ভারত সীমান্ত হওয়ায় খুলনাঞ্চলে  এইচআইভি/এইডস সংখ্যা বাড়ছে

0
389

# খুলনাঞ্চলে গড়ে প্রতি বছর সনাক্ত হচ্ছে ১৮
# চলতি বছরে ৪ উপজেলায় সনাক্ত ১৪ জন
# চলতি বছরে খুলনাঞ্চলে সনাক্ত ৩৯ জন, মারা গেছে ১২
কামরুল হোসেন মনিঃ
ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় হওয়ায় খুলনাঞ্চলে দিনকে দিন এইচআইভি/এইডস সনাক্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সমুদ্র ও স্থল সীমান্ত অতিক্রম করে দেশের অভ্যান্তরে প্রবেশকারীদের রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকা, এবং ট্রক চালকদের অবাধে নিষিদ্ধ পল্লীতে যাতায়াত, পুরুষ সমকামী (এমএসএম) বৃদ্ধি, কনডম ব্যবহারে অনীহার  কারণে এ অঞ্চলে এইডস’র ভয়াবহতা বেড়েই যাচ্ছে। গত ২০০৩ সাল থেকে এই পর্যন্ত গত ১৪ বছরে ২৫২ জন শরীরের রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এইচআইভি/এইডস সনাক্ত করা হয়েছে। সে অনুযায়ী গড়ে প্রতি বছর খুলনাঞ্চলে ১৮ জন এইডস জীবানু বহন করছেন।
এই সময়ের মধ্যে মারা যান ৫৯ জন। এর মধ্যে চলতি বছরে অক্টোবর পর্যন্ত নতুন আক্রান্ত হয়েছেন ৩৯ জন। যার মধ্যে খুলনায় আছে ১৫ জন। এ সময়ে মারা যান ১২ জনের মতো।
মুক্ত আকাশ বাংলাদেশ খুলনার সূত্র থেকে জানা যায়, ২০০৩ সাল থেকে ২০১৭ সাল অক্টোবর পর্যন্ত উল্লিখিত এইচআইভি/এইডস আক্রান্তদের বিনামুল্য চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি কাউন্সিলিং করা হচ্ছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদেরকে এআরভি ওষুধ দেয়া হচ্ছে। ওই সূত্র মতে, ২৫২ জনের মধ্যে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৫৯ জন। যার মধ্যে পুরুষ ২৩ ও মহিলা ৩৬ জন রয়েছে। বর্তমানে জীবিত আছে মোট ১৯৩ জন। যার মধ্যে পুরুষ ৮৮ জন, মহিলা ৭৩ জন, হিজড়া ১ জন, শিশু রয়েছে ২৯ জন। যার মধ্যে শিশু পুত্র ১৮ ও কন্যা ১১ জন পজিটিভ। উল্লিখিত পরিসংখ্যানের মধ্যে ২০১৭ সালে খুলনায় আক্রান্ত সংখ্যা ৩৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২১ জন, মহিলা ১৫ জন, হিজড়া ১ জন ও শিশু পুত্র ২ জন। এ পর্যন্ত খুলনাঞ্চলে আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে পুরুষ ৫৩ ও মহিলা ৩১ জন রয়েছে। যার মধ্যে শিশু রয়েছে ১০ জন।
জানা গেছে, চলতি বছরে এইচআইভি/এইডস পজিটিভ ব্যক্তিদের মধ্যে খুলনার ৪ উপজেলায় ১৪ রয়েছে। এর মধ্যে বটিয়াঘাটায় ২ জন, ডুমুরিয়ায় ২ জন, ফুলতলায় ৬ জন ও দিঘলিয়ায় ৪ জন রয়েছে। বাকীরা খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় বসাবস করেন। এছাড়া আক্রান্ত মধ্যে নড়াইল, যশোর, সাতক্ষীরা, কেশবপুর এলাকার বাসিন্দারা রয়েছেন। যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের মধ্যে অধিকাংশই ভারত ফেরত (যারা প্রায় ওই দেশে নিয়মিত যাতায়াত)। চলতি বছরে এইচআইভি পজিটিভ আক্রান্ত এক যুবক গত ২৫ অক্টোবর মারা যান। জানা যায়, মৃত ওই ব্যক্তি অসুস্থ হলে তাকে রক্ত দেয়া হয়েছিল। মৃত অভিভাবকের দাবি তার ছেলে ওই রক্ত নেয়ার কারণে সে এইডস আক্রান্ত হন। শিশুদের পজিটিভদের মধ্যে ২২ মাস, ২ বছর ও ৪ বছরের শিশুরা রয়েছেন। তারা মায়ের গর্ভবতী থাকা অবস্থায় পজিটিভ হয়েছেন।
খুলনা সিভিল সার্জন ডাঃ এ এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, প্রতি বেশী ভারতে এইচআইভি/এইডস পজেটিভ সংখ্যা বেশি। বিশেষ করে এ কারণে এ অঞ্চলে এইচআইভি পজেটিভ সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়া শ্রমিক ও ট্রাক শ্রমিক লোকজন ওই দেশে গিয়ে সেক্সুয়াল কাজ করেন। সেখান থেকেও কিছু অসাবধনতার কারণেই পজিটিভ হয়ে আসেন। এটা নিয়ন্ত্রণ করা বা প্রতিরোধ করা যায় সেজন্য আমরা গনসচেতনতা জন্য আগামী ১ ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে জনসচেতনতামুলক আলোচনা সভা ও র‌্যালী আয়োজন করা হয়েছে।
মুক্ত আকাশ বাংলাদেশ কো-অর্ডিনেটর রেহানা বেগম জানান, খুলনায় ২০০৩ সাল থেকেই এ পর্যন্ত
এইচআইভি/এইডস মানুষের রক্তের টেস্টের মাধ্যমে বিনামুল্য সনাক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া পজিটিভ পাওয়ার লোকদেরকে তাদের মাধ্যমে কাউন্সিলিং ও ওষুধ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, গত ২০০৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত শিশুসহ এইচআইভি পজিটিভের সংখ্যা ২৫২ জন। এই সময়ে মধ্যে মারা যান পুরুষ ও মহিলা মিলে মারা যান ৫৯ জন। বর্তমানে জীবিত রয়েছেন ৫৯ জন। তিনি বলেন, যারা এইচআইভি পজিটিভ পাওয়া ব্যক্তিরা পদে পদে বৈষম্য শিকার হচ্ছেন। আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতিবেশী বিভিন্ন ধরনের উক্তি করেন। তিনি বলেন, শুধু যে সেক্সসুয়াল বা রক্তের মাধ্যমে এইডস আক্রান্ত হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে মায়ের থেকেও শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। এইডস পজিটিভ গর্ভবতী মায়েরা সঠিক সময় চিকিৎসা গ্রহণ করলে তা প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার দেয়া তথ্য মতে, উল্লিখিত পজিটিভ সংখ্যা ছাড়াও আশার আলো নামক এনজিও বেনাপোলে এলাকা থেকে শিশুসহ ৬৫ জন এইচআইভি/এইডস পজিটিভ পাওয়া গেছে। যার মধ্যে পুরুষ ২৫ জন ও মহিলা ৪০ জন রয়েছে। এর মধ্যে শিশু পুত্র রয়েছে ২ জন ও শিশু কন্যা রয়েছে ৩ জন।
ওয়াল্ড ভিশনের এক জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, এ অঞ্চলের নিষিদ্ধ পল্লীতে যৌন কর্মীদের নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করা হয় না। অবৈধ যৌনচারে লিপ্তদের মধ্যে ২৫ শতাংশের বেশি কনডম ব্যবহার করতে আগ্রহ দেখায় না। তাছাড়া সীমান্ত অতিক্রম করে আসা ট্রাক চালকদের রক্ত পরীক্ষার কোন ব্যবস্থা নেই। ওই সূত্র মতে, ভারতের ৫১ লাখ ব্যক্তি এইচআইভি জীবানু বহন করছে, বর্তমানে সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পায়। ভারত থেকে প্রতিদিন ১ হাজার ট্রাক বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে আসা যাওয়া করে। ##