বিশ্বের যে সব দেশে উন্নত সুবিধা পান প্রবিনেরা

0
804

খুলনা টাইমস ডেক্স : মানুষের জীবনে বার্ধক্য এক অপরিহার্য পর্যায়। তবে সামাজিক-অর্থনৈতিক-সাংস্কৃতিক নানান কারণে বার্ধক্যের জীবন খুবই কঠিন হয়। হয়ে ওঠে চ্যালেঞ্জ। এ নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতি বছরের ১ অক্টোবর দুনিয়াজুড়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস। ১৯৯১ সাল থেকে দিবসটির সূত্রপাত করে জাতিসংঘ। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা বলছে, বিশ্বে বর্তমানে ৬০ বছর বা এর অধিক বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৯০ কোটি ১০ লাখ। ২০৫০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা ২১০ কোটিতে পৌঁছাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই বয়সে তাদের জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা কেমন হবে তা নির্ভর করবে তারা কোন দেশটিতে বসবাস করছেন তার ওপর।
উন্নত বিশ্বে প্রবীণদের মূল্যায়ন হলেও এর অনেকটা বিপরীত চিত্র দেখা যায় উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। ৬০ বছর বা এর অধিক বয়সীদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে ভালো ১০টি দেশের একটি র‍্যাংকিং প্রকাশ করেছে নিউ ইয়র্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ। স্বভাবতই এতে স্থান পাওয়া দেশগুলোর সবকটিই উন্নত বিশ্বের দেশ। এই তালিকায় মানদণ্ড হিসেবে ছিল প্রবীণদের স্বাস্থ্য, উপার্জন, সামাজিক সংযোগ এবং নাগরিক স্বাধীনতা। দেখে নেওয়া যাক তালিকায় থাকা উন্নত দেশগুলোতে কেমন সুবিধা পান প্রবীণরা:

যুক্তরাষ্ট্র
প্রবীণদের জন্য দুনিয়ার সবচেয়ে ভালো দেশগুলোর তালিকায় নবম স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে বয়স্কদের মধ্যেও শিক্ষার হার ভালো। ৬০ বছরের অধিক বয়সীদের মধ্যে মাধ্যমিক বা উচ্চ শিক্ষার হার ৯৬ শতাংশ। নিরাপত্তা এবং সামাজিক সংযুক্তি নিয়ে প্রবীণদের উচ্চ সন্তুষ্টি রয়েছে। প্রত্যাশিত গড় আয়ু এবং স্বাস্থ্যকর জীবনের প্রত্যাশা আঞ্চলিক গড় হারের কাছাকাছি। তবে দেশটিতে প্রবীণদের আয় অপেক্ষাকৃত কম। বয়স্কদের মধ্যে দারিদ্র্যের হার ১৮ শতাংশ।

যুক্তরাজ্য
সিবিএস নিউজ-এর র‍্যাংকিং অনুযায়ী, প্রবীণদের জন্য সবচেয়ে ভালো দেশের তালিকায় ১০ নাম্বার স্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটিতে সামাজিক সংযুক্তি, নাগরিক স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও গণপরিবহনের মতো মানদণ্ড নিয়ে বয়স্কদের উচ্চ সন্তুষ্টি রয়েছে। যুক্তরাজ্যে ৬৫ বছরের অধিক বয়সীরা শতভাগ পেনশন সুবিধা ভোগ করেন। বয়স্কদের দারিদ্র্যের হার ৯ দশমিক ৩ শতাংশ।

সুইডেন
৬০ বছরের অধিক বয়সীদের শিক্ষা ও উচ্চ কর্মসংস্থানের দিক থেকে ভালো অবস্থানে রয়েছে সুইডেন। ইউরোপে প্রবীণদের শিক্ষা ও উচ্চ কর্মসংস্থানের গড় হারের চেয়ে ওপরের দিকে রয়েছে দেশটি। নিরাপত্তা, নাগরিক স্বাধীনতা ও গণপরিবহন ব্যবহারের দিক থেকেও প্রবীণদের উচ্চ মাত্রায় সন্তুষ্টি রয়েছে।

সুইজারল্যান্ড
প্রবীণদের জন্য দুনিয়ার সবচেয়ে ভালো দেশ সুইজারল্যান্ড। কারণ ইউরোপের এই দেশটিতে প্রবীণদের স্বাস্থ্য ও তাদের যথাযথ পরিবেশের ব্যাপারে সরকারি বিভিন্ন নীতিমালা ও কর্মসূচি রয়েছে। এখানে ৬০ বছরের একজন মানুষ আরও ২৫ বছর বেঁচে থাকার প্রত্যাশা রাখেন। প্রবীণদের সামাজিক সংযুক্তি এবং নাগরিক স্বাধীনতার দিক থেকে সুইজারল্যান্ডের স্থান শীর্ষে। দেশটিতে ৬৫ বছরের অধিক বয়সীদের শতভাগ পেনশন দেওয়া হয়। তারপরও দেশটির প্রবীণদের ১৬ দশমিক ১ শতাংশ এখনও দারিদ্র্যপীড়িত। ইউরোপে বয়স্কদের দারিদ্র্যের গড় হারের চেয়ে এটা বেশি।

নরওয়ে
প্রবীণবান্ধব দেশের তালিকায় সুইজারল্যান্ডের পরই নরওয়ের অবস্থান। দেশটিতে বয়স্কদের মধ্যে ৭১ দশমিক ১ শতাংশ মানুষই কর্মজীবি। এটা ইউরোপে কর্মজীবী প্রবীণদের গড় হারের চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি। বয়স্কদের শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকেও নরওয়ের প্রবীণরা এগিয়ে রয়েছেন। এছাড়া দেশটিতে প্রবীণদের দারিদ্র্যের হার ১ দশমিক ৮ শতাংশ। এক্ষেত্রে ইউরোপে নরওয়ের স্থান নিচের দিক থেকে দ্বিতীয়। দেশটিতে ৬৫ বছরের অধিক বয়সীরা শতভাগ পেনশন সুবিধা পান।

জার্মানি
ইউরোপের সমৃদ্ধ দেশ জার্মানি। অন্য অনেক সূচকের মতো প্রবীণবান্ধব দেশ হিসেবেও এগিয়ে রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে প্রভাবশালী এই দেশটি। সামাজিক সংহতি এবং নাগরিক স্বাধীনতার দিক থেকে ভালো অবস্থানে আছেন দেশটির প্রবীণরা। প্রত্যাশিত আয়ু এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের দিক থেকে জার্মান প্রবীণদের হার ইউরোপের গড়পড়তা হারের মতোই।

কানাডা
বয়স্কদের জন্য দুনিয়ার সবচেয়ে ভালো পাঁচটি দেশের একটি কানাডা। এখানে মানুষের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল বেশি এবং স্বাস্থ্য খাতে তারা নানা সুবিধা পেয়ে থাকে। দেশটিতে প্রবীণরা ৯৭ দশমিক ৭ শতাংশ পেনশন সুবিধা পান। বয়স্কদের দারিদ্র্যের হার ৬ দশমিক ৮ শতাংশ।

নেদারল্যান্ডস
ইউরোপের এই দেশটিকে প্রবীণদের জন্য সবচেয়ে ভালো দেশের তালিকায় ছয় নাম্বারে রেখেছে সিবিএস নিউজ। নেদারল্যান্ডসে বয়স্কদের দারিদ্র্যের হার ৩ শতাংশ। ৬৫ বছরের অধিক বয়সী সব নাগরিক পেনশন সুবিধা পান। সামাজিক সংযোগ এবং নাগরিক স্বাধীনতার দিক থেকে প্রবীণদের উচ্চ মাত্রায় সন্তুষ্টি রয়েছে।

আইসল্যান্ড
ইউরোপের মধ্যে আইসল্যান্ডে প্রবীণদের দারিদ্র্যের হার সর্বনিম্ন। দেশটিতে এ হার ১ দশমিক ৬ শতাংশ। দেশটিতে স্বাস্থ্য খাতে প্রবীণদের ভালো সুবিধা রয়েছে। আইসল্যান্ডে ৬০ বছরের একজন মানুষ আরও ২৫ বছর বেঁচে থাকার আশা করেন। সংযুক্তি, নিরাপত্তা, গণপরিবহন এবং নাগরিক স্বাধীনতার মতো মানদণ্ডে দেশটির প্রবীণরা সন্তুষ্ট। বয়স্কদের ৮১ দশমিক দশমিক ১ শতাংশই কর্মজীবী। তবে ৬০ বছরের অধিক বয়সীদের মধ্যে মাত্র ৪০ দশমিক ৯ শতাংশের মাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশুনা বা উচ্চ ডিগ্রি রয়েছে।

জাপান
ইউরোপের বাইরে প্রবীণবান্ধব দেশের তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছে এশিয়ার দেশ জাপান। মোট জনসংখ্যার অনুপাতে জাপানে বয়স্কদের হার বিশ্বের সর্বাধিক। দেশটির মোট জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশেরই বয়স ৬০ বছরের বেশি। এখানে প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা খুবই চমৎকার। ৬০ বছরের একজন মানুষ আরও ২৬ বছর বেঁচে থাকার আশা করেন। তাদের প্রত্যাশা এই ২৬ বছরের মধ্যে ২০ বছরেরও বেশি সময় তারা সুস্থ থাকবেন। সামাজিক সংযোগ, নিরাপত্তা এবং নাগরিক স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলোতে প্রবীণদের উচ্চ সন্তুষ্টি রয়েছে।

সূত্র: গ্লোবাল এজ ইনডেক্স ২০১৫, সিবিএস নিউজ।