বিএসএমএমইউতে চাকরির প্রত্যাশায় বিএনপিপন্থী ড্যাব নেতা ডা. রাসেল, আছেন আ’লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটিতেও

0
95

নিজস্ব প্রতিবেদক:
আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপ-কমিটিতে জায়গা করে নিয়েছেন বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর সদস্য ডা. মো: শরীফ হোসেন রাসেল। উপ-কমিটির তালিকায় ২৫নং এ বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে রয়েছে তার নাম।
গত ৩০ এপ্রিল, ২০২২ তারিখে বিএসএমএমইউ-এ ডেন্টাল অনুষদের এক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। গোপনসূত্রে জানা গেছে, এই ড্যাব সদস্য ডা. রাসেল আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির নাম ভাঙিয়ে এবং তার চাচার সুপারিশে কনজারভেটিভ ডেন্টিস্ট্রি এন্ড এন্ডোডনটিক্স বিভাগে সহকারী অধ্যাপক পদে চাকরি পেতে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে।
জানা গেছে, ২০০৫ সালে বাংলাদেশ ডেন্টাল কলেজ থেকে বিডিএস কোর্স শেষ করেন ডা. মো: শরীফ হোসেন রাসেল। এরপর ২০০৬ সালের ২৭ মার্চ ড্যাবের প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করেন তিনি। এর প্রায় তিন মাসের মাথায় বিএনপি আমলে একজন নিবেদিত প্রাণ বিএনপি কর্মী হিসেবে ২০০৬ সালের ১৩ জুন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)-এ ডেন্টাল অনুষদে গবেষণা সহকারী (মেডিকেল অফিসার) হিসেবে যোগ দেন তিনি। ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ড্যাবের সদস্যপদ পুনরায় নবায়নের আবেদনও করেন রাসেল।
এ বিষয়ে ডা. রাসেল বলেন, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে এমন ফরম তৈরী করা হয়েছে।
আরও জানা যায়, ডা. রাসেলের সহধর্মিনীও বিএনপি আমলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিকেল অফিসার হিসেবে নিয়োগ পান। তার শ্বশুর একজন পদচ্যুত বিএনপি সমর্থিত সচিব।
অন্য একটি সূত্র জানায়, কিছুদিন পূর্বে ডা. রাসেল সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং ডেন্টাল অনুষদের চিকিৎসক হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার গণআবেদনে স্বাক্ষর করেন।
২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটি গঠিত হয়। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহ এমপিকে চেয়ারম্যান এবং দলের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দীকে সদস্য সচিব করে ২৭ সদস্যের এই উপ-কমিটির অনুমোদন দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
সাম্প্রতিক সময়ে দলে অনুপ্রেবেশকারীদের নিয়ে যখন তুমুল আলোচনা-সমালোচনা আওয়ামী লীগে, তখন আওয়ামী লীগপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাচিপের নেতারা এই উপ-কমিটিতে তার নাম দেখে বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন। স্বাচিপের বর্তমান ও সাবেক একাধিক নেতা জানান, ডা. রাসেল অতীতে স্বাচিপের কোনো অনুষ্ঠান বা কর্মসূচিতে কখনো ছিল না। তার সাথে স্বাচিপের কখনো যোগাযোগও হয়নি। আমরা জানতাম যে সে ড্যাব করে।
স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষেদের (স্বাচিপ) সভাপতি ইকবাল আর্সলান এ বিষয়ে বলেন, আমি জেনেছি, এটিই যদি সত্য হয়ে থাকে তাহলে বিষয়টি দুঃখজনক। কারণ ক্ষমতার কাছাকাছি থাকতে সবাই পছন্দ করে। তাই বলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করেন না তাকে দলে নিলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতি হবে দলেরই।  তাই কাউকে কোন সংগঠন বা দলে যুক্ত করার আগে প্রয়োজনে স্থানীয়ভাবে খোঁজ নেয়া যেতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ও উপ-কমিটির সদস্য সচিব সুজিত রায় নন্দীর সাথে কথা বলতে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানিয়েছেন আওয়ামীপন্থী সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দরা।