বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আসছে নতুন আইন

0
525

কামরুল হোসেন মনি : বিশেষ দিনকে সামনে রেখে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন এমন অভিযোগ রয়েছে। যার কারণে বর্তমান সরকার বাজারে পণ্যের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরিকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানা বিধান রেখে কৃষি পণ্য বাজার নিয়ন্ত্রণ আইন পাস করতে যাচ্ছে। এ আইনটি পাস হলেই জনগণ ও ভোক্তা উভয়ই উপকৃত হবেন বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।
এদিকে খুলনায় হঠাৎ করে সব ধরনের সবজির দাম বেড়েই চলেছে। এর মধ্যে আলু, পটল, কাঁচাঝাল, বরবটি, বেগুন অন্যতম। বেড়েছে আটা-ময়দার দামও। ঈদের আগে দেশি পেঁয়াজ-রসুন-আদার দাম বাড়ে তবে এখন কমতির দিকে।
রোববার নিউমার্কেটে বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় আলু, পটল, ঝিঙে, বরবটি, বেগুন, পাতাকপি, উচ্ছে ও কুমড়ার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে আলু কেজিতে ২৪ টাকার পরিবর্তে ২৬-২৮ টাকা, পটল ২৫ টাকার পরিবর্র্তে ৩৫-৪০ টাকা, ঝিঙে ৩০ টাকার পরিবর্তে ৩৫ টাকা, কাঁচাঝাল (দেশি) ৬০ টাকার পরিবর্তে ১০০ টাকা, আমদানিকৃত (ঝাল) ৪০ টাকার পরিবর্তে ৬০-৮০ টাকা, কুশি ২৫ টাকার পরিবর্র্তে ৩০ টাকা, বরবটি ৩০ টাকার পরিবর্তে ৪০ টাকা, পাতাকপি ৪০ টাকার পরিবর্তে ৬০ টাকা, উচ্ছে ৪০ টাকার পরিবর্তে ৬০ টাকা, বেগুন ৩০ টাকার পরিবর্র্তে ৫০ টাকা ও কুমড়া ২৫-৩০ টাকার পরিবর্র্তে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নিউমার্কেটে কাঁচা সবজি বিক্রেতা তাপস ঘোষ জানান, ঈদের পর তরিতরকারির দাম সহনীয় পর্র্যায়ে থাকলেও এখন সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে সব প্রকার সবজির দাম বেড়েই চলেছে। চাহিদার তুলনায় পণ্য সরবরাহ কম হওয়ায় দাম আগের চেয়ে বেড়েছে এমন দাবি তার। তবে ক্রেতারা এ অভিযোগ মানতে নারাজ। ক্রেতা মোঃ আমিনুল ইসলাম জানান, কোনো পণ্যের  চাহিদা বেড়ে গেলেই এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা এসবের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে বাজার মূল্য বাড়িয়ে দেন। কিন্তু বাজারে দেখা যাচ্ছে সরবরাহের কোনো ঘাটতি নেই।
চাল বিক্রেতা দ্বিন মোহাম্মদ জানান, চালের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। তার দেওয়া তথ্য মতে, মাঝারি চাল (কাজল লতা ) ৪৫-৪৬ টাকা, বালাম ৪৮-৫০ ও মিনিকেট ৫৫-৬০ টাকায় কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। শেখপাড়া বাজারে গিয়ে দেখা যায় মিনিকেট ৫৮-৬০ টাকা, স্বর্র্ণা মোটা ৪১-৪২, আটাশ বালাম ৪৫-৪৬ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আটা (লুজ) কেজিতে ২ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২৮-৩০ টাকা ও ময়দা একইভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৩৮-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলেন বিক্রেতা মোঃ লিটন।
কিন্তু বর্তমানে বাজার মূল্যের সাথে সরকারি হিসেব থেকে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। জেলা মার্র্কেটিং সূত্র অনুযায়ী জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর খুুলনা বাজারে মোটা চাল কেজিতে ৩৮-৪০ টাকা, চাল মাঝারি ৪২-৪৪ টাকা, সরু চাল ৫৪-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া তাদের তথ্য মতে ওই দিন খুলনায় আলু ২৪-২৫ টাকা বিক্রি হয়।
এ ব্যাপারে জেলা বাজার কর্মকর্তা আব্দুুস সালাম তরফদার গত ১৩ সেপ্টেম্বর এ প্রতিবেদককে বলেন, বাজার স্থান ভেদে পণ্যের দামের তারতম্য থাকতে পারে। বিশেষ উৎসবের দিন আসলেই এক শ্রেণির অসাধুু ব্যবসায়ীরা বাজারে বিভিন্ন ধরনের পণ্যের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এসব বিবেচনায় এনেই সাধারণ জনগণ যাতে ভোগান্তিতে না পড়েন সেই জন্য জেল জরিমানার বিধান রেখেই বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে নতুন আইন পাস করতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কৃষি পণ্য বাজার ব্যবস্থাপনা আইন ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভায় পাস হয়েছে। এখন সংসদে পাস হলেই এই আইনটি কার্র্যকর শুরু হবে। এতে জনগণ ও ভোক্তা উভয়ই উপকৃত হবেন।