বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সাবেক মৎস মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি’র স্মৃতিচারণ

0
453

সুমন আশিক:
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (বাকশাল) করেছিল সঠিক ব্যাক্তিকে মনোনয়নপূর্বক নির্বাচিত করতে। সেখানে সব শ্রেণী পেশার মানুষকে রাখা হয়েছিল। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সেনাবাহিনীসহ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা বাকশালের সদস্য ছিলেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সেনাবাহিনীসহ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা মতমত প্রদান করতে পারতো, তবে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতো পারতো না। নির্বাচনে অংশ নিতে হলে চাকরি হতে অব্যাহতির তিন বছর পর সেই সুযোগ রাখা হয়েছিল। এখনও সেই নিয়মে সরকারি ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনে অংশ নেয়। এক্ষেত্রে জাতির পিতার দূরদর্শিতা সত্যিই প্রশংসনীয়। এরকম অনেক ক্ষেত্রেই বঙ্গবন্ধু তার দূরদর্শিতার নজির রেখেছেন।
সাবেক মৎস মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দ খুলনাটাইমস’র সাথে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন। আওয়ামী মৎসজীবী লীগের প্রতিষ্টাতা সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র চন্দ আরও বলেন, বাকশালের কারণে পৃথক স্থানে মিটিং করার সুযোগ ছিল না। পার্টির সদস্যরা এবং অন্যরা একই স্থানে মিটিং করতো এবং সেখানে সবার মতামত নিয়ে সঠিক ব্যাক্তিকে মনোনয়ন দেয়া হতো। তখন এতে করে যোগ্যতাসম্পন্ন সঠিক ব্যাক্তি মনোনয়ন পেতো। এখন অনেক ক্ষেত্রে দলীয় মনোনয়ন ভুল ব্যাক্তিকে দেয়া হয়। তবে বাকশালের এই ভুলের কোন সুযোগ ছিল না। আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকে বাকশাল নিয়ে কথা বলতে চায় না। তবে এটি ঠিক নয়। বঙ্গবন্ধু কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাকশাল কেন করা হয়েছিল? তার সুস্পষ্ট ও সঠিক তথ্য জনসাধারণের মাঝে তুলে ধরতে হবে।
নারায়ণ চন্দ্র চন্দ স্মৃতিচারণ করে বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে খুলনার চুকনগর কলেজ মাঠে সমাবেশ করেন। তখন মঞ্চ ছিল না। সাধারণত টেবিল চেয়ার বসিয়ে সভা-সমাবেশ করা হতো। তেমনি সেদিন চুকনগর কলেজ মাঠে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। তখন আমার বয়স আনুমানিক ২৫ এবং একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে ছিলাম। বঙ্গবন্ধুর মতোন প্রভাবশালী নেতার পাশে বসতে অনেকেই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছিল। তখন অনেকেই আমাকে বঙ্গবন্ধুর পাশে বসতে বলেন।
তার পাশে বসতে কিছুটা অস্থিরতা ছিল আমার মধ্যে। আলোচনার এক ফাঁকে বঙ্গবন্ধু আমার ঘাড়ে হাত রেখে প্রশ্ন করেন, ‘তোর নাম কি এবং কি করিস?’ প্রত্যুত্তরে আমি জানালাম শিক্ষকতা করি। এতে বঙ্গবন্ধু ভীষণ খুশি হয়। এবং আমাকে বলেন, তোদের মতোন শিক্ষিত ছেলে প্রয়োজন আওয়ামী লীগের রাজনীতির জন্য। এরপর বঙ্গবন্ধু আমাকে একে একে ডুমুরিয়া এলাকার অনেকের খোঁজ-খবর নেন। এতে আমি খানিকটা হবাই হই। এতো মানুষের নাম তার অকপটে বলা। তবে এক্ষেত্রে তার স্মৃতিশক্তিটা যে প্রখর, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এসময় বঙ্গবন্ধু তাকে জানান, তিনি ডুমুরিয়া মাছ বাজারে এর আগে মিটিং করেছেন। বঙ্গবন্ধুর ছোঁয়ার সেদিন থেকে আদর্শ অনুকরণ করে চলেছি। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত থাকবো। তাঁরই আদর্শের উজ্জ্বল নক্ষত্র বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে থেকে সোনার বাংলা গড়ার কাজে নিয়োজিত থাকবো।
সর্বশেষ এই প্রবীণ রাজনীতিক নারায়ণ চন্দ্র স্মৃতিচারণে বলেন, এর অনেকদিন পর বঙ্গবন্ধু বৃহত্তর খুলনা থেকে কতিপয় ব্যাক্তিকে নির্বাচন করেন, যারা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পণ্য সংগ্রহপূর্বক জনগণের মাঝে পৌছে দেয়ার সেবায় নিয়োজিত থাকবেন। সেখানে তিনি আমার নামটি অন্তর্ভূক্তি করেছিলেন। এক প্রশ্নে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে আওয়ামী লীগ এর সঠিক ইতিহাস জানতে হবে, পড়তে বঙ্গবন্ধুর লেখা অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা। তবেই দেশপ্রেম উদ্বুদ্ধ হয়ে সোনার বাংলা গড়ার মনোনিবেশ আসবে। বাংলাদেশ হবে মডেল, এগিয়ে যাবার, বিশ্ববাসীর কাছে।