বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ: কাদের

0
157

টাইমস ডেস্ক:
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ অদম্য গতিতে এগিয়ে যাওয়া যাদের গাত্রদাহ সৃষ্টি করেছে, তারা নানান অপকৌশলে দেশকে পিছিয়ে দিতে চায়। তাদের অপকৌশলের একটি হচ্ছে হিন্দু-মুসলমান বৈরিতা সৃষ্টি করা। গতকাল রোববার নিজ নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীর বসুরহাট ও কবিরহাটে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসবে তিনি এ মন্তব্য করেন। ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। তিনি বলেন, আপনারা জানেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। আমরা কারও প্রতিপক্ষ নই। আমরা প্রতিবেশি, আমরা একে অপরের সহমর্মী। একই দেশের নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের সংবিধানে আপনার যে অধিকার-আমারও সেই অধিকার। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সংখ্যালঘু বলে আপনারা নিজেদের দুর্বল ভাববেন না। এদেশে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প তারাই ছড়ায়, যারা আবহমান কাল থেকে এদেশে চর্চিত সম্প্রীতির বীজতলা নষ্ট করতে চায়। কৃত্রিম সমস্যা তৈরি করে সাম্প্রদায়িক দূরত্ব বাড়িয়ে দিতে চায়। আমাদের বরাবরের মতো সতর্ক থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, সাম্প্রদায়িক অপশক্তি দুর্বল হয়েছে কিন্তু নির্মূল হয়নি। তাদের শব্দহীনতা কিংবা আড়ালে থাকা শক্তি সঞ্চয়ের কৌশলও হতে পারে। এ সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে মিথ্যাচার বা উস্কানিমূলক পোস্ট না দেয়ার জন্য ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, যে ধর্মের অনুসারীই আমরা হই না কেন, প্রকৃত ধর্মানুশীলন মানুষের আত্মার শক্তিকে জাগিয়ে তোলে। ধর্মচর্চা মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে। অপরাধ এবং চিত্ত ও বিত্তের নেতিবাচক ভাবনা থেকে সুরক্ষা দেয়। তাই আমি অপরাধ থেকে সুরক্ষা পেতে আত্মিক শক্তি জোরদারে নিজ নিজ ধর্মের মূলবাণী পাঠ ও চর্চার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি এবং ধর্ম নিয়ে যারা বাড়াবাড়ি করে, তাদের সম্পর্কে সচেতন থাকতে।
অন্যদিকে গতকাল রোববার বেলা ১১টায় কোম্পানীগঞ্জ শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দির কমপ্লেক্সে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে শুভেচ্ছা মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সেতুমন্ত্রী। সেখানে সম্প্রতি নোয়াখালীতে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন ওবায়দুল কাদের। এসব ঘটনায় তিনি লজ্জিত। তবে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের সঙ্গে যদি আওয়ামী লীগ অথবা অঙ্গসংগঠনের কেউ জড়িত থাকে তাহলে তাদের ছাড় দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনকারীদের দল থেকে শুধু বের করে দেয়াই হবে না তাদের জন্য আওয়ামী লীগের দরজা চিরতরে বন্ধ করে দেয়া হবে। মন্ত্রী বলেন, নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জের কবিরহাট অঞ্চলের মানুষ শান্তিপ্রিয়। আমাদের সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কেউ যেন বিনষ্ট করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি মিলন কান্তি মজুমদারের সভাপতিত্বে পূজা উদযাপন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক কমলকান্তি মজুমদারের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউল হক মীর, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত খান, সাধারণ সম্পাদক নুরনবী চৌধুরী, পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক রণজিৎ কর্মকার, শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দিরের সভাপতি নির্মল চন্দ্র দে ও সাধারণ সম্পাদক দীপক সূত্রধর।