মংলায় ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় তিতলি : বন্দরে ৪ নম্বর হুশিয়ারী সংকেত

0
899

মাহমুদ হাসান, মংলা থেকে:

ঘূর্ণিঝড় তিতলির কারণে মংলা, চট্টগ্রাম, পায়রা সমুদ্রবন্দর ও কক্সবাজারে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। এর প্রভাবে বুধবার সকাল থেকে মংলাসহ আশপাশ উপকূলীয় এলাকায় আকাশ মেঘলা রয়েছে। কোন বড় ধরণের ঝড়ো হাওয়া না থাকলেও মাঝে মাঝে সামান্য গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। মংলা নন্দর হতে অভ্যন্তরীন সকল রুটে নৌ-যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। বুধবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় তিতলি উত্তর-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়েছে। এটি ঘনীভূত হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারে একই এলাকায় অবস্থান করছে।
আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন সন্ধ্যা ৭টার দিকে জানায়, ঘুর্নিঝড়টি গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ৮৮০ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ৮৫০, মংলা থেকে ৭২০ এবং পায়রা থেকে ৭৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। তিনি আরো বলেন, মংলা সমুদ্র বন্দরকে দুই নম্বর দূরবর্তী সংকেত নামিয়ে চার নম্বর হুশিয়ারী সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার থাকবে। যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। মংলা বন্দরের হারবার মাষ্টার কমান্ডার এম দুরুল হুদা জানান, দুর্যোগপুর্ন আবহাওয়ার কারণে সাগর প্রচন্ড উত্তল। মংলা বন্দরে বর্তমানে সার,ক্লিংকার,জিপসাম,কয়লা জেনারেলকার্গোসহ মোট ২০টি বানিজ্যিক জাহাজ অবস্থান করছে। তিতলির প্রভাবে এ বন্দরের বিশেষ সর্তকবার্তা এলর্ট-২ জারী করা হয়েছে। এছাড়াও বন্দরে দেশী-বিদেশী বানিজ্যিক জাহাজ আগমন-নির্গমন বন্ধ ঘোষনা করেছে কর্তৃপক্ষ। বন্দরে নৌ-পথে বানিজ্যিক মালামাল আনা নেয়ার জন্য বোর্ট,কার্গো ও লাইটারেস জাহাজসহ সকল নৌযান সমুহকে নিরাপদে রাখার জন্য নিদের্শনা দেয়া হয়েছে। ৪ নং স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত জারির পর বুধবার সকালে সতর্কতা ও প্রস্তুতিমূলক সভা করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরে অবস্থানরত সকল দেশী-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের পণ্য বোঝাই-খালাস কাজ স্বাভাবিক রয়েছে। এছাড়া উপজেরা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় বুধবার দুপুরে জরুরী প্রস্তুতি সভা করেছে উপজেলা প্রশাসনও। অপরদিকে ঘূর্ণিঝড় তিতলি প্রভাবে মংলা বন্দরসহ উপকুলীয় নদ-নদী উত্তাল হয়ে পড়ায় সকল ধরণের ছোট ছোট নৌযান চলাচলে সাবধানতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। এছাড়া ঘুর্নিঝড় ‘তিতলি’ এ মংলা বন্দরের উপর আঘাত করলে এর ক্ষয়-ক্ষতি মোকাবেলায় বন্দর কর্তৃপক্ষ,নৌ-বাহিনী,কোষ্টগার্ড,পুলিশ,নৌ-পুরিশ,টুরিষ্ট পুলিশ ও বন বিভাগ, উপজেলা প্রসাশন ও পৌর কর্তৃপক্ষে সকল উদ্ধারকারী নৌ-যানকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস আরো জানায়, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে বৃষ্টি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি মঙ্গলবার বিকেলে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। এটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘তিতলি’। তারা বলেন, আজ ১১ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) মধ্যরাতে ঘূর্ণিঝড় তিতলি বাংলাদেশে মংলা ও খুলনা উপকুলের দিকে ধেয়ে আসছে। তিতলির কারণে গতকাল দিনভর মংলায় থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও মাঝারি এবং কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তরের এ কর্মকর্তা।