বঙ্গোপসাগরে ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধের ঘোষনায় শরণখোলাসহ উপকুলীয় জেলে সম্প্রদায়ে হতাশা ও ক্ষোভ

0
691
sdr

শেখ মোহাম্মদ আলী, শরণখোলা :
মৌসুমের শুরুতে বঙ্গোপসাগরে ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধের ঘোষনায় শরণখোলাসহ উপকুলীয় জেলে সম্প্রদায়ে হতাশা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে দাদন নিয়ে জেলেদের ফিসিং বোট ও জাল মেরামত করে যখন সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক এমন সময়ে মৎস্য ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রনালয়ের ২০ মে থেকে ২৩ মে জুলাই পর্যন্ত সাগরে সব ধরণের মাছ ধরা সম্পূর্নভাবে নিষেধাজ্ঞার প্রজ্ঞাপন জারি করায় জেলে ও মৎস্যজীবিরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
শরণখোলা উপজেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম কালাম ও শরণখোলা উপজেলা মৎসজীবি সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন এবং বরগুনা জেলা ফিশিং ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আঃ মান্নান ও সাধারন সম্পাদক দুলাল মাস্টার জানান, ৬৫টি দিন মাছধরা বন্ধের সরকারের একটি আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত। হঠাৎ এরকম সিদ্ধান্তে উপকুলের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের জলসীমায় ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা দিলেও পাশের দেশ ভারতের জেলেদের কিন্তু সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকবেনা। আমাদের দেশের অবরোধের সুবিধাটা তারাই ভোগ করবে। এমনিতেই তারা বঙ্গোপসাগরে আমাদের জলসীমায় অবৈধভাবে প্রবশে করে সারা বছরই মৎস্য আহরণ করছে। আর এই অবরোধের সুযোগে ভারতীয় জেলেরা অত্যাধুনিক ট্রলিং ট্রলার দিয়ে আমাদের ইলিশ ছেঁকে নিয়ে যাবে তা কোনোভাবেই ঠেকানো সম্ভব হবেনা। তাই জেলে সম্প্রদায়ের জীবন-জীবীকার কথা ভেবে সরকারকে বিষয়টি পুনঃ বিবেচনা করার দাবী জানান নেতৃবৃন্দ। সরকারের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবী জানিয়ে গত ২৮ এপ্রিল বরগুনায় উপকুলের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার অন্ততঃ ১৫ হাজার জেলেদের উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবীতে বড় ধরনের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়েছে। শেষে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে লিখিত স্মারকলিপি বরগুনা জেলা প্রশাসকের কাছে হস্তান্তর করেছে জেলে সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও উপকুলের বিভিন্ন স্থানে একই দাবীতে একাধিক কর্মসুচী পালিত হয়েছে। এসব কর্মসুচীতে জেলে পরিবারের হাজার নারী পুরুষ অংশগ্রহন করেছে।

বাগেরহাট জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন বলেন, একটি ট্রলার সাগরে মাছ ধরার উপযোগী করে পাঠানোর জন্য প্রত্যেক মহাজন ইতোমধ্যে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। এমন সময় সরকারের জেলে বিরোধী ঘোষনায় সবাই হতাশ হয়েছে। লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে হতাশ হয়ে পড়েছেন ট্রলার মালিক ও মহাজনরা। ইলিশ আহরণের মৌসুম হিসেবে ১৫ বৈশাখ থেকেই জেলেদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় বঙ্গোপসাগরে। কিন্তু এবছর তাদের সেই আশা শঙ্কায় পরিনত হয়েছে। বুক ভরা হতাশা নিয়ে ফিসিংবোট ঘাটে অপেক্ষা করছেন শত শত জেলে। মৌসুমের শুরুতেই অবরোধ ঘোষনা করায় ফুসে উঠেছে উপকূলসহ বঙ্গোপসাগর কেন্দ্রিক মৎস্য আহরণকারী সারা দেশের জেলে সম্প্রদায়।
এ বিষয়ে মৎস্য বিভাগের খুলনা অঞ্চলের উপ-পরিচালক রনজিৎ কুমার পাল বলেন, এর পূর্বে প্রতি বছর সাগরে ট্রলিং ট্রলারের ক্ষেত্রে মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। এবারে যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক সকল নৌযান এ নিষিদ্ধের আওতায় এসেছে। এ সময়টায় অধিকাংশ মাছ ডিম ছাড়ে। এ কারনেই সরকার এধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া, মা ইলিশ রক্ষায় অক্টোবরের শেষ থেকে ২২ দিনের অবরোধ কার্যকর থাকবে বলে তিনি জানান।