মশিয়ালীর থ্রি মার্ডারের ৩ সহদরকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে নগর ডিবি পুলিশ

0
216

ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি:
খানজাহান আলী থানাধীন মশিয়ালী গ্রামে আলোচিত থ্রি মার্ডার হত্যা মামলার প্রধান মাষ্টারমাইন্ড খানজাহান আলী থানা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা শেখ জাকারিয়া, তার ভাই শেখ মিল্টন এবং রাজুকে (৯ অক্টোবর) শুক্রবার সকালে ঢাকার মীরপুর-১৪ এর বহুতল ভবনের একটি কক্ষ থেকে আটক করেছে মহানগর ডিবি পুলিশ। মশিয়ালী গ্রামের আলোচিত থ্রি মার্ডারের প্রায় তিন মাসের মধ্যে হত্যাকান্ডের মুলহোতাদের গ্রেফতার করলো মহানগর ডিবি পুলিশ। এর আগে হত্যাকান্ডের অপর মাষ্টারমাইড ৩ সহদরের ১ জন জাফরিনকে ডিবি যশোর থেকে গ্রেফতার করে। এই মামলায় এজাহারভুক্ত ২২ আসামীর মধ্যে প্রধান মাষ্টারমাইন্ডসহ ১৩ আসামী গ্রেফতার হলো। প্রধান মাষ্টারমাইন্ড জাকারিয়া-মিল্টনের গ্রেফতারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার সকালে এলাকাবাসী মিষ্টি বিতরণ করে এবং আসামীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে।
পুলিশের বিভিন্ন সুত্রে জানাগেছে, মশিয়ালী গ্রামের আলোচিত থ্রি মার্ডারের মূলহোতা জাকারিয়া এবং তার ভাই মিল্টন ঢাকার মীরপুর-১৪’তে আঠারতলা ভবনের একটি ফ্লাট ভাড়া নিয়ে লুকিয়ে আছে এমন তথ্য পুলিশ জানতে পারে। পরবর্তীতে পুলিশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে মোবাইল ট্রাকিং এর মাধ্যমে নিশ্চিত হয় মীরপুরের ঐ ভবনের একটি ফ্লাটে জাকারিয়া, মিল্টন এবং রাজুর অবস্থান নিশ্চিত হয়। ডিবি পুলিশ নজরদারীতে রাখে কক্ষটি (৯ অক্টোবর) শুক্রবার সকালে ফ্লাটটিতে অভিযান চালিয়ে জাকারিয়া, মিল্টন ও রাজুকে স্থানীয় আইন শৃংখলা বাহিনীর সহযোগিতায় কেএমপি ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে। এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির ইন্সপেক্টর এনামুল হক জানিয়েছেন, মশিয়ালী ট্রিপল মার্ডারের পর শেখ জাকারিয়া, মিল্টন ও রাজু আত্মগোপন করে। মহানগর ডিবি পুলিশের একাধিক টীম তাদের গ্রেফতারে কাজ করে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে জাকারিয়া, মিল্টন ও রাজুকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামীদের ঢাকা থেকে খুলনায় নিয়ে আসা হচ্ছে। খুলনায় আসার পর আসামীদেরকে হত্যাকান্ডের কারণ, হত্যার সাথে কে কে জড়িত এবং ব্যবহৃত অস্ত্রের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তিনি বলেন মামলার এজাহারভুক্ত ২২ আসামীর মধ্যে এর আগে ১০জন সহ মোট ১৩ আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিকে হত্যাকান্ডের মূলহোতা জাকারিয়া-মিল্টন এবং রাজু গ্রেফতারের খবর মশিয়ালী গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে ৯ অক্টোবর শুক্রবার এলাকাবাসী মিষ্টি বিতরণ করে। আছরবাদ বৃহত্তর মশিয়ালী গ্রামবাসীর উদ্যোগে ঘাতকদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবীতে মিছিল বের করে। মিছিলটি মশিয়ালী মাদ্রাসা প্রাঙ্গন থেকে শুরু হয়ে খুলনা যশোর মহাসড়কের আফিল ও ইষ্টার্ণগেটের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ইষ্টার্ণগেটে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল পরবর্তী সমাবেশে বক্তাগণ বলেন মশিয়ালীর আলোচিত থ্রি মাডারের হত্যাকারীরা যেন আইনের ফাক ফোকড় দিয়ে বেরিয়ে এসে শান্তি প্রীয় মশিয়ালী গ্রামবাসীকে আবারও অশান্ত করতে না পরে সে জন্য তাদেরকে ক্রসফায়ারের দাবী জানান। তারা বলেন জাকারিয়া-মিল্টন ও জাফরিন বাহিনীর গুলিতে ৩ জন নিহত এবং ৮/১০জন গুলিবৃদ্ধ হওয়ার ঘটনায় ব্যবহৃত অন্ত্র উদ্ধার করতে হবে। জাকারিয়া-মিল্টন হত্যাকান্ডের পর তারা লুকিয়ে থেকে মোবাইলে অনেককে মেরে ফেলার এবং অনেককে দেখে নেওয়ার হুমকি প্রদান করেছে। মশিয়ালী গ্রামে এমন অপ্রিতিকর ঘটনার পূর্ণজন্ম না দিতে অবিলম্বে তাদেরকে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত অথবা ক্রসফায়ার এলাকাবাসীর প্রাণের দাবীতে পরিনত হয়েছে। সমাবেশ থেকে হত্যাকারীদের পরিবারের পক্ষ থেকে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানান। শেখ আব্দুল হামিদ সরদারের সভাপতিত্বে এবং রেজওয়ান আকুঞ্জি রাজার পরিচালনায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তৃতা করেন আটরা গিলাতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্জ শেখ মনিরুল ইসলাম, ৩৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ কিসমত আলী, মহিলা মেম্বর শিরিনা আক্তার, ওয়ার্ড ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি হুমাউন আহম্মেদ, মেম্বর এস এম বখতিয়ার পারভেজ, মাহমুদ হাসান, সালাম গাজী, তবিবুর রহমান, মিঠুন শেখ, মাসুম বিল্লাহসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। উল্লেখ্য মশিয়ালী গ্রামের একটি মসজিদ কমিটির মেয়াদ শেষ হলে সভাপতির পদ থেকে শেখ জাকরিয়াকে পদত্যাগ করতে বলে মিল শ্রমিক মুজিবরসহ মসজিদের মুসল্লিগন। সকলের দাবীর মুখে বাধ্য হয়ে পদ থেকে সরে দাড়াতে সম্মত হয়ে ১৭ জুলাই শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু এর আগে ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকালে জাকারিয়া ও তার ভাইয়েরা অস্ত্র দিয়ে মিল শ্রমিক মুজিবরকে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদি এলাকাবাসীর উপর জাকারিয়া-জাফরিন-মিল্টন বাহিনী নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় মশিয়ালী গ্রামের মৃত বারিক শেখের ছেলে মো. নজরুল ইসলাম(৬০) একই এলাকার মো. ইউনুছ আলীর ছেলে গোলাম রসুল(৩০) এবং পরে গুলিবিদ্ধ এলাকার সাইদুল ইসলামের ছেলে আটরা মেট্রো টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের দ্বাদশ শ্রেনীর ছাত্র সাইফুল ইসলাম(২২) খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় এবং গুলিবিদ্ধ হয়ে আফসার শেখ, শামিম, রবি, খলিলুর রহমান, মশিয়ার রহমানসহ বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনায় খানজাহান আলী থানা আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া জাকারকে দল থেকে বহিষ্কার করে খানজাহান আলী থানা আওয়ামীলীগ।
গুলি বর্ষণে হতাহতের ঘটনায় নিহত কলেজ ছাত্র সাইফুল ইসলামের পিতা সাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৮ জুলাই শনিবার খানজাহান আলী থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১২, তাং ১৮/৭/২০)। মামলায় খানজাহান আলী থানা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সহ-প্রচার সম্পাদক শেখ জাকারিয়া হোসেন জাকার, তার ভাই মহানগর ছাত্রলীগের বহিস্কৃত সহ-সভাপতি শেখ জাফরিন, অস্ত্র মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামী মিল্টনসহ ২২জনের নাম উল্লেখ এবং ১৫/১৬জন অজ্ঞাতনামাকে আসামী করা হয়। মামলার এজারভুক্ত ২২ আসামীর মধ্যে ১৩ আসামী গ্রেফতার হয়েছে।