বন্ধু তুমি, শত্রু তুমি

0
340

স্পোর্টস ডেস্কঃ

শেখ আল মুমিন শুভ : একজন ফুটবল খেলোয়াডের মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে ক্লাব ফুটবল। একজন খেলোয়াড় ক্লাবের হয়ে বিভিন্ন দেশের অনেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লিগসহ অন্যান্য প্রতিযোগিতায় বিরতিহীনভাবে মৌসুমের পর মৌসুম খেলে থাকেন। কিন্তু ক্লাবের জার্সি খুলে যখন কেউ নিজের দেশের জার্সি পরে নেয়, তখন তার মন, প্রাণ, ধ্যান একটাই লক্ষ্য থাকে- যে কোনো মূল্যে নিজের দেশের পতাকা সর্বদা বিজয়ের কাতারে রাখা।

এহেন পরিস্থিতিতে বিপক্ষে দলে যেই খেলুক না কেন এবং ক্লাব ফুটবলের সুবাদে তার সঙ্গে যতই প্রাণের সম্পর্ক থাকুক না কেন, সকল সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। সারা বছরের ট্রেনিং, খেলা, আড্ডা, সফর করা, সবকিছু ভুলে গিয়ে তখন সবার মাথায় একটাই লক্ষ্য থাকে- নিজের দেশকে জেতাতে হলে বল নিয়ে এগিয়ে আসা সামনের মানুষটাকে যে কোনো মূল্যে রুখে দিতে হবে।

দরজায় কড়া নাড়ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। আগামী ১৪ জুন রাশিয়ায় পর্দা উঠছে ‘গ্রেটেস্ট শো অন দ্য আর্থ’ হিসেবে পরিচিত ফুটবল বিশ্বকাপের ২১তম আসরের। বিশ্বকাপে এমনিতেই প্রতিটি ম্যাচে দলগুলো নিজেদের সর্বোচ্চটুকু খেলে থাকে। তার মধ্যেও প্রথম ধাপে অর্থাৎ গ্রুপপর্বের ৪৮টি ম্যাচের মধ্যে কয়েকটা ম্যাচ আছে উত্তেজনার বারুদে ঠাসা। কারণ, এসব ম্যাচের সময় মাঠে থাকবেন বিশ্বের নামকরা অনেক ক্লাবের তারকা খেলোয়াড়। যাদের মাঠে খেলতে দেখা চোখের সার্থকতা।

■ এবারের বিশ্বকাপের দ্বিতীয় দিনেই মুখোমুখি হবে ‘বি’ গ্রুপের দুই দল ইউরোপিয়ান জায়ান্ট স্পেন ও পর্তুগাল। তারকা ভরপুর এই ম্যাচে মূল পাদপ্রদীপের আলো থাকবে দুই দলের অধিনায়ক সার্জিও রামোস ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ওপর। কারণ, দুজনেই বিশ্বসেরা ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের প্রাণভোমরা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এর আগে মাত্র একবারই মুখোমুখি হয়েছে এই দুই দল। ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের সেই সাক্ষাতে ডেভিড ভিয়ার একমাত্র গোলে জিতেছিল স্পেন। রামোস ও রোনালদো দুজনেই একে অপরের মুখোমুখি হয়েছেন তিনবার। ২০১০ সালে প্রীতি ম্যাচে রোনালদো গোলও করেছিলেন এবং পর্তুগাল ম্যাচও জিতেছিল। কিন্তু ২০১০ বিশ্বকাপ ও ২০১২ ইউরো- দুই ম্যাচেই রোনালদোকে গোলবঞ্চিত রাখতে সক্ষম হয়, সঙ্গে ম্যাচও জিতে নেয় রামোসের স্পেন। বয়স হিসাবে রোনালদো (৩৩) ও রামোস (৩২) দুজনেরই এটা শেষ বিশ্বকাপ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। দেখা যাক সম্ভাব্য বিদায়ী সাক্ষাতে শেষ হাসি কার মুখে থাকে, রোনালদো নাকি রামোসের।

■ গ্রুপ পর্বের আরেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হচ্ছে ২১ জুনের আর্জেন্টিনা বনাম ক্রোয়েশিয়া। এক দলে আছেন মডরিচ, রাকিটিচ, মানজুকিচ; তো অন্য দলে আছেন মেসি, ডি মারিয়া, আগুয়েরোর মতো তারকা খেলোয়াড়। বিশ্বকাপের অন্যতম হাইভোল্টেজ ম্যাচ বলা হচ্ছে এটিকে। এত তারকার মধ্যেও সবার দৃষ্টি থাকবে দুই বার্সেলোনা সতীর্থ মেসি ও রাকিটিচের ওপর। দুজনেই বার্সেলোনার হয়ে জিতেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগ, লা লিগা, কোপা দেল রেসহ আরো অনেক শিরোপা। কিন্তু এখন চিত্র ভিন্ন। এখন একে অন্যের বিপক্ষে খেলবেন নিজের দেশকে জেতানোর জন্য। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এর আগে মাত্র একবারই এই দুই দল মুখোমুখি হয়েছে। ১৯৯৮ ফ্রান্স বিশ্বকাপে পিনেদার একমাত্র গোলে ক্রোয়েশিয়াকে হারায় আর্জেন্টিনা। একই ক্লাবে খেলার সুবাদে একে অন্যের দক্ষতা ও দুর্বলতা নিশ্চয়ই জানেন মেসি, রাকিটিচ। একে অপরের বিপক্ষে মুখোমুখি হতে যাওয়া প্রথম ম্যাচে শেষ পর্যন্ত কার মুখে হাসি থাকে, সেটিই এখন দেখার।

■ এ ছাড়া ২৩ জুন জার্মানির ক্লাব আরবি লিপজিগের দুই সতীর্থ টিমো ভের্নার (জার্মানি) ও এমিল ফর্সবার্গ (সুইডেন), ২৪ জুন জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখের দুই সতীর্থ রবার্ট লেভানডফস্কি (পোল্যান্ড) ও হামেস রদ্রিগেজ (কলম্বিয়া) এবং ২৮ জুন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটির দুই সতীর্থ রাহিম স্টার্লিং (ইংল্যান্ড) ও কেভিন ডি ব্রুইন (বেলজিয়াম) ক্লাব ফুটবলের মায়া ছিন্ন করে নিজের ক্লাব সতীর্থের বিপক্ষে লড়াইয়ে মেতে উঠবেন নিজের দেশের জন্য।