বাগেরহাটে মেঘনা পরিবহনে ডাকাতি, আহত ৪

0
310

 

বাগেরহাট প্রতিনিধি :
বাগেরহাটের সাইনবোর্ড-বগী আঞ্চলিক মহাসড়কে মেঘনা পরিবহনের একটি বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার গভীর রাতে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এসময় ডাকাতদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বাস চালক রাজু মল্লিক ও সুপারভাইজার কামরুল হাওলাদারসহ চার জন আহত হয়েছেন। মেঘনা পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো-৩৯৪৯) বাসটি ৪৫ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে শরণখোলাল রায়েন্দা যাচ্ছিল।

আহত অন্য দুই জন হলেন, রাজু মল্লিক (৩২), সুপারভাইজার কামরল তালুকদার (৩৫), রাহাত হোসেন (২২) ও ইমরান হাওলাদার (১৫)।

আহতদের প্রথমে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ও পরে তাদের মধ্যে গুরতর জখম কামরল ও রাজুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাগেরহাট ও খুলনায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি মেঘনা পরিবহনের আহত সুপারভাইজার কামরুল জানান, বাসটি ৪৫ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে রায়েন্দা যাচ্ছিল। রাত ২টার দিকে সাইনবোর্ড এলাকায় পৌঁছালে যাত্রী বেশে থাকা ডাকাত দলের পাঁচ সদস্য তাকে মারধর ও ধারালো অস্ত্রদিয়ে কুপিয়ে তার কাছে থাকা ১৬ হাজার টাকা নিয়ে যায়। পরে চালককেও মারধর করে। এরপর অস্ত্রের মুখে বাসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে মোবাইল, স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে সাইনবোর্ড বগি সড়কের দৈবজ্ঞহাটী এলাকায় তারা নেমে যায়।

মেঘনা পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ মোস্তফা জামান লিটু মোবাইল ফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন,‘যাত্রীবেশি ডাকাতরা সাইনবোর্ড এলাকায় পরিবহনের চালক ও সুপারভাইজারকে মারপিট করে বাসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডাকাতি করে। এসময় তারা যাত্রীদেরও মারধর করে। সাইনবোর্ড থেকে দৈবজ্ঞহাটি এলাকা পর্যন্ত ফাঁকা রাস্তায় ডাকাতরা সহজে ডাকাতি করতে পারে। যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য তিনি এই এলাকায় পুলিশের একটি ক্যাম্প করার আহ্বান জানান।

এই ডাকাতির বিষয়ে মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল আলম বলেন, ডাকাতির ঘটনা মোরেলগঞ্জ থানা এলাকায় ঘটেনি। এটা ঘটেছে সাইনবোর্ড-বগী আঞ্চলিক মহাসড়কের কচুয়া থানা এলাকার উচু ব্রিজের কাছে।

অপরদিকে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল কবির জানান, ডাকাতির ঘটনা শুনেছি। এটা কচুয়ার মধ্যে নয়, মোরেলগঞ্জের মধ্যে ঘটেছে।

এবিষয়ে বক্তব্য নিতে বাগেরহাট পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি পুলিশের নিয়োগ বোর্ডে থাকায় তাকে মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি জেলার বাইরে আছেন বলে জানান।