বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস আজ : ১০ মিনিটে একজন ও বছরে ৬০ হাজার মানুষ জলাতঙ্কে আক্রান্ত

0
1136

কামরুল হোসেন মনি :  জলাতঙ্ক একটি ভয়ঙ্কর মরণব্যাধি। এ রোগে মৃত্যুর হার শতভাগ। পৃথিবীর কোথাও না কোথাও প্রতি ১০ (দশ) মিনিটে একজন এবং প্রতি বছর সারা পৃথিবীতে প্রায় ৫৫-৬০ হাজার মানুষ জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। জলাতঙ্ক মূলত কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। এছাড়া বিড়াল, শিয়াল, বেজী, বানরের কামড়ে বা আঁচড়ের মাধ্যমেও এ রোগ হতে পারে। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ মানুষ কুকুর, বিড়াল, শিয়ালের কামড় বা আঁচড়ের শিকার হয়ে থাকে, যার মধ্যে বেশির ভাগই শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা এ তথ্য প্রকাশ করেছেন।
আজ (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস। এবারে প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে “জলাতঙ্ক : অপরকে জানান, জীবন বাঁচান”। দিবসটি উপলক্ষে খুলনা সিভিল সার্জনের উদ্যোগে ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
সিভিল সার্জন অফিসের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা জলাতঙ্ক বিষয়ে সারা বিশ্বের জলাতঙ্কের বর্তমানে পরিস্থিতির ওপর বিভিন্ন তথ্য প্রেরণ করেন।
এতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে ২০১০ সালের আগে প্রতি বছর প্রায় ২ হাজার এর অধিক মানুষ জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে মারা যেত এবং গবাদি প্রাণির মৃত্যুর সঠিক পরিমাণ অজানা হলেও একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মারা যায়। ২০১৫ সালের জলাতঙ্ক আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৯০ শতাংশ কমিয়ে আনা এবং ২০২২ সালের বাংলাদেশকে জলাতঙ্কমুক্ত করার লক্ষ্যে ২০১০ সাল থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ এবং নির্মূল কর্মসূচি বাস্তবায়ন চলছে। মানুষের জলাতঙ্ক রোগ শনাক্তকরণের জন্য জাতীয় পর্যায়ে একটি ল্যাবরেটরি স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে ওই পত্রে উল্লেখ করা হয়।
খুলনা জেনারেল হাসপাতালের এআরভি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা পর্যন্ত নতুন করে কুকুরের আক্রমণের শিকার হচ্ছে এমন সংখ্যা ৩৬২ জন। সে হিসেবে গড়ে প্রতিদিন ১৫ জনের মতো কুকুরের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। সোমবার সকাল ১১টা পর্যন্ত কুকুরের আক্রমণের শিকার হয়ে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নিতে আসেন ১২ জন। প্রতিদিনই কমপক্ষে ১৫-২০ জন নতুন করে কুকুরের কামড়ের শিকার হয়ে এ হাসপাতালে জলাতঙ্ক প্রতিষেধক টিকা নিতে আসছেন।
খুলনা জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধয়ক জয়ন্ত নাথ চক্রবর্তী বৃহস্পতিবার এ প্রতিবেদককে বলেন, ২৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস প্রতি বছর উদ্যাপিত হয়। সরকারি বন্ধ থাকার কারণে ২৯ সেপ্টেম্বর শনিবার দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সকাল ৯টায় হাসপাতালের চত্বরে সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে একটি র‌্যালি এবং পরবর্তীতে সিভিল সার্জন কনফারেন্স রুমে জলাতঙ্ক বিষয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
মীরেরডাঙ্গা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ হাবিবুর রহমান বৃহস্পতিবার এ প্রতিবেদককে বলেন, গত এক সপ্তাহে তার এ হাসপাতালে ৫ জন মানুষ কুকুরের কামড়ে শিকার হয়ে আসেন। তিনি বলেন, মানুষের যদি জলাতঙ্ক একবার হয়ে যায় তাহলে তার মৃত্যু নিশ্চিত। কারণ জলাতঙ্ক হওয়ার পরবর্তীতে সুস্থ হওয়ার জন্য বিশ্বে কোন টিকা বা ওষুধ এখনও আবিষ্কার হয়নি।