বিএনপি’র ৬ কাউন্সিলরের আ’লীগে যোগদান চূড়ান্ত

0
851

নিজস্ব প্রতিবেদক : অবশেষে বিএনপি’র ৬ কাউন্সিলর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে যোগদানের সুযোগ পেয়েছেন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা যোগদিবেন। আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারনী মহল সুত্রে এ তথ্য জানাগেছে। সুত্র মতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের যোগদান করাবেন। উল্লেখ্য,খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচন যেতে না যেতেই নব-নির্বাচিত কাউন্সিলরদের দল বদলের গুঞ্জন উঠেছিলো। এর মধ্যে বিএনপি মনোনীত তিন জন, বহি®কৃত দু’জন ও জামায়াতে ইসলামী মনোভাবের একজন কাউন্সিলর রয়েছেন। নির্বাচনের পরদিন বিকেলে ফুলের তোড়া দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়ের এ খবর জানাজানি হলে রাজনৈতিক নেতা-কর্মী থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম কৌতুহল সৃষ্টি হয়। আর এ গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
সুত্রটি জানায়,গত রবিবার আওয়ামী লীগের যোগদানে মধ্যস্ততাকারী খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা যোগদানের দিনক্ষণ ঠিক করতে দলটির নীতি-নির্ধারিত মহলের এক শীর্ষ নেতারা সাথে বৈঠক করেন। যোগদানের তারিখও ঠিক হয়েছে তবে, অজ্ঞাত কারণে বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছে। নাম না প্রকাশের স্বর্থে নীতি-নির্ধারিত মহলের ওই শীর্ষ নেতা যোগদানের তারিখ ঠিক হয়েছে বলে এই প্রতিবেদকের কাছে স্বীকার করেছেন।
খোজ নিয়ে জানা যায়,গত ১৬ মে বিকেলে নব-নির্বাচিত ছয় কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা ও বাগেরহাট-১ আসনের এমপি শেখ হেলাল উদ্দিনের সাথে তার খুলনার বাসভবনে সাক্ষাত করেন। এ সময় ফুলের তোড়া দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন কেসিসি’র প্যানেল মেয়র-১ ও ১৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনিছুর রহমান বিশ্বাস, প্যানেল মেয়র-২ ও ১৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ হাফিজুর রহমান হাফিজ, ২০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিএনপি নেতা শেখ মোঃ গাউসুল আজম, ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিএনপি নেতা সুলতান মাহমুদ পিন্টু, ২৬নং ওয়ার্ডের স্বতন্ত্র কাউন্সিলর মোঃ গোলাম মওলা শানু এবং বিএনপি মনোনীত ৬নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ প্রিন্স। শুভেচ্ছা বিনিময়কালে উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নবনির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান এমপি, কেন্দ্রীয় সদস্য এস এম কামাল হোসেন।
দলীয় সূত্রমতে, নগর বিএনপি’র সদ্য বহিষ্কৃত যুগ্ম-সম্পাদক বর্তমান প্যানেল মেয়র-২ শেখ হাফিজুর রহমান হাফিজ বিএনপি’র মনোনয়নে কাউন্সিলর প্রার্থী হয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেকের পক্ষে নৌকা প্রতীকে ভোট চান। গত ৫ মে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কার করা হয় ষষ্ঠবারের মতো নির্বাচিত এ কাউন্সিলরকে। নগর বিএনপি’র স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক আনিছুর রহমান বিশ্বাষের পদ-পদবী স্থগিত হয় পাঁচ-ছয় বছর পূর্বেই। তার আগে মহানগর যুবদলের সহ-সভাপতির পদ থেকে বহি®কৃত হন তিনি। তরুণ এ জনপ্রতিনিধি ১৬নং ওয়ার্ডে চতুর্থবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পূর্বে সরকার বিরোধী আন্দোলনে মাঝে-মধ্যে রাজপথে দেখা যেত তাকে। ২০১৫ সালের ৩ নভেম্বর প্যানেল মেয়র-১ আনিসুর রহমান বিশ্বাষ খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পেলে তখনি আলোচনা উঠেছিল-আওয়ামী লীগের সাথে তার ঘনিষ্ঠতার। গুঞ্জন উঠেছিল আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছেন তিনি। এছাড়া পরিবারে রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা।
বিএনপি’র একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বললেন, “কাউন্সিলর হাফিজ ও আনিস বিশ্বাষ জন্মসূত্রে মুসলিম লীগ পরিবারের হলেও পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের সাথে ঘনিষ্ঠতাই বেশি তাদের। দু’জনই বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত। তাই তাদের সম্পর্কে মন্তব্যও করতে চান না বিএনপি নেতারা।”
একই পরিবারের সদস্য ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান মাহমুদ পিন্টু। বিএনপি’র মনোনয়নে তৃতীয়বারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেন তিনি। পিতা বিএনপি নেতা কাউন্সিলর শেখ রুহুল আমিনের ইন্তেকালের পর উপ-নির্বাচনে বড় ছেলে সুলতান মাহমুদ পিন্টুকে মনোনয়ন দেয় দলটি। সেই উপ-নিবাচন থেকে এ পর্যন্ত তিনবার ৭নং ওয়ার্ডে বিএনপি’র একক প্রার্থী হিসেবে তিনি নির্বাচিত কাউন্সিলর সুলতান মাহমুদ পিন্টু বিএনপি’র বিশ্বস্ত কর্মী। অন্যদিকে, ৬নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ প্রিন্স বিএনপি নেতা প্রয়াত কাউন্সিলর মোঃ শওকত হোসেনের পুত্র। গেল বছরের ১৩ ডিসেম্বর পিতার ইন্তেকালের পর গত ২৯ মার্চ বিএনপি’র মনোনয়নে উপ-নির্বাচনে পিতার আসনে বসেন শামসুদ্দিন আহমেদ প্রিন্স। সদ্য সম্পন্ন গত ১৫ মে কেসিসি নির্বাচনেও বিএনপি’র মনোনয়নে বিপুল ভোটের ব্যবধানে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এদিকে, নগরীর ২০নং ওয়ার্ডে বার বার নির্বাচিত কাউন্সিলর শেখ গাউসুল আজম স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্রদলের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। পরবর্তীতে মহানগর যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। গেল বছরের ২৬ অক্টোবর মহানগর বিএনপি’র ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন তিনি। এ থেকে তার দীর্ঘ ৩৫ বছর বিএনপি’র রাজনীতির যবনিকা ঘটে। তবে পদত্যাগের পরও দলীয় কর্মকান্ডে তার সরব উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়। এজন্য বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলীয় মনোনয়নও পেয়ে যান তিনিই। ২৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ গোলাম মওলা শানু নগরীর পশ্চিম বানিয়াখামারের মোল্লা মোঃ খলিলুর রহমানের ছেলে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে টানা চতুর্থবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ছাত্র জীবন থেকে ইসলামী আর্দশভিত্তিক রাজনীতিতে হাতে খড়ি শানু প্রথমে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘সাথী’ ছিলেন। বাইরে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে বিতর্ক থাকলেও ওয়ার্ডবাসীর কাছে যোগ্য ও দক্ষ জনপ্রতিনিধি গোলাম মওলা শানু সকলের আশ্রয়স্থল। কেসিসি’র ২০০৮-১৩ পরিষদেই আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সাথে গভীর সখ্যতা গড়ে উঠে তার। এজন্য তার ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টার ভবনটির নামকরণও করেছিলেন তৎকালীন মেয়রের নামেই। ফলে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া দিয়ে খুলনার রাজনীতিতে কোন প্রভাব পড়বে না বলে দাবি করেন বিএনপি-জামায়াতের শীর্ষ নেতারা।