মঙ্গল ভবন মণ্ডপে ১২৩ বছরের ঐতিহ্য

0
743

অনলাইন ডেস্ক: ১৮৯৫ সালের কথা। মঙ্গলরাম সরকার নামের এক ব্যক্তি ভাবলেন পাড়ায় একটিও পূজা মণ্ডপ নেই। তাই পাড়ার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পালপাড়া এলাকায় তৈরি করলেন শ্রী শ্রী মঙ্গল ভবন পূজা মণ্ডপ।

সেই মঙ্গল ভবন পূজা মণ্ডপ এখন ১২৩ বছরে পা দিয়েছে। বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রাচীনতন মণ্ডপ এটি।

পূজা উদযাপন কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, কলকাতার রামকৃষ্ণ মিশন থেকে ‘উদ্ভোধন’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশিত হয়। সেই পত্রিকায় বলা হয়েছে সিলেটের পাচঁগাও একটি পূজা মণ্ডপ রয়েছে যা প্রায় ১৭০ বছরের প্রাচীন।

দেবী দুর্গার আগমনে অশুভ শক্তির বিনাশ আর জগতে শক্তি প্রতিষ্ঠা হবে। এ বিশ্বাস নিয়ে বরাবরের ন্যায় এ বছরও ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় পালিত হচ্ছে মঙ্গল ভবন পূজা মণ্ডপের দুর্গোৎসব। ১২৩ বছরের পুরনো  মণ্ডপ বলে কথা। তাই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দেবী দুর্গার আর্শীবাদ লাভের জন্য এই মণ্ডপেই সবচেয়ে বেশি ভিড় থাকে বিভিন্ন বয়সী ভক্তদের।

শেরপুর জেলার সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী ও পুরনো দুর্গা মণ্ডপ এটি। তাই ভক্তদের আকর্ষণ একটু বেশিই এই মঙ্গল ভবন পূজা মণ্ডপ ঘিরে। প্রতিবছরই এই মণ্ডপে দেশীয় সংস্কৃতির প্রাধান্য পেয়ে থাকে এখানে। এই মণ্ডপের দুর্গোৎসব শুধু সনাতন ধর্মালম্বীদের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়। অন্যান্য ধর্মালম্বীরাও এই মণ্ডপ দেখতে আসে। তাই সকল ধর্মের মানুষের মেলবন্ধন দেখা যায় এই মণ্ডপে।

মঙ্গল ভবন পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অঞ্জন কুমান পাল বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহ্যবাহী পূজা মণ্ডপ। তাই আমরা চেষ্টা করছি এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে। আশা করি এ বছর আমরা সফলভাবে আমদের দুর্গোৎসব সম্পন্ন করতে পারবো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ  বিরুপাক্ষ পাল বলেন, আমাদের এই পূজা মণ্ডপটি ১২৩ বছরের ঐতিহ্য বহন করছে। এখানে সাহিত্য, সংস্কৃতি চর্চা হয়। এ ছাড়া ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে সহযোগিতা করছেন বলেই এত বছর ধরে টিকে রয়েছে মণ্ডপটি।