বুলবুলদের ক্লাবে ও’ব্রায়েন

0
316

স্পোর্টস ডেস্কঃ
কেভিন ও’ব্রায়েন তখন ৯৭ রানে ব্যাট করছেন। তিনি শট করলেন, বল চলে গেল সীমানার ওপারে। উল্লাসে মেতে উঠলো ডাবলিনের ম্যালাহাইড স্টেডিয়াম। কিন্তু আম্পায়ার লেগ বাই সংকেত দেওয়াতে নীরব হয়ে গেল দর্শক। পরপর দুটো সিঙ্গেল নিয়ে ৯৯ রানে পৌঁছালেন ও’ব্রায়েন। বোলিং পরিবর্তন হলো। একটু নার্ভাস হয়ে পড়লেন তিনি। তারপরও দাঁতে দাঁত কামড়ে শট করলেন। বল ফিল্ডারকে পার করতে করতে দুই রান নিয়ে নিলেন—তারপরই চিত্কারে, উল্লাসে ফেটে পড়লেন কেভিন ও’ব্রায়েন—টেস্ট সেঞ্চুরি হয়ে গেছে তার।
প্রথম আইরিশ ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্ট সেঞ্চুরি করলেন কেভিন ও’ব্রায়েন। তার চেয়ে বড় ব্যাপার হলো, দুনিয়ার মাত্র চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলের টেস্ট অভিষেক ম্যাচে সেঞ্চুরি করলেন তিনি। এর আগে এই কীর্তি ছিল অস্ট্রেলিয়ার চার্লস ব্যানারম্যান, জিম্বাবুয়ের ডেভ হটন এবং বাংলাদেশের আমিনুল ইসলাম বুলবুলের। টেস্ট ক্রিকেটে যেহেতু রোজ রোজ কোনো দলের অভিষেক হয় না, তাই রোজ এই রেকর্ড করার সুযোগও আসে না। অবশেষে সুযোগ পেয়েই কীর্তিটা করে ফেললেন ও’ব্রায়েন।

অভিষেক টেস্টের চতুর্থ দিনশেষে তিনি অপরাজিত ছিলেন ১১৮ রানে। গতকাল আর কোনো রান না করেই আউট হয়ে গেছেন এই আইরিশ ব্যাটসম্যান। তার আগে রেখে গেছেন অমূল্য এক ছাপ।

ও’ব্রায়েন নিজেও বলছেন, এই সেঞ্চুরি পাওয়ার মুহূর্তটা তার জন্য খুব আবেগের ছিল। কিন্তু এই আবেগে ভেসে যাননি তিনি। এমন এক কীর্তি গড়া সেঞ্চুরিকেও নিজের ক্যারিয়ার সেরা বলতে রাজী নন ও’ব্রায়েন। এখনো নিজের সেরা ইনিংস বলছেন ২০১১ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারানো সেই সেঞ্চুরিকে। ম্যাচের চতুর্থ দিন ও’ব্রায়েন বলছিলেন, ইনিংসটা ১৭০-৮০ রানের হলে হয়ত এক নম্বর বলতে পারতেন, ‘আমার জন্য ব্যাঙ্গালোরের ওই ইনিংস এখনো নম্বর ওয়ান। ওটাকে আমি সেরা বলব, কারণ ওটা আমি যেখানে খেলেছি এবং যাদের বিপক্ষে খেলেছি, সে জন্য। ওটা ছিল বিশ্বকাপের ইনিংস। হ্যা, যদি আগামীকালও এই ইনিংস চালিয়ে যেতে পারি, ১৭০ রান পার করতে পারি, তাহলে হয়ত এটাকে এক নম্বর বলা যাবে।’

বলাই বাহুল্য, সেটা হয়নি। ও’ব্রায়েন এই ইতিহাস গড়া সেঞ্চুরির পথে আরও কিছু ছোট-বড় রেকর্ডে নাম তুলেছেন। দেশের অভিষেক টেস্ট ম্যাচে কোনো ব্যাটসম্যানের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান এখন তার। অভিষেক টেস্টে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটির অংশীদার এখন তিনি। সেই সঙ্গে আয়ারল্যান্ড এখন অভিষেক টেস্টে তৃতীয় সর্বোচ্চ ইনিংস খেলা দল। এসব কীর্তি ও’ব্রায়েন করেছেন পরিবারের সকলের চোখের সামনে। মা-বাবা-স্ত্রী খেলা দেখতে এসেছিলেন; ভাই তো দলেই আছেন। পরিবারের এই সমর্থনের কথা উল্লেখ করে ও’ব্রায়েন বলছিলেন, ‘এটা অসাধারণ একটা অভিজ্ঞতা ছিল। আমার জন্য খুব আবেগের ব্যাপার।’