বেসরকারি খাত ও বন্ড মার্কেটের জন্য আইএফসি’র সহায়তা চান অর্থমন্ত্রী

0
25

টাইমস ডেস্ক:
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বেসরকারি খাতে আরো বেশি সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি বাংলাদেশের স্থিতিশীল আয় সিকিওরিটিস বিশেষ করে বন্ড মার্কেট উন্নয়নে সহায়তা প্রদানের জন্য ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি) এর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি ‘টাকা বন্ড’ সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি এর সুদের হার হ্রাস করার জন্য আইএফসি’র প্রতি আহ্বান জানান যাতে বেসরকারি খাত স্বল্পতম সময়ে কোভিড-১৯ মহামারীর ধকল কাটিয়ে উঠতে পারে।
কামাল বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভা ২০২০-এর অংশ হিসাবে ২৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ও আইএফসি প্রতিনিধি দলের মধ্যে এক ভার্চুয়াল সভায় এ আহ্বান জানান।
অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন এবং আইএফসির চিফ অপারেটিং অফিসার স্টেফানি ফন ফ্রিডবার্গ আইএফসি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।
আইএফসির প্রতিনিধি দল অর্থমন্ত্রীর অনুরোধ বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আজ জানানো হয়, বিশ্বব্যাংকে বাংলাদেশের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল আলম, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুর রউফ তালুকদার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন, আইএফসি’র এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট আলফনসো গার্সিয়া মোরা এবং আইএফসি’র বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের কান্ট্রি ম্যানেজার ওয়েন্ডি ওয়ার্নারও সভায় যোগ দেন।
সভার শুরুতে কামাল বেসরকারি খাতে অব্যাহত সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে দেশের সার্বিক উন্নয়নে আইএফসির ভূমিকার প্রশংসা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর আকাক্সক্ষা অনুযায়ী, উদ্ভাবিত হলে দেশবাসীর জন্য কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অত্যন্ত আগ্রহী ও অঙ্গীকারবদ্ধ বলে উল্লেখ করে তিনি এ ক্ষেত্রে আইএফসির যথাযথ ভূমিকা ও সহায়তা চান।
কোভিড-১৯ বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি ও মানবজীবনকে হুমকির মুখে ফেলেছে উল্লেখ করে কামাল বলেন, বাংলাদেশ এই প্রভাবের বাইরে নয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ২০২০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত হতে প্রস্তুত রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন যে, বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের মাধ্যমে কোভিড-১৯-এর চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৪.১৩ বিলিয়ন ডলার (জিডিপির ৪.৩%) প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন।
আইএফসির সহায়তায় গত বছর লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে ৯.৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ‘টাকা বন্ড’ চালুর কথা উল্লেখ করে কামাল বলেন, এটি পরবর্তী এক বছরের মধ্যে এক বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে তা সম্ভব হয়নি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এটিকে আরও সমৃদ্ধ করতে আইএফসি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
ফিনান্স বিভাগের সিনিয়র সচিব সভাকে অবহিত করেন যে, তারা সুদের হার হ্রাসের পাশাপাশি আর্থিক খাত পুনর্গঠনে কাজ করছেন।
তিনি আরও জানান যে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সলভেন্সি আইন, ব্যাংক কোম্পানি আইন এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইনের মতো কিছু আইন প্রণয়নের জন্য কাজ করছে, যা আর্থিক খাতের পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সমস্ত দেশবাসীর জন্য কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে বিপুল তহবিল প্রয়োজন হবে উল্লেখ করে রউফ জানান, তিনটি স্থানীয় ওষুধ কোম্পানি এই ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের জন্য কাজ করছে।
বাংলাদেশ বিশাল জনসংখ্যার দেশ হওয়ায় সব ভ্যাকসিন আমদানি করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আশা করা হচ্ছে স্থানীয় কোম্পানীগুলো উদ্ভাবনের ছয় মাসের মধ্যে ভ্যাকসিন তৈরি করতে সক্ষম হবে।
তিনি বলেন, ‘সুতরাং আমরা স্থানীয় ভ্যাকসিনগুলোর ওপর জোর দেব এবং আইএফসি’র আমাদের স্থানীয় ওষুধ কোম্পানীগুলোকে সহায়তা দেয়ার সুযোগ রয়েছে। কারণ এ ক্ষেত্রে বিশাল বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।
সভায় ২০১৭-২০২১ মেয়াদে বাংলাদেশকে আইএফসি’র ১.৬ বিলিয়ন দীর্ঘ মেয়াদী অর্থায়ন এবং ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত ১.১ বিলিয়ন ডলার প্রদানের অঙ্গীকার নিয়েও আলোচনা হয়।


একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here