মংলায় একাধিক মিথ্যা মামলার ফাঁদে দিশেহারা বন্দর কর্মচারি শহীদুল ও তার নিরীহ পরিবার

0
309

মংলা প্রতিনিধি:
মংলায় একাধিক মিথ্যা মামলার ফাঁদে দিশেহারা হয়ে পড়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষের যান্ত্রিক ও তড়িৎ বিভাগের হেড মেকানিকস মোঃ শহীদুল ইসলামের পরিবার। স্ত্রীর নামে জমি ক্রয়ে আস্বীকৃতি জানানো ও বৃদ্ধ বাবা মা’কে রেখে ঘর জামাই থাকতে রাজি না হওয়ায় একের পর এক মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে শহীদুলকে। অর্থলোভী ও প্রতারক শ্বশুর-শাশুড়ি আর স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক,নারী নির্যাতন সহ ৫টি মিথ্যা মামলার ঘাঁনি টানছে ওই যুবক ও তার নিরীহ পরিবার। এমনকি বন্দরে কর্মরত শহিদুলকে চাকরীচুত্য করতে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে প্রতারক চক্রটি। আর এতে এলাকাবাসীর পাশাপাশি ক্ষুব্ধ প্রক্রিয়া জানিয়েছেন বন্দরের কর্মচারীরাও।
প্রাপ্ত অভিযোগ সুত্রে জানান গেছে, মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উর্ধতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে শহিদুলের বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ দিয়েছে তার শশুর বাড়ীর লোকজন। দাখিলকৃত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা যায়, মংলা বন্দরে হেড মেকানিকস পদে কর্মরত মোঃ শহীদুল ইসলাম গত ২৭ জুলাই ইসলামিক শরিয়ায় পারিবারিক ভাবে দিগরাজের আব্দুস সোবাহানের কন্যা সবেকুন ন্নাহার সোনিয়াকে বিয়ে করে। বিয়ের পর শহিদুল জানতে পারে স্ত্রী সোনিয়া দীর্ঘদিন ধরে মানুষিক রোগে আক্রান্ত । এ অবস্থায় শশুর সোবাহান ও শাশুরি তাকে ঘর জামাই থাকার প্রস্তাব দেয়। বৃদ্ধ ও অসুস্থ্য বাবা-মা’কে একাকি রেখে শহিদুল ঘর জামাই থাকতে অস্বীকৃতি জানালে ফের মেয়ের পরিবার থেকে চাপ প্রয়োগ করা হয় আলাদা বসবাসের জন্য জমি ক্রয় ও বাড়ি করার জন্য। সামান্য বেতনের কর্মচারি শহিদুল শ্বশুর-শাশুড়ির এমন চাহিদা পূরনে ব্যর্থ হলে শুরু হয় তাকে নিয়ে নানা চক্রান্ত। বিয়ের বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ১৫ এপ্রিল শহিদুলের বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা যৌতুক মামলা ঢুকে দেয়। পরবর্তীতে একের পর এক নারী নির্যাতন ,সাতধারা ও পারিবারিক আদালতে মামলা দিয়ে হয়রানী শুরু করে। এ সকল মামলায় দায়ের করেই ক্ষ্যন্ত হয়নি শ্বশুর বাড়ির লোকেরা তারা শহিদুলকে বন্দরের চাকরি চুত্য করতে নতুন করে তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও চাকরির কোটা নিয়েও বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছে। বন্দর সূত্র জানায়- শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও জেলা কোটা নিয়ম মেনেই ২০১৬ সালে বন্দর কর্তৃপক্ষের যান্ত্রিক ও তড়িৎ বিভাগের হেড মেকানিকস পদে যোগদান করেন মোঃ শহীদুল ইসলাম। আর এখনও পর্যন্ত বেশ সুনামের সথে চাকরি করছেন নিজ দপ্তরে। মংলা বন্দরের কর্মচারি সংঘ’র (সিবিএ) সাধারণ সম্পাদক খুরশেদ আলম পল্টু বলেন, শহিদুলের শ্বশর বাড়ির লোকজন মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে হয়রানী করছে। এ বিষয়টি তারা নজরদারি করছেন। তিনি আরও বলেন, শহিদুল বন্দর কর্মচারি তাই তার সনদ সহ যাবতীয় দেখভালের দায়িত্ব বন্দর কর্তৃপক্ষের, শ্বশুর বাড়ির লোকজনের দায়িত্বে পড়ে না। তবে পারিবারিক সমস্যা থাকলে পারিবারিক ভাবে সমাধানের পরামর্শ দেন তিনি। নাম প্রকাশ না করা শর্তে বন্দরের এক কর্মকর্তা জানান, শহিদুলের শ্বশুর স্থানীয় একটি সিমেন্ট কারখানায় চাকরি ও মংলার দিগরাজ এলাকায় বসবাস করেন। সে মামলাবাঁজ লোক তাই জামাতাকে মামলায় ফাঁসিয়ে অর্থ আদায়ের চক্রান্ত করছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মচারি শহিদুল ইসলাম জানান, তার বৃদ্ধ মা আর বাবা আলতাফ হোসেন কয়েক বছর ধরে বিছানায় পড়ে আছেন। তার সামান্য বেতনের টাকায় ছোট ভাইয়ের লেখাপড়া আর বাবা-মায়ের চিকিৎসা সহ অভাব অনাটনে সংসার চলছে। শ্বশুর শাশুড়ির প্রস্তাব ঘর-জামাই ও তাদের মেয়ে সোনিয়ার নামে বাড়ি করে দিতে না পারায় তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে। এমনকি তাকে চাকরিচুত্য করতে নানা ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি শ্বশুর-শাশুড়ির কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার মিথ্যা কুৎসা রটিয়ে তাকে ও তার পরিবারকে সামাজিকভাবে সুনাম নস্ট করা হচ্ছে। এ ছাড়া বর্তমানে তার বিরুদ্ধে আরও মামলা দায়ের করার অব্যহত হুমকি-ধামকি দেয়াসহ খুন-জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।