ব্যক্তিগত নোংরামির রাজনীতি ছেড়ে জবাবদিহিতার নেতৃত্ব চর্চার আহ্বান : প্রেস ব্রিফিংকালে মঞ্জু

0
421

বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, ব্যক্তিগত, প্রতিহিংসা ও নোংরামির রাজনীতি ছেড়ে আসুন খুলনাবাসীর কাছে স্বচ্ছ, জবাবদিহিতামুলক নেতৃত্বের চর্চা করি। খুলনাবাসী আমাদের কাছে সঠিক নেতৃত্বের আশা করে। আমরা নেতৃত্বে থেকে আগামীর জন্য সৎ, যোগ্য ও আর্দশিক রাজনীতিবীদ গড়ে তুলতে চাই। যাতে কোন ব্যবসায়ী এসে আমাদের পদ-পদবী কেড়ে নিতে না পারেন।

বুধবার বেলা সাড়ে ১২টায় খুলনা প্রেসক্লাবে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। গত মঙ্গলবার মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের প্রেস ব্রিফিংয়ের প্রতিবাদে এ প্রেস ব্রিফিংয়ের পরে আওয়ামী লীগ আর নোংরামি না করতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। স্বচ্ছতা চাই, জবাবদিহিতামুলক রাজনীতির আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যের শুরুতেই বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তি আন্দোলনের অংশ হিসেবে দল কেসিসি নির্বাচনে অংশ নিয়ে মেয়র প্রার্থী হিসেবে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। এ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করিনি; নির্বাচনের আচরণবিধি অনুযায়ী আগামী ২৪ এপ্রিল থেকে প্রচার-প্রচারণা শুরু করবো। ওয়ার্ডপর্যায়ে সাংগঠনিক সভা, ভোট কেন্দ্রভিত্তিক নির্বাচর পরিচালনা কমিটি গঠনের কাজ চলছে। পোলিং এজেন্টদের তালিকা প্রস্তুত চলছে। প্রচারসহ ১২টি উপ-কমিটি প্রস্তুত হয়েছে, তারা কাজ করছে। এ প্রস্তুতি কাজে জেলা ও নগর বিএনপি, অঙ্গ সহযোগী সংগঠন, পেশাজীবী সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতারা মূখ্য ভূমিকা পালন করবেন। এসব কমিটির সকল কাজ হবে দৃশ্যমান।

খুলনা সিটি করপোরেশন নিয়ে আমাদের ভাবনা ও জনগনের প্রত্যাশা সব বিষয়-ই আমরা তুলে ধরছি। আগামী ২৪ এপ্রিল নির্বাচনী ইশতিহারে জনগনের কাছে আমাদের কর্মপরিকল্পনা ও স্বপ্নের কথা জানিয়েই যাত্রা শুরু করবো ইনশাআল্লাহ্—। এ নির্বাচনে বিএনপি জনগনের প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করবে।

বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, হঠাৎ একটি সংবাদ আমাদের চিন্তায় ফেলেছে- আওয়ামী লীগের মাহবুব উল আলম হানিফ সাহেব এসে খুলনার প্রবেশদ্বারে মিটিং করেছেন। নেতারা আসবেন শহরে বসেই তাদের কাজ করবেন। দৃষ্টি আড়াল করার জন্য এ ধরণের কুটকৌশল বর্জন করবেন। এটা জনগন সন্দেহ করে, যে কোন বার্তা নিয়ে এসেছেন? কি করতে চান? এব্যাপারে আমরা রাজনৈতিক চোখ-কান খোলা রাখবো; যাতে কোন প্রশাসনকে সরকারি দলের কোন নেতা কোন ম্যাসেজ দিতে না পারেন। জনগনকে সাথে নিয়ে সকল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চায় বিএনপি; এটা বিএনপি’র চ্যালেঞ্জ। সকল বাঁধা-বিপত্তি মোকাবেলা করে বিএনপি সামনে এগোবে। সেই দৃঢ়তা খুলনা বিএনপি’র নেতাকর্মীদের মধ্যে আছে। আমাদের বিরুদ্ধে শত মিথ্যাচারের জবাব আমরা দেবো।

নগর বিএনপি’র সভাপতি মঞ্জু বলেন, প্রার্থী হিসেবে আমার বক্তব্য বলতে এসেছি। আমি সীমিত আয়ের মানুষ। আমার পিতার একটি বাড়ী আছে, দুইটি ব্লিডিং চারতলা ও একতলা। সেখান থেকে ত্রিশ/বত্রিশ হাজার টাকার মতো ভাড়া পাই। আমি কয়েকবার ব্যবসা করার চেষ্টা করে উদ্যোগ নিয়েছি; আমার আর মনি ভাইয়ের একটান যৌথ লাইসেন্স আছে সিএন্ডএফ’র। যদিও সেটায় কাজ করা যায় না। আমি নিজে কয়েক বছর চেষ্টা করেও মংলা বন্দরের কোন কাজ ধরতে পারি নাই। যেখানেই কাজ ধরতে যাই, সেখানেই তালুকদার সাহেবের হস্তক্ষেপ। সেই ব্যবসায়ীকে বলে দেয়া হয়, মঞ্জুকে কাজ দেলে জাহাজ এখানে মাল নামানো যাবে না। এই কথাটি আমি খালেক সাহেবকে বলেছি, যে আমরা কি না খেয়ে থাকবো? আমি তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নোংরামির কথা বলতে চাই না। আমরা একটি গাড়ী আছে, যেটি আমি এমপি থাকাকালীন শুল্কমুক্ত পেয়েছিল। বিশ লাখ টাকা ব্যাংক লোন ও পৌনে চার লাখ নিজে দিয়ে আমি গাড়ীটি কিনেছিলাম। পরে সংসদে প্রাপ্ত সম্মানী থেকে ব্যাংক লোন পরিশোধ করেছি। আমরা যখন অর্থ সংকট হয়; তখন আমি গাড়ী ছেড়ে রিকশায় চলাচল করি; মোটরসাইকেলে চলি- সকলেই তা জানেন। আমি সবসময় একা চলি; আমার কোন বাহিনী নেই। আমার বিশেষ পাহারা নেই।

প্রেসব্রিফিংকালে উপস্থিত ছিলেন নগর বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, সৈয়দা নার্গিস আলী, জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খান, সহ-সভাপতি খান আলী মুনসুর, নগর শাখার সহ-সভাপতি শেখ মুশাররফ হোসেন, আব্দুল জলিল খান কালাম, জাফরউল্লাহ্ খান সাচ্চু, মোঃ ফকরুল আলম, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, মনিরুল হাসান বাপ্পী, সিরাজুল ইসলাম মেঝোভাই, শেখ আব্দুর রশিদ, মোল্যা খায়রুল ইসলাম, এ্যাড. রুহুল হাসান রুবা, মোল্যা মোশাররফ হোসেন মফিজ, শামসুজ্জামান চঞ্চল ও সেখ কামরান হাসান প্রমুখ।