ে টেস্টে এক ধাপ ওপরে ওঠাও কম কৃতিত্বের দাবিদার নয়।

বাংলাদেশের ওপেনার তামিম ইকবাল মনে করিয়ে দিলেন সেটিই, ‘একেবারে শূন্য থেকে শুরু করে এখন ৭৫ রেটিং পয়েন্ট, এটাও যথেষ্ট কৃতিত্বপূর্ণ। এর অর্থই হলো মাঝের সময়টায় আমরা উন্নতির সঠিক রাস্তাটা চিনতে পেরেছি। তবে আরো ভালো করার সামর্থ্য আমাদের ছিল। আশা করি, আমরা আরো ভালো করবও।’ পাশাপাশি তাঁর বিবেচনায় ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের উত্তরণকেই এগিয়ে রাখলেন বেশি, ‘একটা সময় ছিল যখন আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে হলে আমাদের র‍্যাংকিংয়ে উন্নতি করতেই হতো। ওই সময়টায় চাপের মধ্যেও ভালো খেলে আমরা কিন্তু সেটি সম্ভব করেছি। ওটা উদ্‌যাপন করার মতো দারুণ একটি ব্যাপারই ছিল। টেস্টে এক ধাপ ওপরে ওঠাও কৃতিত্বপূর্ণ। তাই বলে পাগল হয়ে যাওয়ার মতো কিছু নয়।’

আগের ১২ বছরে যেখানে মাত্র তিনটি টেস্টে জয়ের মুখ দেখেছিল বাংলাদেশ, সেখানে গত পাঁচ বছরেই ধরা দিয়েছে সাতটি জয়। এর মধ্যে দেশের মাটিতে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পাশাপাশি গত বছর নিজেদের শততম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকেও হারিয়েছে তাদের নিজেদের মাটিতে। চেনা আঙিনার বাইরে গিয়েও লড়াইয়ে হাত পাকানোর চেষ্টার বার্তা ছিল সেই জয়ে। আরো উত্তরণের জন্য এখন থেকে বাইরে সাফল্যের চাহিদাও বেশি। কারণ আইসিসির ভবিষ্যৎ সফরসূচি যা, তাতে আগামী পাঁচ বছরে দেশের বাইরেও প্রচুর টেস্ট আছে বাংলাদেশের।

মাত্রই কিছুদিন আগে কলকাতায় আইসিসির টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সভায় যোগ দিয়ে আসা বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরীর আশা, সামনে প্রচুর খেলার সুযোগও কাজে লাগাবেন সাকিব আল হাসান-তামিম ইকবালরা, ‘‘বছর-দুয়েক আগে আইসিসিতে প্রতিটি দেশকে একটি করে প্রেজেন্টেশন দিতে হয়েছিল। সেখানে বিসিবির প্রেজেন্টেশনে বলা হয়েছিল, ‘আমরা আরো বেশি খেলতে চাই।’ সেই সুযোগটা আমরা পাচ্ছিও। ২০১৯-২০২৩ পর্যন্ত ৪০টির মতো টেস্ট আছে বাংলাদেশের। আশা করি, খেলোয়াড়রা সুযোগটি কাজে লাগাবে।’’

খেলোয়াড়দের প্রতি সুযোগ কাজে লাগানোর আশায় ভরসা আছে হাবিবুল বাশারেরও। সেই সঙ্গে এখন ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের মান নিয়েও আশ্বস্ত এই সাবেক অধিনায়ক, ‘ঘরোয়া ক্রিকেট ভালো হচ্ছে এখন। ঘরোয়া পর্যায়ে আমাদের উইকেটকে আদর্শ বলব না, তবে আগের চেয়ে ভালো হয়েছে। পাঁচ বছর আগের তুলনায় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এখন ব্যাটসম্যানরা বেশি সেঞ্চুরি করছে। বোলাররাও উইকেট পাচ্ছে বেশি। ঘরোয়া ক্রিকেটের এই অবস্থা দেখলে বুঝবেন, আমরা ঠিক পথেই আছি।’