মংলায় শিশু নির্যাতনের বাধা দেয়ায় গৃহবধুকে শ্লীলতাহানীর অভিযোগ : থানায় মামলা

0
378

মংলা প্রতিনিধি:
মংলায় শিশু নির্যাতনের বাধা দেয়ায় এক গৃহবধুকে শ্লীলতাহানীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৪মে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কুমারখালী এলাকায় স্থানীয় একদল সন্ত্রাসীরা এ ঘটনা ঘটায়। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দায়ের হলে থানা পুলিশ মিমাংশার জন্য উভয়কে ডাকা হলে সেখানে পুলিশের সামনে বসেই বাদিনীকে জীবন নাশের হুমকি দেয়া হয়। মঙ্গলবার থানায় মামলা দায়েরের পর এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সন্ত্রাসীদের হুমকি-দামকিতে গৃহবন্ধী হয়ে পরেছে অসহায় এ গৃহবধুর পরিবারটি। এ সন্ত্রাসী গ্রæপটির বিরুদ্ধে জমি দখল, ঘেড় লুট,চাঁদাবাজী,ছিনতাইয়ের ৫/৭টা মামলা রয়েছে।
মংলা থানার মামলা সুত্রে জানা যায়, পৌর শহরের কুমারখালী এলাকার ইমাম হোসেনসহ একদল সন্ত্রাসী একই এলাকার এক গৃহবধুকে প্রাই উত্তক্ত করতো। তাদের খারাপ প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় স্থানীয় দোকান থেকে তাকে মালামাল বিক্রি বন্ধ করে দেয় সন্ত্রাসীরা। গত ৪ মে সন্ধ্যা ৭টার দিকে গৃহবধুর ননদের পুত্র মোঃ মুন্সি (৬)কে স্থানীয় একটি দোকানে ডিম কিনার জন্যে পাঠালে অন্যায়ভাবে তাকে মারধর করে ইমাম হোসেন, সৈয়দ মোল্লাসহ একদল সন্ত্রাসীরা। শিশু মোঃ মুন্সি এ মারপিটে গুরুতর জখম হয় এবং তার কান ও মুখ থেকে রক্তপাত হয়। ওই গৃহবধু দোকানে গিয়ে এর প্রতিবাদ করলে দোকানের সামনে বসে থাকা সন্ত্রাসীরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তাকে। এক পর্যায়ে ১নং আসামী ইমাম হোসেনের নির্দেশে অন্যান্য লোকজন তার চুলের মুঠি ধরে দোকানের পিছনে নিয়ে এলোপাথারী ভাবে মারতে থাকে। ইমাম হোসেন, সৈয়দ মোল্লাসহ অন্যান্য সন্ত্রাসীরা পরনের জামা কাপড় টেনে ছিড়ে ফেলে শ্লীলতারহানী ঘটায়। সন্ত্রাসী ইমাম হোসেন তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করলে রক্তাক্ত জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তার ডাক চিৎকারে শাশুড়ীসহ অন্ন্যান্য লোকজন এগিয়ে আসলে তাদেরকেও এলোপাথারী মারধর করে এবং তাদের টাকা পয়সা,মালামাল ছিনিয়ে নেয় বলে থানার এজাহারে উল্লেখ করে। সন্ত্রাসীরা ঘটনার বিষয়ে কোথাও কোন অভিযোগ দিলে গৃহবধুসহ তার পরিবারের সদস্যদের প্রানে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এলাকাবাসী রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। দীর্ঘ সময়ের পর এ অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযোগটি আমলে নেয় থানা পুলিশ। মোসাম্মাৎ রানী বেগম বাদী হয়ে ইমাম হোসেন, সৈয়দ মোল্লা, হাফিজুল, মিনু আক্তার, আয়শা বেগম, নাজমা ও সালমা বেগমকে আসামী করে গতকাল দুপুরে থানায় মামলা দায়ের করে পুলিশ। মামলা কথা শুনে ওই গৃহবধুর বাড়ীর সামনে গিয়ে সন্ত্রাসীর দেশী অস্ত্রসন্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে বলে এলাকাবসী জানিয়েছে। প্রানের ভয়ে এখন গৃহবন্ধী হয়ে পরেছে গরিব অসহায় এ পরিবারটি। এ বিষয় কুমারখালী এলাকার যুবলীগ নেতা মোঃ কবির হোসেন জানায়, ইমাম হোসনেসহ যে দলটি এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করছে তাদের বহুবার সতর্ক করা হয়েছে কিন্ত নিয়ন্ত্রনে আনা যাচ্ছেনা। এখন পুলিশই এর ব্যাবস্থা নেবে। এব্যাপারে মামলার আসামী সৈয়দ মোল্লা জানায়, সেদিন ওই শিশুটি দোকানে এসে মালামাল নিয়ে যাওয়ার সময় আমাদের একটি মেয়েকে মারতেছিল তাই জিজ্ঞেস করা হয়েছে। পরে অভিবাবকরা এসে দোকান ভাংচুর করে। মংলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান,পরস্পর বিরোধী অভিযোগ দায়ের হলে মিট মিমাংশা চেষ্টা করে ব্যাথ হওয়া মামলা নেয়া হয়েছে। আসামী গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।