মংলা বন্দরের উন্নয়নে ৬ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা দিচ্ছে ভারত

0
1226

মাহমুদ হাসান, মংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
মংলা সমুদ্র বন্দরের উন্নয়নে ৬ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা দেবে ভারত। চলতি বছরের জুন থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ভারত সরকারের এ ঋণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দর সূত্রে জানায়,গত বছরের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর কালে দেশটি তৃতীয় লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) আওতায় বাংলাদেশের জন্য যে সাড়ে ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ চুক্তি করে, সেখান থেকে এ প্রকল্পের অর্থ দেওয়া হবে। নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়ের সচিব অব্দুস সামাদ’র বরাত দিয়ে বন্দর সুত্রে আরো জানায়, মংলা বন্দরে বর্তমানে যে অবকাঠামো সুবিধা আছে তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর বন্দরের ব্যস্ততা আরো বাড়বে। অন্যদিকে খুলনা থেকে বন্দরের সব কার্যক্রম মংলায় প্রতিস্থাপন করতে হলে সামগ্রিক সুযোগ সুবিধা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করতে হবে। যে কারনে ভারতের ঋণ সহায়তায় এ প্রকল্পটি হাতে নেয়া হচ্ছে। প্রকল্পটির উদ্দেশ্য হচ্ছে মংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বন্দর ব্যবহারকারীদের আধুনিক সুবিধা প্রদান করা। সূত্রটি আরো জানায়, মংলা বন্দরের উন্নয়নে গৃহীত এ প্রকল্পটির গত মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে একটি সভা হয়েছে নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়ে। ওই সভায় প্রকল্পের ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রোফরমা) প্রণয়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ জহিরুল হক জানায়, আলোচ্য প্রকল্পের আওতায় ১২ টি কম্পোনেন্ট থাকবে। এগুলো হচ্ছে বন্দর জেটিতে-১ ও ২- কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মান, কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড নির্মাণ, কন্টেইনার ডেলিভারী ইয়ার্ড নির্মান, নিরাপত্তাব্যবস্থা, রাস্তা, ইয়ার্ড শেড, নিরাপত্তা দেয়াল অটোমেশন ও অন্যান্য অবকাঠামোসহ বন্দরের সংরক্ষিত এলাকা স¤প্রসারন, সার্ভিস ভেসেল জেটি, শেড ও অফিস নির্মান, এমপিএ টাওয়ার,পোর্ট রেসিডেনশিয়াল কমপ্লেক্স কমিউনিটি সুবিধাদি নির্মান, বন্দর ভবন (প্রশাসনিক) সম্প্রসারন, মেকানিক্যাল ওয়ার্কশপ,ইকুইপমেন্ট ইয়ার্ড, ইকুইপমেন্ট শেড ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিসহ এমটি পুল নির্মাণ, ¯িøপওয়ে ও মেরিন ওয়ার্কশপ কমপ্লেক্স নির্মাণ, সিগনাল রেড ক্রসিং ও ওভারপাস নির্মাণ, রাস্তা ও বিনোদন ব্যবস্থাসহ বাঁধ নির্মাণ এবং ৫টি হারবার ক্রাফট ক্রয়। নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয় সূত্রের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, চট্রগ্রাম বন্দরের ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা এখন মংলা বন্দর ব্যবহারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এ ছাড়া পাশের দেশ ভারত,নেপাল ও ভুটান ট্রানজিট সুবিধায় এ বন্দর ব্যবহারের অনেক আগ থেকেই প্রস্তাব দিয়েছে সরকারকে। বর্তমানে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব জমিতে ১১ টি এলপিজি কারখানা, ৫টি সিমেন্ট কারখানাসহ অন্য আরও ১০ টি শিল্পকারখানা রয়েছে। এছাড়া বন্দর এলাকায় ২৫৮ একর জমিতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল (বেপজা) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ সব শিল্প কারখানার কাঁচামাল মংলা বন্দরের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে আসছে। ফলে বানিজ্যিক স্বার্থেই বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি সরকারের কাছে অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এম কারুক হাসান জানায়,মংলা বন্দর ঘিরে বর্তমান সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে। পদ্মা সেতু থেকে মংলা পর্যন্ত চার লেন বিশিষ্ট সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্থাপন, মংলা ইপিজেট সম্প্রসারন, স্পেশাল ইকোনমি জোন স্থাপন, রুপসা নদী ও মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলের নাব্যতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও মংলা বন্দরে কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ, কন্টেইনার ডেলিভারী ইয়ার্ড নির্মান, বহুতলবিশিষ্ট কার ইয়ার্ড নির্মাণ, বিদ্যমান জেটি শিট পাইলিং, বন্দরের প্রধান প্রধান সড়ক ছয় ও অভ্যন্তরীন রাস্তা চার লেনে উন্নীতকরন, বন্দরের জন্য ট্রেলিং সাকশান হোপার ড্রেজার সংগ্রহ, ভেসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম প্রবর্তন, পশুর চ্যানেলে আউটার বার ড্রেজিং, সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন, জলযান সংগ্রহ, রুজভেল্ট জেটির বিদ্যমান অবকাঠামোর উন্নয়ন,টাগবোর্ড সংগ্রহ, জেটিতে গিয়ারলেস জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের জন্য মোবাইল হারবার ক্রেন সংগ্রহের উদ্যোগ চলমান রয়েছে এ বন্দরের উন্নয়নের লক্ষে।