বালিশ কান্ড হার মেনেছে খুলনার ‘জুতার তাক কান্ডে’ : ফ্লাট প্রতিবেশীকে হয়রানির অভিযোগ

0
987

ইয়াছিন আরাফাত:
খুলনা মহানগরীতে এবার ‘জুতার তাক কান্ড’ নিয়ে তুলকালাম ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। দুই ফ্লাট মালিকের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এরমধ্যে একজন মালিক ব্যবসায়ী ও অপরজন শিক্ষক।” অথচ ২০১৯ সালের মার্চ মাস অবধি তাদের সু-সম্পর্ক ছিল। এরপরই হঠাৎ পরিবর্তন? জুতার তাক সরিয়ে ফেলতে বলা, বহিরাগত লোক দিয়ে পরিবারের সদস্যদের শ্বাসানো, পুলিশ নিয়ে এসে তাক সরিয়ে ফেলাতে বাধ্য করানোর অপচেষ্টা, আলমারি রেখে চলার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি” শিরোনামে থানায় অভিযোগপূর্বক সংবাপত্রের পাতায় তা প্রকাশ করানোর মতো ঘটনায় এই নগরীর ‘জুতার তাক কান্ড’ রূপপূরের বালিশ কান্ডকেও হার মানিয়েছে। মূলত: নেপথ্যে রয়েছে ভাড়াটিয়া সরকারী কর্মকর্তার ইচ্ছাপুুরণ ও অধিক সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্য।

ল্যান্ড ওনার ও অ্যাপার্টমেন্ট’র সভাপতি এএফএম আবুল হাসনাত রাজার কাছে উদ্ভূত পরিস্থিতি সর্ম্পকে জানতে চাইলে তিনি খুলনাটাইমসকে বলেন, উভয়পক্ষের সাথে প্রাথমিক আলাপ হয়েছে। অচিরেই খুলনায় এসে এর নিরসন করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছি। তারপরও ফিরোজ সাহেব থানায় অভিযোগ করেছেন, সংবাদও করিয়েছেন। এক্ষেত্রে দৃশ্যমান তিনি তার প্রতিবেশি ফ্লাট মালিককে নানাভাবে চাপ দিচ্ছেন জুতার তাকটি সরিয়ে ফেলতে। এটাকে ফিরোজ তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে একজন শিক্ষককে হয়রানি করা ছাড়া আরও কিছুই বলার নেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, সার্কিট হাউজে মাঠের প্রধান গেটের বিপরীত পার্শ্বে হাসান টাওয়ারে ফ্লাট ক্রয় করে ২০১৪ সাল থেকে বসবাসকারি মালিক ও ভাড়াটিয়ারা যেমন ৬ডি, ৬ই, ৪ডি, ৩ডি, ৩ই, ১ডি ও ১ই সহ প্রায় সকলে ফ্লাটের সামনে জুতার তাক বা আলমারী আছে। এমনও দেখা যায় ১এ ও ১বি, ৬এ ও ৬বি এবং ৮বি ফ্লাট ক্রয় করে ফ্লাটমালিকগন স্থায়ীভাবে ক্লপ্সাবেল গেট বা কেচি গেট তৈরি করে সাধরনের চলাচলের পথ তাদের নিজের ফ্লাটের অর্নÍভুক্ত করে নিয়েছে।

জানা গেছে, ১এ, ১বি, ৩এ, ৩ই, এবং ৪ই পাঁচটি ফ্লাট আরসিসি বিল্ডার্স লিঃ কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে নামে ও বে-নামে ক্রয় করে বিডিবিএল’র ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎকারী টিপু সুলতান। উল্লেখ্য, ১এ ও ১বি দুইটি ফ্লাটের সামনে লম্বা ২২ফুট চওড়া ৪ফুট ৫ইঞ্চি রাস্তায় ক্লপ্সাবেল গেট বা কেচি গেট তৈরি করে স্থায়ী দখলে নিয়েছে এই টিপু সুলতান। ৩এ থাকে তার স্ত্রীর ১ম পক্ষের মেয়ের জামাই ফিরোজ আহম্মেদ, ৩ই থাকে একজন ভাড়াটিয়া, ৪ই ফøাটটি গত মার্চ ২০১৯ থেকে ভাড়া গ্রহণ করে একজন এডিসি। এই নতুন ভাড়াটিয়া ইচ্ছা পুরণ ও অধিক সুবিধা প্রদানের লক্ষে ল্যান্ড ওনার ও অ্যাপার্টমেন্ট’র সভাপতি এএফএম আবুল হাসনাত রাজা, আরসিসি বিল্ডার্স লিঃ কর্তৃপক্ষ এবং প্রতিবেশী ৪ডি ফ্লাটের মালিক আবুল কালাম আজাদের সাথে কোন ধরনের আলোচনা না করেই গত ২৮ এপ্রিল সদর থানায় অভিযোগ করেন ফিরোজ আহম্মেদ।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, মোঃ আবুল কালাম আজাদের চলাচলের পথে কাঁঠের তৈরি বড় আকারের আলামারী রাখায় ফিরোজ আলমের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি পথ চলার অসুবিধা ২৮ শে এপ্রিল ১০টায় আলমারী সরাতে বললে আবুল কালাম আজাদ ক্ষুব্দ হয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।

এ ব্যপারে খানজাহান আলী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ খুলনাটাইমসকে বলেন, আমি বিষয়টি আরসিসি বিল্ডার্স লিঃ ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্জয় চক্রবর্তী এবং ল্যান্ড ওনার ও অ্যাপাটমেন্টর সভাপতি এএফএম আবুল হাসনাত রাজার উপর ন্যাস্ত করেছি। উনারা যা বলবেন আমি তাই করব।
তিনি জানান, ৪ডি ফ্লাটটি ক্রয়ের পর ২৫মে ২০১৪ সাল থেকে উক্ত জুতার তাকসহ বসবাস করছি। টিপু সুলতান বা ফিরোজ আহম্মেদের বিভিন্ন ভাড়াটিয়া দীর্ঘদিন যাবৎ ৪ ই অর্থাৎ আমাদের পাশে থেকেছে। সবার সাথে সম্পর্ক ভাল। গত মার্চ -১৯ থেকে নতুন ভাড়িটিয়া হিসাবে এডিসি রেভিনিউ আসে। তার ইচ্ছা পুরন ও অধিক সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে বিভিন্নভাবে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গত ২৮ শে এপ্রিল ২০১৯ ফোনে আমার বড় মেয়ে আমাকে জানায় বাসায় পুলিশ এসেছে। সদর থানায় এসআই দেলোয়ারের ফোন নম্বর সংগ্রহ করে জানতে পারি ফিরোজ আহম্মেদ আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে, সে বিষয় তদন্তে তিনি আমার বাসায় গিয়েছে। এসআই দেলোয়ার জানায়, জুতার আলমারী সরানোর বিষয় নিয়ে অদ্য সকাল দশটায় ফিরোজ সাহেব কে আমি ভয়ভিতী ও হুমকি দিয়েছি। উল্লেক্ষ্য যে ঐদিন সকাল ৯টায় আমি অফিসে যেয়ে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের উদেশ্যে ঢাকায় রওনা দেই। ঐ দিন তার সাথে আমার কোন দেখা বা কথা হয়নি।

এরপর গত ১১ মে আমি অফিসে থাকা অবস্থায় জানতে পারি এসআই শাহ নেওয়াজ বাসায় আসে ফ্লাট মালিক বা বসবাসকারী নন, এমন একজন মাসুমকে নিয়ে। তখন আরসিসি বিল্ডার্স লিঃ ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্জয় চক্রবর্তী জানায়, বিষয়টি খুলনায় যেয়ে আমি সমাধান করব।

পরবর্তীতে গত ১৪ জুন শুক্রবার সদর থানার ওসি হুমায়ুন আহম্মেদ এবং এসআ্ই শাহ নেওয়াজ পুনরায় আমার বাসায় আসে। সে দিনও আমি বাসায় নাই। এসময় ল্যান্ড ওনার ও অ্যাপার্টমেন্টের সভাপতি এএফএম আবুল হাসনাত রাজা, ওসির সাথে কথা বলেন জানান, যেহেতু আমি ল্যান্ড ওনার এবং উক্ত অ্যাপার্টমেন্টের সভাপতি সেহেতু আমার মাধ্যমে সমাধান হওয়াটাই যুক্তিসংগত বলে মনে করি এবং তিনি অথবা তার ছেলে খুলনায় এসে সমস্যাটি দ্রুত সমাধান করবে মর্মে আশ্বস্ত করেন।

সদর থানার ওসি হুমায়ুন আহম্মেদ খুলনাটাইমসকে বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়ে সেখানে ফোর্স পাঠিয়েছি, তাতে কাজ হয়নি। তাই নিজে গিয়ে তাদের বলেছি, এটাকে সরিয়ে ফেলতে, কারণ এটা আলমারির মতোই দেখতে, জুতার তাক বলা যায় না। প্রসঙ্গত: জুতার তাকের চওড়া সাধারণত: ১ ফুট ৩ ইঞ্চি হয়। এটার চওড়া একই, তবে উচ্চতা ৬ ফুট।

ফ্লাট মালিক ফিরোজ আহম্মেদ খুলনাটাইমসকে বলেন, আমি আমার প্রতিবেশি ফ্লাট মালিক আবুল কালাম আজাদকে অনেকবার বলেছি আলমারি সাদৃশ তাকটি করিডোর থেকে সরিয়ে ফেলতে, তবে সে গুরুত্ব দেয়নি। অত:পর থানায় অভিযোগ করেছি। পুলিশ এসে বারবার বলেছে। এক প্রশ্নে তিনি দাবি করেন, এই টাওয়ারে টিপু সুলতানের নামে কোন ফ্লাট নেই, এসব বানোয়াট।