মাছ শিকার নিষিদ্ধের ৩ সপ্তাহ পার হলেও শরণখোলার জেলেরা চাল পায়নি

0
468

শেখ মোহাম্মদ আলী : মা ইলিশ রক্ষায় নদনদীতে মাছ শিকার নিষিদ্ধের ৩ সপ্তাহ পার হলেও শরণখোলার জেলেরা সরকারের খাদ্য সহায়তার চাল এখনো পায়নি। সময়মত চাল বিতরণ না হওয়ায় দায়িত্বশীলরা পরস্পর বক্তব্য দিচ্ছেন। মাছ ধরতে না পারায় জেলে পরিবারের মাঝে চলছে হাহাকার।
উপজেলার জেলে অধ্যুষিত রাজেশ্বর, জিলবুনিয়া ও খোন্তাকাটা এলাকা ঘুরে জেলেদের অভাব অনটনের চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। রাজৈর এলাকার মৎস্যজীবি নেতা দুলাল ফরাজী জানান, দেশে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রজনন মৌশুমে মা ইলিশ রক্ষায় সরকার ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত নদনদী ও সাগরে ২২ দিনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এ সময় জেলেদের খাদ্য সহায়তায় সরকার চাল দিয়ে থাকে। কিন্তু শরণখোলায় ৩ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়নি ফলে জেলেরা অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছে। রাজেশ্বর গ্রামের জেলে মোফাজ্জেল বলেন, সরকার মোগো মাছ ধরতে দেয়না আবার সময় মত মোগো চাউলও দেয়না মোরা এহোন খামুকি? মোরা মহাজনের কাছ থেকে চড়াসুদে টাকা নিয়া সংসার চালাইতাছি। এ ভাবে অনেক জেলে তাদের কষ্টের কথা বলেন।
৪ নং সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন বলেন, পূজার বন্ধের জন্য চাউল গুদাম থেকে আনা যায়নি। ১ নং ধানসাগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাইনুল ইসলাম টিপু বলেন, চালের ডিও দেরীতে ১৮ অক্টোবর পাওয়ায় চাউল উত্তোলন করা যায়নি। ২নং খোন্তাকাটা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জাকির হোসেন মহিউদ্দিন বলেন, জেলেদের তালিকা যাচাই বাছাই চলছে এ কাজ শেষ হলে ২/১ দিনের মধ্যে চাল দেয়া যাবে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার রায় বলেন, শরণখোলায় তালিকাভূক্ত ৫৩০০ জেলের মধ্যে ২২৮৫ জন জেলে খাদ্য সহায়তা পান। তাদের মাঝে চাল বিতরণের জন্য অনেক আগেই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
উপজেলার রায়েন্দা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা দেবদূত রায় বলেন, আগামী মঙ্গলবার চাল ডেলিভারী দেওয়া হবে।
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিংকন বিশ্বাস জানান, জেলেদের চাল সঠিক সময়ে বিতরণের জন্য চেয়ারম্যানদের অনুকুলে ডিও দেয়া হয়েছে। কি কারণে চাল বিতরণে দেরী হয়েছে তা তিনি খ্োঁজ নিয়ে দেখবেন।