মংলা সমুদ্র বন্দরসহ সুন্দরবন উপকুলে দূর্যোগপূর্ন আবহাওয়া বিরাজ করছে

0
500

মাহমুদ হাসান
বঙ্গোপসাগরে সৃস্ট লঘুচাপটি ঘনীভুত ও মৌসুমি নি¤œচাপে পরিনত হওয়ায় এর প্রভাবে মংলা সমুদ্র বন্দরসহ সুন্দরবন উপকুলে দূর্যোগপূর্ন আবহাওয়া বিরাজ করছে। শনিবার সকাল থেকে সোমবার বিকাল পর্যন্ত এ ৩দিন থেমে থেমে বৃস্টি ও ঝড়ো হাওয়া বইছে। এতে ব্যহত হচ্ছে মংলা বন্দরে থাকা দেশী-বিদেশী বানিজ্যিক জাহাজের পন্য-খালাস বোঝাই কাজ । মংলা বন্দরের হারবার বিভাগ ও আবহাওয়া অফিস জানায়, সাগরে নিম্নচাপের ফলে এলাকায় বৃষ্টিপাত হচ্ছে, কিন্ত তার পরেও কমছে না গরম। টানা কয়েকদিনের তাপদাহের পর মংলাসহ দক্ষিনাঞ্চলের আশ-পাশ এলাকায় স্বস্তির বৃষ্টি। জৈষ্ঠ্যের একেবারে শেষ প্রান্ত। ভ্যাপসা গরম অসহনীয় পর্যায়ে। টানা কয়েকদিনের তীব্র তাপদাহের পর গত শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কম বেশি বৃষ্টিপাতের খবর মিলেছে। তবে গতকাল সোমবার বৃষ্টি ও বাতাসের মাত্রাটা কিছুটা বেড়ে যায়। আবহাওয়া অফিস আরো জানায়, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বেশ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এটি দু’একদিনের মধ্যে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে। এরপর আবারও কমবে। আর বৃষ্টিপাত কমলেই গরম আবারও বাড়বে। বর্তমানে মংলা বন্দরসহ দেশের অন্যান্য এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে নিন্মচাপ। যে কারণে সাগর উত্তাল রয়েছে। ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে বন্দরগুলোকে ৩নং স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। আবহাওয়া অফিস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি আরও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে মৌসুমি নিন্মচাপে রূপ নিয়ে রোববার দুপুর ১২টায় সন্দ্বীপ ও তৎসংলগ্ন উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর-উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে সোমবার মধ্যরাত নাগাদ সীতাকুন্ডের কাছ দিয়ে বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করবে। নিম্নচাপটি ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। নিম্নচাপ বহাল থাকার কারনে বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে। মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের পার্থক্যের আধিক্য বিরাজ করছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালার সৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশর উপক’লীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরগুলোর উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তবে বড় ধরনের কোন ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা নেই। ঝড়ো হাওয়ার কারনে মোংলা,পায়রা,কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার সমুহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ অমেরেন্দ্র নাথ রায় জানিয়েছেন,মংলা বন্দরসহ দক্ষিণাঞ্চলের আশ-পাশ এলাকায় বৃষ্টিপাত হচ্ছে। দু’একদিনের মধ্যে এটা দেশব্যাপী ছড়িয়ে যাবে। এরপর আবার কমবে। যে ঝড়ো হাওয়া বইছে, এর জন্য ঘূর্ণিঝড়ের কোনো আশঙ্কা নেই। মংলা বন্দরের হারবার মাষ্টার এম অলি উল্লাহ জানায়, চ্যানেলের হারবাড়িয়া,বহিঃনোঙ্গর ও জোটিতে সার-ক্লিংকার ও মেশিনারিজ মালামাল সহ ১২টি বানিজ্যিক জাহাজ অবস্থান করছে। দূর্যোগপূর্ন আবহাওয়ার কারনে এ সকল জাহাজে নিয়মিত খালাস কাজ চলছে না। এদিকে সমুদ্র উত্তাল থাকায় গভীর সমুদ্রে অবস্থানকারী মাছধরা ট্রলারসহ শত শত মাঝিমাল্লা সুন্দরবন সংলগ্ন দুবলার চরাঞ্চলের বিভিন্ন খালে আশ্রয় নিয়েছে। এ ছাড়া বৃস্টির কারনে এই অঞ্চলের সাধারন মানুষের জীবন যাত্রা ব্যহত হচ্ছে।