মহাপরিকল্পনা নিয়ে উন্নয়নের পথে কেডিএ : বেড়েছে পরিধি

0
1195

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:
মহাপরিকল্পনা নিয়ে বাগেরহাটের মংলা থেকে যশোরের নওয়াপাড়া পর্যন্ত পরিধি বেড়েছে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)’র। ইতোমধ্যে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় পরিধি বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে। কেডিএ’র বর্ধিত এসব স্থানে শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, পাঁচ তারকা হোটেল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য বিভিন্ন দফতরকে চিঠি দেয়া হয়েছে। কেডিএ কর্তৃপক্ষের দাবি খুলনাঞ্চলের ভবিষ্যত উন্নয়নের কথা চিন্তা করে মূলত এ প্রতিষ্ঠানটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তবে বর্ধিত ভূমির ব্যবহার বাড়ানোটাই হবে মূল লক্ষ্য।
এদিকে মহাপরিকল্পনার ফলে কেডিএ’র পরিধি বেড়ে প্রায় দ্বিগুন হচ্ছে। তবে পরিকল্পনা বা প্রকল্প গ্রহণ করার পর তা বাস্তবায় করা অনেকটা চ্যালেঞ্জের বলে মনে করেন এঅঞ্চলের নাগরিক সমাজ। তারা এটির যথাযথ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে।
খুলনা মহানগরীর বাগমারা এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা নেয়ামূল হক ক্ষোভের সঙ্গে বললেন, ‘পরিকল্পিত নগরী গড়ে তোলার ধারণা থেকেই গঠন করা হয় খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)। এরপর কেডিএ ১৯৬১ সালে ২০ বছর মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করে। সময় গড়িয়েছে অনেক। খুলনা নগরীর পরিধি ও জনবসতি বেড়েছে। মানুষ নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে বাড়িঘর করছে। অপরিকল্পিতভাবে নগর বাড়ছে। শুনেছি, কেডিএ একটি মহাপরিকল্পনা তৈরি করছে। এতে নগরীর পরিধি বাড়ছে। তবে পরিকল্পনা করলেই চলবে না, এর বাস্তবায়ন করতে হবে।’
প্রায় একই সুরে কথা বলেন বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ-উজ-জামান। তিনি বলেন, ‘যেকোনো কাজের জন্যই পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। আর মহানগরী উন্নয়নের পরিকল্পনা তো চাই-ই চাই। কিন্তু পরিকল্পনাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন পরিকল্পনার যথাযথ বাস্তবায়ন করা।
এদিকে, দীর্ঘ ৫৬ বছর পর খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। নতুন পরিধির আওতায় মংলা পৌরসভাসহ ২০টি ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এতে নতুন করে ৩৬৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা বাড়ছে। আগে কেডিএর আয়তন ছিল ৪৫১ বর্গকিলোমিটার। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী কেডিএর আয়তন হবে ৮১৮ বর্গকিলোমিটার।
রূপসা নদীর পূর্ব পাড়ের হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি, দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর মংলার রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (ইপিজেড), বন্দরের ট্্রানজিট কার্যক্রম, সুন্দরবন কেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পের সম্প্রসারণ ও মংলা পৌর অঞ্চল কেডিএ’র আওতায় আসছে।
খুলনার পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ১৯৬১ সালে কেডিএর যাত্রা শুরু হয়। ওই সময়ই নেওয়া হয় ২০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা (১৯৬১-৮১)। প্রতিষ্ঠার পর থেকে খুলনা শহরকে কেন্দ্র করে এর আশপাশের অঞ্চলগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়। এরপর স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী মংলা পৌরসভার একটি ইউনিয়নের চারটি মৌজা, মংলা উপজেলার বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের ছয়টি মৌজা, বাগেরহাট জেলা সদরের রাখালগাছি ও খানপুর ইউনিয়নের ১২টি মৌজা, ফকিরহাট উপজেলা বেতাগা, পিলজংগ, লকপুর ও শুভদিয়া ইউনিয়নের ২৮টি মৌজা, রামপাল উপজেলার গৌরম্ভা, হুকড়া, রাজনগর, রামপাল, উজলকুড়, বাইনতলা ও বাঁশতলী ইউনিয়নের ৮১টি মৌজা এবং খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা, গঙ্গারামপুর, আমিরপুর, বালিয়াডাঙ্গা ও ভান্ডারকোট ইউনিয়ন কেডিএর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
নতুন পরিকল্পনায় নগর আবাসিক জোন,বাণিজ্যিক জোন,কৃষি জোন, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর বসতি,নোনা পানির মৎস্যচাষ জোন,কৃষি জোন,পর্যটন জোন, বন্দর সুবিধা জোন, নদী ও খাল তথা পানি ভরাট এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে।
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাজী মোঃ সাবিরুল আলম বলেন, ‘মংলা এবং নোয়াপাড়াকে অন্তর্ভুক্ত করে এখন আমাদের এলাকা ৪১ কিলোমিটার। এই ব্যপক এলাকায় আমাদের ভূমি ব্যবস্থনাটাই মূল বিষয়।’
মংলা মাষ্টার প্ল্যানের আওতায় যশোরের নওয়াপাড়া থেকে দক্ষিণে মংলা ছাড়াও পূর্বে খুলনার রুপসা ও দিঘলিয়া উপজেলা এবং পশ্চিমে বটিয়াঘাটা উপজেলার কৈয়া বাজার পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে কেডিএর সীমানা।
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্ল্যানিং অফিসার প্রকৌশলী কাজী এনায়েত হোসেন বলেন, ‘সম্পূর্ণ কাজটা আমরা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করার পর সেখান থেকে এটার অনুমোদন দিয়েছে। শুধু একটা গেজেট প্রকাশ হওয়ার অপেক্ষায় আছে।’
কেডিএর সীমানা বৃদ্ধির ফলে খুলনাঞ্চলে নগরায়ন হবে পরিকল্পিতভাবে এবং উন্নয়ন দৃশ্যমান হবে। এছাড়া পদ্মা সেতু নির্মিত হওয়ার পর খুলনাঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের চাপ বাড়বে, সে সব মোকাবেলায় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানান,
কেডিএ চেয়ারম্যান ব্্িরগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আহ্সানুল হক মিয়া বলেন, ‘আমরা ময়ূরী আবাসিক প্রকল্প একটু সাইডের দিকে নিয়েছি। এরপরের প্রকল্পটা আরেকটু পাশের দিকে নেবো। মাঝখানের জায়গাটা অটোমেটিক উন্নয়ন হয়ে যাবে।’ মাষ্টার প্ল্যানের আওতায় খুলনা-মংলা মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থিত ফকিরহাট উপজেলা লখপুর ইউনিয়ন থেকে মংলা পোর্ট পৌরসভা পধর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলের জন্য উন্নয়ন প্ল্যান প্যাকেজ প্রস্তুত করা হয়েছে।