বিশ্বকাপের উত্তাপ নেই রাশিয়ায়!

0
356

স্পোর্টস ডেস্কঃ
বিশ্বকাপ ফুটবল খেলবে মাত্র ৩২ দেশ। অথচ এই আসর নিয়ে উত্তাপ আর উন্মাদনা গোটা ফুটবল দুনিয়ায়। এই উচ্ছ্বাস আর আবেগের মাত্রাটা আকাশচুম্বি। তবে আয়োজক দেশ রাশিয়ায় ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে চোখে পড়ার মতো উত্তাপ নেই! বিশ্বকাপ নিয়ে বেশিরভাগ মানুষের আগ্রহও তেমন একটা নেই। রাশিয়া বাদে অন্যকোনো দেশের পতাকাও চোখে পড়ে না। চায়ের আড্ডায়ও নেই বিশ্বকাপ ফুটবল প্রসঙ্গ।

তবে আয়োজক হিসেবে সেরাটাই দিতে চায় রাশিয়া। নতুন সাজে সেজেছে পুরো রাশিয়া। ফুটবলপ্রেমীদের বরণ করে নিতে প্রস্তুত স্বাগতিক দেশটি। এই আসর নিয়ে দেশটির আছে পয়সা-কড়ির চুলছেড়া হিসাব। সহজ কথা, বাণিজ্যিক দিকটি মাথায় রয়েছে সবার। সারাবিশ্বের ফুটবল প্রেমীদের চোখ রাশিয়ায়- এটিকে পুঁজি করে পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে চায় আয়োজক দেশটি। ২০১০ সাল থেকেই এটি নিয়ে কাজ করছে সরকারি-বেসরকারি একাধিক সংস্থা।

ওই সময় এসব সংস্থার গবেষণায় উঠে আসে, ২০১৩ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে রুশ অর্থনীতিতে বিশ্বকাপের প্রভাব ৮৬৭ বিলিয়ন রুবল হবে। এই সময়ে ২ লাখ ২০ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। প্রতিবছর (২০১৩-২০২০) জিডিপির ওপর গড় প্রভাব ১৫০ থেকে ২১০ বিলিয়ন রুবল হবে বলেও অনুমান করা হয়।

মস্কোর গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি নিয়ে পিএইচডি করছেন বাংলাদেশি মো. নাজমুল হোসাইন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ায় আছি। ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসেবে অনেক বছর ধরেই দেশটি নানা প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে এই আসর নিয়ে রাশিয়ানদের মধ্যে মাতামাতি নেই। পাতাল রেল, বাস কিংবা চায়ের আড্ডা কোথাও এসব নিয়ে আলোচনা নেই। সবাই নিজ নিজ কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। তবে আয়োজক দেশ হিসেবে দেশটির অর্থনীতি চাঙ্গা হবে, পর্যটক আকৃষ্ট হবে- এটি প্রত্যাশা করছে স্বাগতিক দেশটির নাগরিকরা।

রাশিয়ান নাগরিক ই-ক্যাটরিনা একটি বিপণিবিতানে কাজ করেন। কেনাকাটার ছলে ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে তার কাছে জানতে চাইলাম। উদ্দেশ্যে- এদের আগ্রহের মাত্রাটা উপলব্ধি করা। কথা বলে বুঝলাম, মেয়েটি ফুটবলের ভক্ত। বিশ্বকাপে প্রিয় দল নিজের দেশ রাশিয়া।

কথা প্রসঙ্গে জানালেন, চারবারের চ্যাম্পিয়ন ইতালি নেই বলে আফসোস হচ্ছে। এই আসরে নেই নেদারল্যান্ডস, চিলির মতো জনপ্রিয় দলও। তবে জার্মান, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, স্পেন, ফ্রান্সের মতো সাবেক চ্যাম্পিয়নরা এবারো শক্তিশালী দল নিয়ে নামছে ফুটবলের মহারণে। ফেভারিটের কাতারে আছে কখনোই বিশ্বকাপ না জেতা পর্তুগাল, বেলজিয়ামের মতো দলও। রাশিয়ানদের মধ্যে বিশ্বকাপের উত্তাপ আর উন্মাদনা নেই বলে হতাশ হয়েছিলাম। এই মেয়ের ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে খোঁজ-খবর রাখা দেখে অবাকই হয়েছি! বুঝেছি, কারো কারো কাছে ফুটবল বিশ্বকাপের আবেদন রয়েছে।

রাশিয়ার গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের ছাত্র ড্যানিশ পেত্রোভিচের সঙ্গে ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে কথা হচ্ছিল। তাকে জানালাম, বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবলে খেলছে না। তবুও গ্রামে-গঞ্জে, পাড়ায়-মহল্লায় বিশ্বকাপ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। বাড়ির ছাদ, গাছের ডাল ছেয়ে গেছে নানা দেশের পতাকায়। সব কিছুতেই লেগেছে বিশ্বকাপের ছোঁয়া। একজন প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসার নজির সৃষ্টি করতে নিজের ছয়তলা বাড়ি ব্রাজিলের পতাকার রঙে রাঙিয়েছেন। বাড়ির নাম দিয়েছেন ‘ব্রাজিল বাড়ি’। আরেক ভক্ত প্রিয় দল জার্মানিকে সমর্থন জানাতে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার লম্বা পতাকা বানিয়েছেন।

এসব শুনে ড্যানিশ বললেন, ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক রাশিয়া হলেও বিশ্বকাপের উত্তাপ আর উন্মাদনায় বাংলাদেশের কাছে স্বাগতিক দেশও হার মেনেছে। বাংলাদেশও একদিন ফুটবল বিশ্বকাপ খেলবে বলে শুভ কামনা জানিয়েছেন তিনি। তবে নিজের দেশের কথা বলতেও ভুলেননি! জানালেন, আয়োজক দেশ রাশিয়া প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছে এবারের আসরকে সর্বকালের সেরা আয়োজনের রূপ দিতে। ফুটবল নিয়ে আগ্রহ না থাকলেও রাশিয়ান এই নাগরিকের প্রত্যাশা- তার দেশ সফলভাবেই শেষ করতে পারবে বিশ্বকাপ।