‘বাপুরে ৫ কেজি চাইল, কয়দিন খামু, দোকানদাররে কওনা, আমারে আরো কিছু চাইল দ্যাতে’

0
397

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনাটাইমস : ‘শ্যাকের ব্যেটি বাঁইচা থাকুক, আমাগো কম দামে চাইল দেচ্ছে। যদি ডেলি ডেলি পাইতাম তয় খুব ভাল হতো।’

ঘাম আর চোখের পানি মুছতে মুছতে কথাগুলো বলছিলেন নগরীর হরিণটানা এলাকার বৃদ্ধা জয়নব বিবি(৬২)। সোমবার বাগমারা এলাকায় দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে থাকার পর ৫ কেজি চাল পেয়ে আনন্দে-আবেগে আপ্লুত হয়ে চোখের পানি ছেড়ে দেন এই বৃদ্ধা নারী।

সাংবাদিক পরিচয় জানান পর এই প্রতিবেদককে জানান,‘বাপুরে ৫ কেজি চাইল কয়দিন খামু, দোকানদাররে কওনা আমারে আরো কিছু চাইল দ্যাতে।’ ফের সেই শনিবার আইতে কইছে দোকারদার। প্রসঙ্গত সরকার সুলভ মুল্যে খুলনাসহ সারা দেশে খোলা বাজারে চাল ও আটা বিক্রি করছে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সুত্রে জানাযায়,খুলনা মহানগরীতে প্রতিদিন ২০জন ডিলারের মাধ্যমে ২০ টন চাল ও ২০ টন আটা বিক্রি করছেন। সোমবার সরেজমিনে নগরীর নতুন বাজার,লবনচরা,বয়রা ও বাগমারা মেইন রোড এলাকায় দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে হতদরিদ্র মানুষকে চাল ও আটা কিনতে দেখা গেছে। এসব দোকানের সামনে লাইনে দাড়িয়ে থাকা একাধিক মানুষের সাথে কথা হলে তারা বলেন,চাল ও আটার মান খুবই ভাল,দামও বেশ কম কিন্তু সপ্তাহে অন্তত্য দুই দিন দিলে ভাল হতো। এখন মাত্র একদিন দেওয়া হয়। দুই মাস বিরতির পর আবারো খোলা বাজারে চাল ও আটা বিক্রি হচ্ছে। গত বছর আতপ চাল বিক্রি করায় সাড়া ছিল কম। এবার মানুষের আগ্রহ কিছুটা বেড়েছে।
একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ পাঁচ কেজি চাল বা আটা কিনতে পারবেন। শুধু দুটি পণ্য কম দামে কিনতে পেরে খুশি নন ক্রেতারা। তারা চান সহনীয় হোক নিত্য পণ্যের দাম।
এবিষয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা (মহানগর ইন্সেপ্টের) ইব্রহিম বলেন,খুলনা মহানগরীতে প্রায় ৮০ জন পিলার রয়েছে। ও.এম.এস (খোলাবাজারে ) প্রতিদিন ২০ জন ডিলার চাল ও আটা বিক্রি করছেন। প্রত্যেক ডিলার এক টন আটা ও একটন চাল পাচ্ছেন। তিনি জানান,সরকারের খাদ্য মন্ত্রনালয়ের নির্দেশ মোতাবেক বিধি মোতাবেক চাল ও আটা বিক্রি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তরের একঝঁক তদারকি কর্মকর্তা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের নেতৃত্বে এই কার্যক্রম মাঠ পর্যায়ে সার্বোক্ষনিক তদারকি করছেন। খুলনা মহানগরীতে চালের চাহিদার কথা বিবেচনায় এনে বিষয়টি উর্দ্ধোতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষন করা হয়েছে।
খাদ্য অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, মার্চ, এপ্রিল, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর এই পাঁচ মাস অতিদদ্র্রি পরিবারের মাঝে এ চাল বিতরণ করা হবে। এজন্য বছরে লাগবে ৭ লাখ ৫০ হাজার টন চাল। সরকার ঘোষিত সময়ের একদিন পর সোমবার খুলনাসহ সারাদেশে শুরু হয়েছে খোলা বাজারে চাল ও আটা বিক্রি । ৩০ টাকা কেজির চালের তুলনায় ১৭ টাকা কেজি দরের আটায় ক্রেতার আগ্রহ বেশি। বাজারমূল্যের প্রায় অর্ধেক দামে খোলা বাজারে আটা পাচ্ছেন ক্রেতারা- মানও বেশ ভাল।