বিএনপি ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র বাদ দিয়ে পরিণতি চিন্তা করুণ : মঞ্জু

0
564

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:
সাজানো পাতানো মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাসের তৃতীয় দিনে ক্ষোভে উত্তাল ছিল খুলনা মহানগরী। বিক্ষুব্ধ হাজারো নেতাকর্মীর মুর্হুমুর্হুর গগনবিদারী শ্লোগানে প্রকম্পিত হয়েছে কে ডি ঘোষ রোডের দলীয় কার্যালয় চত্ত¡র। সকাল ১১ টায় শুরু হওয়া সমাবেশ সময়ের সাথে সাথে নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সংখ্যায় বেড়েছে।
সমাবেশ থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগর সভাপতি সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু সরকার ও পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, দীর্ঘ ৩৫ বছরের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অধিকারী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের আবেগ ও ভালোবাসার কেন্দ্রস্থল। মিথ্যা মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোয় দেশের ১৬ কোটি মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। কিন্ত দেশনেত্রীর নির্দেশে আমরা ধৈর্য্য ধারণ করে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছি। আমাদের সেই ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে গেলে সারা দেশে যে আগুণ জ্বলবে তা নেভানোর সক্ষমতা এই সরকার কিংবা তার অনুগত পুলিশ বাহিনীর নাই।
বিএনপির ভবিষ্যত নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ্য করে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, বিএনপির কি হবে, বিএনপি কিভাবে চলবে এই ভাবনায় ওনার রাতের ঘুম হারাম হয়ে যাচ্ছে। দুঃশাসনের নয় বছরে বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম, নির্যাতন, হামলা, মামলা, খুন, গুম, অপহরণের স্টীম রোলার চালানো হয়েছে। এতো অত্যাচার, এতো নির্যাতন সহ্য করার পরেও একজন বিএনপি কর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেয়নি। এ থেকে তাদের বোঝা উচিৎ বিএনপি কিভাবে চলবে।
খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানোর পর জাতিসংঘসহ সারা বিশ্ব উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জানিয়ে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, শুধু উদ্বেগ নেই আওয়ামী লীগের। তারা খালেদা জিয়াকে জেলে দিয়ে, বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নির্বাচনে অযোগ্য করে আর একটি এক তরফা নির্বাচন করতে চায়। ৫ জানুয়ারী নির্বাচনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সেদিন ভোট কেন্দ্রে কুকুর-বিড়াল ছাড়া কোন ভোটার ছিলনা। আগামীতে এ ধরনের চেষ্টার পুনরাবৃত্তি করা হলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হবে যা সামাল দিতে আওয়ামী প্রশাসন ব্যর্থ হবে।
খুলনা থানায় পুলিশের দায়ের করার মামলার কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, মামলার এজাহারে আমার নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা সহ হামলা, ভাংচুর, সড়ক অবরোধ করে পুলিশকে আহত করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি জানতে চান, এটা কি সত্যি? নেতাকর্মীরা সমস্বরে হাত তুলে না না বলে উঠলে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, আপনারা স্বাক্ষ্য দিলেন। আর এখানে মিডিয়ার বন্ধুরা ছিলেন। তাদের কাছে সমস্ত ডকুমেন্ট রয়েছে। যারা এই মিথ্যা মামলা দিয়েছে তাদেরকে একদিন এ জন্য জবাবদিহি করতে হবে।
সমাবেশ থেকে তিনি আর একজন নেতাকর্মীর বাড়িতেও পুলিশী তল্লাশির নামে তান্ডব না চালানোর আহবান জানিয়ে বলেন, প্রতিটি কাজের হিসাব আপনাদের কাছ থেকে আদায় করা হবে। তিনি বিএনপি অফিস চত্বর থেকে গ্রেফতার সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, মেহেদী হাসান দীপু, শামসুজ্জামান চঞ্চলসহ নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে আটক সকল নেতাকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। বিএনপি ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র চলছে দাবি করে তিনি এ বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানান।
বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান মুরাদের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মনিরুজ্জামান মনি, কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, মীর কায়সেদ আলী, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, মোল্লা আবুল কাশেম, সিরাজুল ইসলাম, ফখরুল আলম, এ্যাড. ফজলে হালিম লিটন, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, শেখ আব্দুর রশিদ, সিরাজুল হক নান্নু, এ্যাড. এস আর ফারুক, শফিকুল আলম তুহিন, মাহবুব হাসান পিয়ারু, আজিজুল হাসান দুলু, মুজিবর রহমান, শরিফুল ইসলাম বাবু প্রমুখ। সমাবেশের শুরুতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামণা করে বিশেষ দোয়া মোনাজাত করেন ওলামা দল নেতা মাওলানা আব্দুল গফফার।
সভায় উপস্থিত ছিলেন শেখ মোশারফ হোসেন, শেখ খায়রুজ্জামান খোকা, রেহানা আক্তার, মোঃ শাহজালাল বাবলু, স ম আব্দুর রহমান, শেখ আমজাদ হোসেন, মাহববু কায়সার, মহিবুজ্জামান কচি, ইকবাল হোসেন খোকন, এ্যাড. গোলাম মাওলা, মোঃ শাহজাহান, এহতেশামুল হক শাওন, শেখ সাদী, ইউসুফ হারুন মজনু, সাজ্জাদ আহসান পরাগ, সাজ্জাদ হোসেন তোতন, একরামুল কবির মিল্টন, একরামুল হক হেলাল, হাসানুর রশিদ মিরাজ, হাসান মেহেদী রিজভী, নাজমুল হুদা চৌধুরী সাগর, হেলাল আহমেদ সুমন, রবিউল ইসলাম রবি, হাফিজুর রহমান মনি, এ্যাড. মোহাম্মদ আলী বাবু, আফসার উদ্দিন মাস্টার, জহর মীর, শমসের আলী মিন্টু, বদরুল আনাম, হাবিব বিশ্বাস, ওহেদুজ্জামান, শেখ জামিরুল ইসলাম, এইচ এম এ সালেক, তরিকুল ইসলাম, শেখ ফারুক হোসেন, মোঃ জামালউদ্দিন, আশরাফ হোসেন, নাসির খান, আবু সাঈদ শেখ, তরিকুল্লাহ খান, আহসানউল্লাহ বুলবুল, রবিউল ইসলাম রবি, মেজবাহউদ্দিন মিজু, মহিউদ্দিন টারজান, জাহিদ কামাল টিটু, মোল্লা ফরিদ আহমেদ, মোস্তফা কামাল, সরদার ইউনুস আলী, তৌহিদুর রহমান খোকন, ওয়াহিদুর রহমান দীপু, মতলেবুর রহমান মিতুল, এইচ এম আসলাম হোসেন, লিটন খান, আব্দুল আলিম, মিজানুর রহমান খোকন, আব্দুর রহমান ডিনো, গাউস হোসেন, আলমগীর হোসেন, রবিউল ইসলাম রুবেল, মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।